মেহেরপুরে স্বর্ণ চোরাচালান মামলায় সাবেক মেম্বার কারাগারে
আইন-আদালত মেহেরপুর

মেহেরপুরে স্বর্ণ চোরাচালান মামলায় সাবেক মেম্বার কারাগারে

সবার সংবাদ ডেস্ক:

মেহেরপুরে স্বর্ণ চোরাচালান মামলায় কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ইউপি সদস্য মজনু মেম্বারকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। সোমবার (২২ মে) হাইকোর্টের ৪ সপ্তাহের অন্তবর্তী জামিন শেষে মেহেরপুর জেলা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করলে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ রিপতি কুমার বিশ্বাস জামিন আবেদনের শুনানিতে তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। মনজুর রহমান মজনু মেহেরপুরের বহুল আলোচিত ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসের ৬টি স্বর্ণ বার উদ্ধার সংক্রান্ত জি আর ৩৫৭/২২ মামলার আসামী।

আসামীর পক্ষে জামিন শুনানিতে মেহেরপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আইনজীবী আব্দুস সালাম সহ একাধিক জ্যোষ্ট আইনজীবী অংশ নেন।

উল্লেখ্য স্বর্ণ চোরাচালান মামলার আসামী মেহেরপুর সদর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের শুভরাজপুর গ্রামের মঞ্জুর রহমান বিশ্বাস মজনু আগে আনসার বাহিনীতে চাকুরী করতো। চাকুরী করাকালীন সময়ে মাদক চোরাচালান কাজে জড়িত হয়ে পড়ার অভিযোগে ৯৯ সাল পরবর্তী সময়ে তার সরকারি চাকুরী চলে যায়। চাকুরী হারানোর পর সে স্বর্ণ চোরাচালান শুরু করে বলে গ্রামবাসীর অভিযোগ। তার আপন মামাতো ভাই কুষ্টিয়াতে স্বর্ণ চোরাচালানের সময় ধরা পড়ে। এছাড়া তার সহযোগী হিসেবে পরিচিত অনেকে বিভিন্ন স্থানে স্বর্ণ চোরাচালানে অভিযুক্ত হয়ে ধরা পড়লেও এতদিন এই মজুন মেম্বার ছিল ধরাছোঁয়ার বাইরে।

গত ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২ ভোরে  মেহেরপুর শহরের বড়বাজার শিবমন্দিরের কাছে দুইজন নারী পুরুষের রহস্যজনক চলাফেরা সন্দেহ হলে টহল পুলিশ কানিজ ফাতেমা লিপি (৩৯) ও মাসুদ রানা (২৪) কে আটক করে সদর থানায় নিয়ে যায়। একজনের বাড়ি ঢাকা নারায়ণগঞ্জ এবং অপরজনের বাড়ি ঢাকা মানিকগঞ্জ। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আটক দু'জন মেহেরপুরে আসার উদ্দেশ্য জানাতে গিয়ে স্বীকার করে তারা কুতুবপুর ইউনিয়নের মজনু মেম্বারের স্বর্ণের বার বহন করে তার কছে পৌঁছে দিতে মেহেরপুর গিয়েছে। পুলিশী জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তারা তাদের গোপন স্থান থেকে স্বর্ণের ৬টি বার বের করে দেয়। এই ঘটনার মধ্যদিয়ে স্বর্ণ ব্যবসায় মজনু মেম্বারের সরাসরি সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠে। 

প্রাথমিক তদন্ত শেষে মেহেরপুর সদর থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেছিলেন, একজন ইউপি সদস্যের মাধ্যমে স্বর্ণের চালানটি ভারতে পাচারের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ। পরে ৩ জনকে আসামী করে পুলিশ মামলার অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করে।

অভিযোগ রয়েছে, স্বর্ণ চোরাচালান ব্যবসার মাধ্যমে আনসার বাহিনীর সদস্য চাকুরী হারানো মজনু অর্থ দাপটে একাধিকবার ইউপি সদস্য হওয়ার পাশাপাশি মেহেরপুর শহরে যেমন কয়েক কোটি টাকার আলিশান বহুতল বাড়ি ও কোটি টাকার একাধিক জমির মালিক হয়েছেন। তেমনি কুতুবপুর ইউনিয়ন সহ আরও বিভিন্ন স্থানে তিনি আরও শত কোটি টাকার জমি কিনেছেন।