স্পোর্টস ডেস্ক:
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটে সাফল্যের সিংহভাগই এসেছে স্পিনারদের হাত ধরে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বাছাই থেকে শুরু করে সালমা-নাহিদা-রুমানা-মেঘলাদের আধিপত্যে নাকানিচুবানি খাচ্ছে প্রতিপক্ষরা। আজ (শনিবার) নারী এশিয়া কাপের উদ্বোধনী ম্যাচে একই পরিণতি থাইল্যান্ডের। বাংলাদেশের স্পিন আক্রমণের সামনে পথ হারিয়ে দিগ্বিদিক ছুটতে দেখা গেলো থাই ব্যাটারদের!
প্রতিপক্ষকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার মিশনে পুরো কৃতিত্বই স্পিনারদের। দুই অফ স্পিনার, দুই বাঁহাতি স্পিনার ও এক লেগ স্পিনারের সমন্বয়ে বাংলাদেশের স্পিন আক্রমণ। লেগ স্পিনার রুমানা আহমেদ একাই নেন ৩ উইকেট। বাকি ৭ উইকেটের ২টি করে নেন অফ স্পিনার সোহলি আক্তার এবং বাঁহাতি স্পিনার নাহিদা আক্তার ও সানজিদা আক্তার মেঘলা। বাকি একটি উইকেট অভিজ্ঞ সালমা খাতুনের। দলে দুইজন পেসার থাকলেও বোলিং করেছেন মাত্র একজন। অভিজ্ঞ জাহানারা আলম ২ ওভার বোলিং করে ১৫ রান খরচ করে উইকেটশূন্য ছিলেন। মূলত পাঁচ স্পিনারের ভেল্কিতে খেই হারায় থাইল্যান্ড।
ম্যাচশেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে অধিনায়ক নিগার সুলতানা বোলারদের প্রশংসা করে গেলেন, ‘দেখেন বোলাররা কিন্তু সবসময় ভালো করে। ব্যাটাররাও পাশাপাশি খুব ভালো কন্ট্রিবিউট করে টিমের জন্য। আমরা যেভাবে প্ল্যান করেছিলাম, তাদেরকে বিলো হান্ড্রেড রাখতে পারি। সেই ক্ষেত্রে বোলাররা আরও বেশি ভালো করেছে। যেমন পাওয়ার প্লেতে আমরা কিন্তু বাউন্ডারি যেতে দেইনি। যেটা খুব গুরুত্বপূর্ণ।
মাত্র ৮৩ রানের জয়ের লক্ষ্যে খেলতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেছে বাংলাদেশ। পাওয়ার প্লেতে কোনও উইকেট না হারিয়ে তুলে ফেলে ৫৫ রান। স্বল্প পুঁজির বিপক্ষে খেলতে নেমে মূলত প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই এভাবে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেছেন বলে জানিয়েছেন নিগার, ‘বিষয়টা হচ্ছে আমরা যদি আগে ব্যাট করতাম তাহলেও আমাদের এই অ্যাপ্রোচেই ব্যাট করতে হতো। যখন আমরা ১০ ওভারে আশির কাছাকাছি রান করতে পারবো, তখন বাকি ১০ ওভারে আমরা আরও ভালো সংগ্রহ পেতে পারবো। কারণ আমাদেরকে চিন্তা করতে হবে পরেও বড় বড় ম্যাচ আছে। প্রস্তুতিটা এখানে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা স্কোর দেখিনি, আমাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়েছি।
ওপেনিংয়ে শামীমা আক্তার ও ফারজানা হক পিংকি মিলে সিলেটে ঝড় তোলেন। চার-ছক্কার সেই ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় থাইল্যান্ডের বোলিং লাইনআপ। এমন ব্যাটিং সচরাচর করতে দেখা যায় না বাংলাদেশের ওপেনারদের। বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক অবশ্য বলেছেন, এটা তাদের শুরু, আমাদের সবসময় পরিকল্পনা থাকে আমরা যেন পাওয়ার প্লে-টা ব্যবহার করতে পারি। শামীমা আপু খুব অসাধারণ ব্যাটিং করেছেন। পাশাপাশি পিংকি খুব ভালো সাপোর্ট দিয়ে গেছে। আমরা কিন্তু এটাই চাই। আমার কাছে মনে হয়, ভালো একটা শুরু। ব্যাটারদের ইনটেশন নিয়ে যেটা বললেন, আমরা সবসময় এটা নিয়েই চিন্তা করি। আমাদের ইনটেন্টটা যেন ভালো থাকে।
যেকোনও টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচ জেতাটা গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম ম্যাচে ভালো করলে পরের ম্যাচগুলোতে এই আত্মবিশ্বাস কাজে লাগে। থাইল্যান্ডকে ডমিনেট করে হারানোর পর এখন আত্মবিশ্বাসে বলিয়ান বাংলাদেশের মেয়েরা। নিগারের ভাষায়, প্রথমত একটা টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। পুরো টুর্নামেন্ট আপনি কী করতে যাচ্ছেন, সেটার একটা টোন সেট করে। প্লাস আপনার টিমটাকেও বুস্টআপ করে যে, আমরা কী করতে যাচ্ছি।







