সবার সংবাদ ডেস্ক:
মেহেরপুরের গাংনীতে অবৈধভাবে তেঁতুলবাড়ীয়া ইউপি চেয়ারম্যান নাজমুল হুদা বিশ্বাসের বিরুদ্ধে সরকারী খাল জবরদখলে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর কথা, চেয়ারম্যানের খুঁটির জোর কাথায়! মেহরপুরের গাংনী উপজেলার ২ নম্বর তেঁতুলবাড়ীয়া ইউপির চেয়ারম্যান নাজমুল হুদা বিশ্বাস পঁচু অনিয়ম, দুর্নীতি , স্বজনপ্রীতি ও স্বছাচারিতা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, দুর্নীতিবাজ চেয়ারম্যান নাজমুল হুদা বিশ্বাসের বিরুদ্ধ কর্মসৃজন প্রকল্পে অনিয়ম, এলজিএসপি প্রকল্পে অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় একাধিক নিউজ প্রকাশিত হয়েছে। নাজমুল হুদা চেয়ারম্যান হওয়ার পর থেকে ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ পরিচালনা করে আসছেন।
টিআর, কাবিখা, কাবিটা, এডিপি, এলজিএসপি, হাল্ডিং ট্যাক্স ও কর্মসৃজন প্রকল্পের অর্থ পরিষদের সদস্যদের সাথে আলাপ আলোচনা না করে নিজের মনগড়া ভূয়া প্রকল্প তৈরী করে নিজের অনুগত দুই একজনের মাধ্যমে দুর্নীতি স্বজনপ্রীতি ও লুটপাট করে ইউপি সদস্যদের মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে রেজুলেশন খাতায় স্বাক্ষর করিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে।
পরিষদের নিবার্চনের ৩০ কার্য দিবসের মধ্যে প্যালেন চেয়ারম্যান গঠন ও ১৩টি স্ট্যান্ডিং কমিটি গঠনের নির্দেশনা থাকলেও ক্ষমতার দাপটে অদ্যাবধি তা মানা হয়নি। এছাড়াও ভিজিএফ এর চাল বিতরণের টোকন পদ্ধতিতে অনিয়ম করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে । নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জানান, এলজিএসপি প্রকল্পে মহিলা মেম্বরদের ভূয়া পিআইসি করে প্রকল্পের বরাদ্দকত অর্থ আত্মসাৎ করে আসছে। কেউ মুখ খুললেই তাকে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে ভয়ভীতি দেখানো হয়।
এছাড়াও পরিষদের নানাবিধি আয় যেমন হাল্ডিং ট্যাক্স, হাট বাজার ইজারা ও সরকারী রাজস্ব খাতের শতকরা ১ ভাগ অর্থ, নাগরিকত্ব সনদ, জন্ম সনদ, এনআইডির ভূল সংশোধন ইত্যাদি সনদে গহিত অর্থের হিসাব না দিয়ে পকটস্থল করারও অভিযোগ রয়েছে।
পরিষদের সমস্ত কাজের দায়িত্বে তার বড় ভাই সামসুল হুদা বিশ্বাসের উপর ন্যস্ত করে পরিষদের সচিব, মেম্বর ও উদ্যোক্তাদের জিম্মি করে রাখে। নাম প্রকাশে করমদি গ্রামের লোকজন জানান, কর্মসৃজন প্রকল্পে করমদি গ্রামের গরীব অসহায় দরিদ্র লেবারদের বাদ দিয়ে অন্য গ্রামের লোকজন নিয়ে কাজ করাচ্ছে। প্রতিবাদ জানাতে গেলে তাকে পরিষদ থেকে বের করে দেয়া হয়।
তেঁতুলবাড়ীয়া গ্রামের একাধিক লোক জানিয়েছেন, ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে গ্রামের ভিতর দিয়ে বয়ে যাওয়া খরস্রাতা ইছামতি নদীর প্রায় ৫০ বিঘা জমি অবৈধভাবে জবরদখল করে ধান চাষ করছে। মেহেরপুর জেলার রামদেবপুর মৌজার অÍন্তর্গত জেএল নং-১১এর ১ খতিয়ানভুক্ত ৬৫৭ নং দাগে (সর্বমাট ১৭টি দাগ) সর্বমাট ২৩ একর ৫৯ শতাংশ সরকারি জমি (শত শত বছর আগের প্রমত্তা নদী) জবরদখল করে আবাদ করছে।
তেঁতুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন ভুমি অফিসে ও গাংনী উপজলা ভূমি অফিসে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে ঐ জমি সরকারি সম্পত্তি। চেয়ারম্যানের বাবা প্রয়াত নূরুল হুদা বিশ্বাস সরকারের নিকট থেকে লিজ নিয়েছিলেন। পরবর্তী সরকারের নামে রেকর্ড হলে তার ছেলেরা সরকারের নামে রিট করে। সেই মামলা আজও চলমান। অথচ মামলায় রায় পাওয়ার কথা বলে এলাকাবাসীকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে তাদের নিজের জমি বলে জবরদখল করে আসছে।
নানা অনিয়ম ও দুর্নিতির বিরুদ্ধে বিশেষ করে ইছামতি নদীর প্রায় ৫০ বিঘা জমি অবৈধভাবে জবর দখল করার বিষয়ে আলাপকালে চেয়ারম্যানের বড় ভাই সামসুল হুদা বিশ্বাস জানান, আমরা সরকারের সাথে মামলা করে পক্ষে রায় পেয়েছি। প্রসঙ্গ ক্রমে তিনি এ ব্যাপার চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলার জন্য বলেন।
অভিযুক্ত চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলা হলে নাজমুল হুদা অভিযাগ অস্বীকার করে জানান, আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযাগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। তবে তিনি সাংবাদিকদের নিউজ না করতে অনুরাধ জানান।
গাংনী উপজলা নিবার্হী অফিসার জানান, আমি সরেজমিন তদন্ত করার ব্যাপারে একটি তদন্ত টিম করে দেবো। তদন্ততে দোষী প্রমাণিত হলে চয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।







