সবার সংবাদ ডেস্ক:
তীব্র কুয়াশার সঙ্গে হিম শীতল বাতাসে গত ৩ দিন ধরে মেহেরপুরে মানুষ ও গবাদী পশুর জীবন বিপর্যস্ত হয়ে উঠেছে। সারাদিনেও সূর্যের দেখা মিলছে না। বেলা বাড়ার সাথে বৃষ্টির মতো হয়ে বাড়ছে কুয়াশার প্রকোপ। মেহেরপুরে কোন আবহাওয়া অফিস না থাকায় চুয়াডাঙ্গা জেলা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, এই অঞ্চলের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯-১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে উঠানামা করছে। সাথে রয়েছে পৌষের তীব্র হিম হাওয়া।
মঙ্গলবার, বুধবার ও বৃহস্পতিবার টানা তিনদিন ঘন কুয়াশার কারণে সড়কে যান চলাচল অনেক কমে গেছে। গ্রামাঞ্চলের কিছু কিছু জায়গায় অনেককে খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করতে দেখা গেছে। আগুন জ্বালিয়ে শীতের প্রকোপ কাটাতে যেয়ে মেহেরপুরের গাংনীতে এক বৃদ্ধা অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যুর মতো হৃদয় বিদারক ঘটনাও ঘটে গেছে।
গরম কাপড়ের অভাবে দরিদ্র ও অতিদরিদ্র বিশেষত প্রবীণ এবং শিশুরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। শীত নিবারণে পুরানো গরম কাপড়ের দোকানে ভীড় করছে অনেকেই। কিন্তু শীতবস্ত্র সঙ্কটের কারণে হাটবাজারে যেমন অর্থ দিয়ে মিলছে না শীতবস্ত্র। তেমনি সরকারি বেসরকারি পর্যায়ে শীতবস্ত্র বিতরণ এবার কম।
সদর উপজেলার গোপালপুর গ্রামের চাদু মিয়া মেহেরপুর সামসুজ্জোহা পার্কের সামনে অস্থায়ী পুরানো গরম কাপড়ের দোকান থেকে নিজের ও পরিবারের সদস্যদের জন্য পুরানো গরম কাপড় কিনেছিলেন। তিনি জানালেন, পুরানো কাপড় হলেও দাম গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি। গত কয়েকদিনের শীতের তীব্রতায় ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপ বেড়েছে। বাড়ছে রোগীর সংখ্যা। এদের মধ্যে শিশু এবং বৃদ্ধের সংখ্যা বেশি।
মেহেরপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের জরুরী বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক বলেন, তাদের কাছে ঠান্ডাজনিত রোগের চিকিৎসা নিতে যারা আসছে তাদের বেশির ভাগ হলো শিশু ও বৃদ্ধ।
২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল তত্বাবধায়ক বলেন, গত ২৪ ঘন্টায় ঠান্ডা জনিত নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে শিশু ও বৃদ্ধ সহ মোট ১০৩ ভর্তি হয়েছেন। এদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স। বেডে স্থান না পেয়ে এই শীতে অধিকাংশ শিশু ও বৃদ্ধকে হাসপাতালের মেঝেতে ও সিঁড়িতে শুয়ে চিকিৎসা নিতে দেখা গেছে।







