সবার সংবাদ ডেস্ক:
“খোকন ভাই খোকন ভাই, তোমাকে আবারো গাংনীবাসি এমপি হিসেবে দেখতে চাই” স্থানীয় এমপিকে নিয়ে এমন গুনকীর্তনমূলন গান পরিবেশন করায় শিল্পীকে পেটানোর অভিযোগ উঠেছে গাংনী উপজেলার সাহারবাটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তৌহিদ মোর্শেদ আতুলের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটে ২৩ ফেব্রুয়ারি রাতে উপজেলার সাহারবাটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় চত্তরে মহান আন্তজার্তিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতি অনুষ্ঠানে।
মেহেরপুর-২ (গাংনী) আসনের সংসদ সদস্য মো: সাহিদুজ্জামান খোকনকে নিয়ে গান পরিবেশন করায় কণ্ঠশিল্পী সাইফুল ইসলাম (৪৫) কে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ সাহারবাটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তৌহিদ মূর্শেদ অতুলের বিরুদ্ধে। কন্ঠ শিল্পি সাইফুল ইসলাম সাহারবাটি গ্রামের আব্দুল কারিগরের ছেলে। সাহারবাটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তৌহিদ মূর্শেদ অতুল গাংনী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো: মোখলেছুর রহমান মুকুলের ঘনিষ্ঠ ও সাবেক জেলা পরিষদের সদস্য।
কন্ঠশিল্পি সাইফুল ইসলাম জানান- সাহারবাটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় চত্তরে মহান মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য ও গাংনী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো: সাহিদুজ্জামান খোকন ও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারনণ সম্পাদক মো: মোখলেছুর রহমান মুকুল। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সাহারবাটি গ্রামের বাসিন্দা ও মেহেরপুর সরকারী কলেজের সহযোগি অধ্যাপক আল আমিন হোসেন ধুমকেতু।
অনুষ্ঠানে “খোকন ভাই খোকন ভাই তোমাকে আবারো গাংনীবাসি এমপি হিসেবে দেখতে চাই” এই গান শুরু করার পরপরই গাংনী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো: মোখলেছুর রহমান মুকুল অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করে সেখান থেকে চলে যান। এরপর গান শেষ করে মঞ্চ থেকে নেমে যাওয়ার পরপরই এমপিকে গান করার অপরাধে সাহারবাটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তৌহিদ মূর্শেদ অতুল সহ তার সহযোগীরা তাকে বেধড়ক পেটাতে থাকে। এতে তিনি শারীরকভাবে আহত হন।
এ ঘটনায় আইনগত কোন ব্যবস্থা নিয়েছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওরা এলাকার প্রভাবশালী। তাই ভয়ে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সাহস হয়নি। তিনি আরো বলেন, গরীব মানুষ ভ্যান রিকসা আর শ্রমবিক্রি করে সংসার চালায়। তাই বিচার মহান আল্লাহর উপর ছেড়ে দিয়েছি। তিনি ক্ষোভর সাথে বলেন- আমিও আওয়ামী লীগ করি। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি আওয়ামী লীগের এমপিকে নিয়ে গান গেয়ে কি অপরাধ করলাম। যে কারণে অনুষ্ঠানের সভাপতি ও আয়োজকরা দলবল নিয়ে আমাকে এভাবে হেনস্থা করল।
এ বিষয়ে সাহারবাটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তৌহিদ মূর্শেদ অতুল এবং গাংনী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো: মোখলেছুর রহমান মুকুলের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের বক্তব্য নেওয়া পাওয়া যায়নি।
অনুষ্ঠানে সভাপতি মেহেরপুর সরকারী কলেজের সহযোগি অধ্যাপক আল আমিন হোসেন ধুমকেতু বলেন- অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার কথা ছিল মোদের গরব, মোদের আশা আ-মরি বাংলা ভাষা গানটি দিয়ে। কিন্তু সাইফুল স্থানীয় সংসদ সদস্যকে নিয়ে গান গেলে অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি কিছুটা রাগন্বিত হয়ে মঞ্চ ছেড়ে উঠে চলে যান। তখন আমি সাইফুলকে বিশেষ অতিথির কাছে ক্ষমা চেয়ে অনুষ্ঠানে ফিরিয়ে আনতে বলি। কিন্তু দলীয় কোন্দোলের কারণে উত্তেজিত জনতা সাইফুলকে মারধর করে। আমি তাকে মারিনি বরং অন্যদের হাত থেকে বাঁচিয়েছি।
এ বিষয়ে সংসদ সদস্য মো: সাহিদুজ্জামান খোকন বলেন, এই ব্যাপারে আমার কিছু জানা নাই। তাই কোন মন্তব্য করতে পারব না।
গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এই ব্যাপারে কোন অভিযোগ আমরা পাইনি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
এ ব্যাপারে কথা বলতে গেলে প্রত্যক্ষদর্শী সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ফারুক এক কথাতে নির্যাতিত কন্ঠ শিল্পী সাইফুল ইসলামের কথা সত্য বলে মেনে নিয়ে বলেন- অনুষ্ঠানটা একটু পরিবার কেন্দ্রীক হয়ে যাওয়াতেই যত সমস্যা। এর বাইরে নিজে কোন কথা বলতে রাজি হননি তিনি। তবে নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক একজন আওয়ামী লীগ নেতা বললেন- সামনে দলের কমিটি গঠন হবে। তাই কেউ কিছু বলতে চাচ্ছে না।







