কুষ্টিয়া প্রতিনিধি:
কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান অনুষ্ঠিতব্য জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নিজ দলের সমর্থন পেয়েছেন। এ পদে অংশ নিতে প্রস্তুত ছিলেন দলের একাধিক নেতা। তবে সদর উদ্দিন খান দলীয় সমর্থন পাওয়ায় দলীয় নেতারা নিজেদের অবস্থান থেকে সরে এসেছেন। এরই মধ্যে দলের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছেন তাঁরা। তবে গতবারের ন্যায় এবারও চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছেন মহাজোটের অন্যতম শরীক জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদের কুষ্টিয়া জেলা শাখার সভাপতি গোলাম মহাসীন। সদর উদ্দিন খানের ‘পথের কাঁটা’ হচ্ছেন গোলাম মহাসীন। তিনি চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী না হলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতেন বর্তমান জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান। আগামী ১৭ অক্টোবর কুষ্টিয়া জেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনে এই জেলায় চেয়ারম্যান পদে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের বিপক্ষে অন্য কোনো রাজনৈতিক সংগঠন প্রার্থী না দিলেও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী দিয়েছেন। এই নিয়ে জেলায় দুই দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে পক্ষে-বিপক্ষে চলছে নানান আলোচনা-সমালোচনা। ভোটের মাঠে কেউ কাউকে ছাড় না দিতেও কথায় হংকার দিচ্ছেন তাঁরা। তবে এখন পর্যন্ত জেলা পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
এ ব্যাপারে কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী সদর উদ্দিন খান বলেন, জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। এ ক্ষেত্রে জাসদের চেয়ারম্যান পদ-প্রার্থীকে পথের কাঁটা একেবারেই মনে করছেন না। সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন তিনি। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) কুষ্টিয়া জেলা শাখার সভাপতি গোলাম মহাসীন বলেন, নিজের কোন চাওয়া পাওয়া নেই। নির্বাচিত হলে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে দুর্নীতিমুক্ত জেলা পরিষদ গড়ে তুলবো। তবে মানুষের জন্য কাজ করবো।
এ ব্যাপারে কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী বলেন, মহাজোটের অন্যতম শরীক জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ। এ নির্বাচনে তাদের প্রার্থী দেয়া উচিত হয়নি বলেও জানান তিনি। তিনি আরও বলেন,‘আমরা শেখ হাসিনার কর্মী। দলের মধ্যে থেকে আমরা অনেকেই মনোনয়ন চেয়েছিলাম। নেত্রীর সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়ার অবকাশ নাই। আমরা দলীয় সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করব। তাকে বিজয়ী করতে সর্ব্বোচ চেষ্টা করব। আমরা সকলই ঐক্যবদ্ধ রয়েছি।
কুষ্টিয়া জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো: ফজলুল করিম জানান, জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে চারজন মনোনয়ন পত্র ক্রয় করলেও শেষ পর্যন্ত দুজন মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন। এছাড়াও সাধারণ সদস্য পদে ৩২ জন এবং সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে ১১ জন প্রার্থী মনোনয়ন পত্র দাখিল করেছেন।
জেলার ছয়টি উপজেলায় ৯'শত ৪২জন ভোটার রয়েছেন। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৫ সেপ্টেম্বর ও প্রতীক বরাদ্দ হবে ২৬ সেপ্টেম্বর। সুস্থ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহণ চলবে ১৭ অক্টোবর।







