গাংনীতে ভুল চিকিৎসায় গরুর মৃত্যুর অভিযোগ
টপ নিউজ মেহেরপুর

গাংনীতে ভুল চিকিৎসায় গরুর মৃত্যুর অভিযোগ

সবার সংবাদ প্রতিবেদক:

একটি মাত্র গরু ছিল তার একমাত্র সম্বল, যা দিয়ে একটু সচ্ছলতার স্বপ্ন দেখতেন ভ্যানচালক নাজমুল হোসেন। তিল তিল করে জমানো স্বপ্ন গ্রাম্য চিকিৎসকের ‘ভুল চিকিৎসায়’ চোখের নিমিষেই এখন চিরতরে বিলীন। মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার হিন্দা গ্রামে ভুল চিকিৎসায় গরুর মৃত্যু হয়েছে এমনই অভিযোগ নাজমুল হোসেনের।

রবিবার সকাল ৮টার দিকে হিন্দা গ্রামের পশ্চিম পাড়ায় এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। ভুক্তভোগী নাজমুল হোসেন জানান, গ্রাম্য পশু চিকিৎসক আকতারুল ইসলাম সকালে তার বাড়িতে আসেন। তিনি পরামর্শ দেন যে, গরুর বসন্ত রোগ নিরাময়ের জন্য একটি নতুন ও অত্যন্ত কার্যকর ভ্যাকসিন এসেছে, যা দিলে গরুর আর কোনোদিন বসন্ত হবে না। সরল বিশ্বাসে নাজমুল তার একমাত্র এঁড়ে গরুটিকে ভ্যাকসিন দিতে রাজি হন। কিন্তু ভ্যাকসিন পুশ করার মাত্র ১০ মিনিটের মাথায় গরুর পেট ফুলতে শুরু করে এবং তীব্র ছটফটানি নিয়ে চোখের সামনেই গরুটি মারা যায়। 

নাজমুল আরও জানান, আমি ভ্যান চালিয়ে অল্প অল্প করে টাকা জমিয়ে ও বাড়ির একটি ছাগল বিক্রি করে এই গরুটা ৫০ হাজার টাকা দিয়ে কিনেছিলাম। ইনজেকশন দেওয়ার আগেও ডাক্তারকে জিজ্ঞাসা করেছি কোন সমস্যা হবে কি না। কিন্তু ইনজেকশন দেওয়ার দশ মিনিটের মাথায় গরুর পেট ফুলে গরু মারা গেলো।  

প্রিয় অবলা প্রাণটিকে হারিয়ে এখন পাগলপ্রায় ভ্যানচালক নাজমুল। ক্ষুব্ধ ও শোকার্ত নাজমুল হোসেন এর প্রতিকার ও বিচার চাইতে সকালেই মৃত গরুটিকে ভ্যানে নিয়ে সশরীরে হাজির হন গাংনী থানায়। 

খবর পেয়ে গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাদ্দিস মোর্শেদ চৌধুরী তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি আমলে নেন এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের জন্য মৃত গরুটিকে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ওসি জানান, ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের ময়নাতদন্ত ও সুরতহাল প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। 

এদিকে ঘটনার পর অভিযুক্ত গ্রাম্য চিকিৎসক আকতারুল ইসলামের বক্তব্য নিতে সাংবাদিকরা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে গেলে এক নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়েই কৌশলে সেখান থেকে সটকে পড়েন অভিযুক্ত আক্তারুল।

 এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (ভেটেরিনারি সার্জন) আরিফুল ইসলাম বলেন, সাধারণত এলবিএস ভ্যাকসিন দেওয়ার কারণে কোনো গরুর মৃত্যু হওয়ার কথা নয়। তবে এই নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে কেন এমনটা ঘটলো, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে গরুর সুরতহাল ও প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হবে। ল্যাব রিপোর্টের হাতে পেলেই মৃত্যুর আসল রহস্য উন্মোচিত হবে। 

একমাত্র উপার্জনের মাধ্যম হারিয়ে ভ্যানচালক নাজমুলের কান্না এখন হিন্দা গ্রামের বাতাসকে ভারী করে তুলেছে। এলাকাবাসী এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং চিকিৎসকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।