মেহেরপুর পুলিশ অভিযানে ১ কথিত সাংবাদিক সহ ৬ দুধর্ষ ডাকাত গ্রেপ্তার
টপ নিউজ জাতীয় সারাদেশ আইন-আদালত মেহেরপুর

মেহেরপুর পুলিশ অভিযানে ১ কথিত সাংবাদিক সহ ৬ দুধর্ষ ডাকাত গ্রেপ্তার

সবার সংবাদ ডেস্ক :  

মেহেরপুর প্রায়শ: ঘটছিল সড়ক ডাকাতির ঘটনা। এই সময় মেহেরপুর-কুষ্টিয়া সড়কের কিছু অংশ রাতের পথচারীদের জন্য অনেকটা অনিরাপদ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু পুলিশের কাছে ক্লু-লেস ছিল এসব ঘটনাগুলো। কারণ ডাকাতরা নিদিষ্ট মোবাইল ফোন ব্যবহার করতো না। একাধিক ফোনে ঘনঘন সিম পরিবর্তন করে ডাকাতরা এই সমস্ত অপরাধ কার্যক্রম পরিচালনা করতো। আবার অপরাধ সংঘটন শেষে নুন্যতম কোন ক্লু রেখে যেত না তারা। অবশেষে, মেহেরপুর পুলিশ সুপাররের নির্দেশনা এবং সরাসরি তত্তাবধানে পুলিশ তথ্য প্রযুক্তি ব্যাবহার করে ডাকাতদের গ্রেপ্তারে মাঠে নামে। একপর্যায়ে বিভিন্ন জেলা পুলিশের সহায়তা নিয়ে তথ্য যাঁচাই শেষে মেহেরপুর পুলিশ ডাকাত দলের মাষ্টারমাইন্ড সহ সন্দেহভাজন ৬ দুর্ধষ ডাকাতকে গ্রেপ্তার করে। এই সময় পুলিশ ডাকাতি কাজে ব্যবহৃত একটি পিকআপ ট্রাক সহ রামদা, ছোট ইলেক্ট্রিক করাত মেশিন সহ দেশিয় অস্ত্র এবং বিভিন্ন সরঞ্জাম আটক করেছে।

পুলিশ সুপারের নির্দেশে শনিবার রাতভোর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামিরুল ইসলাম ও গাংনী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুর রাজ্জাকের নেতৃত্বে জেলা ও থানা পুলিশের একাধিক টিম মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়ার জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, কুষ্টিয়ার খোকশা উপজেলার  শিমুলিয়া গ্রামের মৃত আলিফ উদ্দিনের ছেলে আলতাফ মন্ডল, কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আর মন্ডলের ছেলে সোহেল হোসেন, মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার যুগিন্দা গ্রামের তরিকুল ইসলাম, মুজিবনগর উপজেলার শিবপুর গ্রামের মৃত মুকুল জোয়ার্দারের ছেলে আরিফুল ইসলাম চুয়াডাঙ্গার আলমদাঙ্গা উপজেলার বোয়ালিয়া গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে সালাউদ্দিন। এদের একজনের কাছ থেকে পুলিশ কুষ্টিয়া থেকে প্রকাশিত একটি দৈনিক পত্রিকার সাংবাদিক আইডি কার্ড পেয়েছে। সে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে নিজেকে আড়াল করতে চেয়েছিল।


পুলিশের এই অর্জন এবং সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা বিষয়ে রবিবার মেহেরপুর পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্টিত এক প্রেসব্রিফিং অনুষ্টানে মেহেরপুর পুলিশ সুপার রাফিউল আলম জানান- এই ৬ ডাকাতকে গ্রেপ্তারে পুলিশকে অনেক বেগ পেতে হয়েছে। কারণ একেবারে ক্ল-লেস অবস্থা থেকে পুলিশকে এই কাজ করতে হয়েছে। মেহেরপুর পুলিশ বসে নেই। প্রতিটি মূহুর্ত পুলিশ আইনশৃঙ্খলা রক্ষা কাজে নিয়োজিত থাকে। অপরাধী এবং অপরাধ দমনে পুলিশের পাশাপাশি নাগরিকদেরও দায়িত্ব রয়েছে। নাগরিককে আরও সজাগ, সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে হবে। অন্যথায় সমাজের প্রতিটি অসঙ্গতি দূর করা পুলিশের একার পক্ষে কোনক্রমেই সম্ভব না। তিনি জানান- সাম্প্রতিক সময়ে ইজিবাইক চালককে খুন করে ইজিবাইক ছিনতাই, চোরাচালানের সময় রূপা এবং সোনা উদ্ধার প্রতিটি ঘটনা তদন্ত করে মূল আসামীদের পুলিশ আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হয়েছে।