আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
মিয়ানমারের দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধে পরিস্থিতির নাটকীয় পরিবর্তন ঘটেছে। এক বছর আগে কোণঠাসা থাকলেও দেশটির সামরিক বাহিনী এখন নতুন করে হাজার হাজার সেনা নিয়োগের মাধ্যমে হারানো অঞ্চল পুনরুদ্ধারে আক্রমণাত্মক ভূমিকায় ফিরেছে। এই পরিস্থিতির মধ্যে প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়া মিন অং হ্লাইং বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোকে শান্তি আলোচনার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি এ খবর জানিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী এখন কৌশলগতভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে প্রেসিডেন্ট হ্লাইংয়ের শান্তি আলোচনার প্রস্তাবকে ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্ট (এনইউজি) সামরিক শাসন দীর্ঘায়িত করার কৌশল হিসেবে দেখছে। এছাড়া শান্তি আলোচনার জন্য ৩১ জুলাই পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হলেও এর শর্তাবলী অস্পষ্ট।
ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের বিশ্লেষক ও মিয়ানমার কনফ্লিক্ট ম্যাপ প্রজেক্টের প্রধান মরগান মাইকেলস বলেন, মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী নিজেদের পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করছে এবং মনে হচ্ছে বিদ্রোহী আন্দোলন কিছুটা স্তিমিত হয়ে পড়েছে। তবে তিনি মনে করেন, একটি গ্রহণযোগ্য রাজনৈতিক সমাধান না হওয়া পর্যন্ত সশস্ত্র প্রতিরোধ পুরোপুরি শেষ হওয়ার সম্ভাবনা কম।
উল্লেখ্য পাঁচ বছর ধরে চলা এই গৃহযুদ্ধে কয়েক হাজার মানুষ নিহত ও লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। মিয়ানমারের খনিজ সম্পদ ও অবকাঠামোতে বড় বিনিয়োগ থাকায় চীন দেশটিতে স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্য চাপ দিয়ে আসছে। সামরিক বাহিনীর আয়োজিত সাম্প্রতিক নির্বাচন আন্তর্জাতিকভাবে সমালোচিত হলেও, প্রেসিডেন্ট হ্লাইং এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বৈধতা পাওয়ার চেষ্টা করছেন। বর্তমানে সাগাইং অঞ্চলে বড় আকারের আক্রমণ চালিয়ে সামরিক বাহিনী তাদের হারানো অঞ্চল পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে।







