মেহেরপুরে তিনফসলি জমিতে ইটভাটা নির্মাণ
টপ নিউজ মেহেরপুর

মেহেরপুরে তিনফসলি জমিতে ইটভাটা নির্মাণ

সবার সংবাদ ডেস্ক:

মেহেরপুর মুজিবনগর উপজেলার মোনাখালি গ্রামের উত্তরপাড়া আমদহ সড়কের পাশে তিন ফসলি জমিতে অনুমোদন ছাড়াই ফসল উজার করে ইটভাটা নির্মাণের কাজ চলছে। ইতিমধ্যে মাটির স্তুপ ও ইটে গাথুনি দিয়েছে ভাটার মালিক। জমির চলমান চাষ, উপরে পাকা সড়ক লাগোয়া ফসলি জমিতে এই ভাটার নির্মাণ কাজ এগিয়ে চলেছে। আশপাশের জমিতে এখনো আমন ধান রয়েছে।

মাত্র ৫শ গজের মধ্যে রয়েছে ঘনবসতি, খেলার মাঠ, মসজিদ। এছাড়াও একই মালিকের আরও একটি ইটভাটা পাশেই আছে। সেটিও চলছে অবৈধভাবে। এভাবে একটির পর একটি ইটভাটা নির্মাণের ফলে হুমকির মুখে পড়েছে ওই এলাকার চাষাবাদ। ভাটা নির্মাণকারীরা প্রভাবশালী হওয়ায় মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেনা ক্ষতির শিকার আশে পাশের জমির মালিকরা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ইট ভাটাটি নির্মাণ করছে মোনাখালী গ্রামের লাবলু মিয়া ও মেহেরপুর শহরের কোর্টপাড়ার আলী আকবর নামে দু ব্যক্তি। ইটভাটা নির্মাণের বিষয়ে লাবলু মিয়া বলেন, মেহেরপুরে কোন ইটভাটার কাগজপত্র ঠিক নেই। সবাই যেভাবে ম্যানেজ করে চলছে আমিও সেভাবে চলবো।

পরিবেশ অধিদপ্তর স‚ত্রে জানা গেছে, কোনো ব্যক্তি ভাটা নির্মাণ করতে চাইলে তাঁকে প্রথমে অবস্থানগত ছাড়পত্র ও পরিবেশগত ছাড়পত্র নিতে হয়। অবস্থানগত ছাড়পত্র পাওয়ার আগে ওই জমিতে কোনো ধরনের অবকাঠামো নির্মাণ করার সুযোগ নেই। এছাড়াও প্রয়োজন জেলা প্রশাসকের অনুমোদন। তার কোনটিই নেই নির্মাণাধীন ইট ভাটার। কুষ্টিয়া আঞ্চলিক পরিবেশ অধিদপ্তরের দাবি, তিন ফসলি জমিতে ভাটা নির্মাণের জন্য অবস্থানগত ছাড়পত্র দেওয়ার বিধান নেই। এ রকম ঘটনা যদি কোন অঞ্চলে হয়ে থাকে, তবে নির্মাণ কাজ তাৎক্ষণিক বন্ধ করার জন্য ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের মেহেরপুর-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক অফিসের সিনিয়র কেমিস্ট হাবিবুল বাসার বলেন, এভাবে ইটভাটা নির্মাণের কোন সুযোগ নেই। কোন জমিতে ইটভাটা নির্মাণের আগে তাকে বেশ কয়েক জায়গা থেকে ছাড়পত্র নিতে হয়। সেগুলো না নিলে সেটি অবৈধ বলে গন্য হবে।

মুজিবনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনিমেষ বিশ্বাস বলেন, আমরা খোঁজ নিয়ে দেখছি। তবে এ ধরনের ইটভাটা বন্ধ করতে আমাদের অনেক চাপ সহ্য করতে হয়। বিভিন্ন নেতা ও সাংবাদিকদের ফোনে অতিষ্ঠ হয়ে যায়। বন্ধ করলে আবার পরের দিন চালু হয়ে যায়।