সবার সংবাদ ডেস্ক:
শ্বশুরের সম্পত্তি কুক্ষিগত করার অভিপ্রায়ে শাশুড়ীকে প্ররোচনা দিয়ে শ্বশুরের একমাত্র ছেলে সাদ্দাম হোসেন রাসেল (৩২) এর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়ায় ভগ্নিপতি মামুনের বিরুদ্ধে মেহেরপুরের গড়পাড়া এলাকায় সমালোচনার ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। এ ঘটনায় আত্মীয় স্বজন ও প্রতিবেশীরা রাসেলের মা ও তার ভগ্নীপতি মামুনকে চরম ধিক্কার জানিয়েছে।
এলাকাবাসী ও রাসেলের আত্মীয় স্বজন সূত্রে জানা যায়- গত ২০২২ সালের ৮ জানুয়ারি মেহেরপুর গড়পাড়া এলাকার ধনাঢ্য বীজ ব্যবসায়ী রাজু কামাল মারা যান। এরপর তার বড় জামাই গাংনী পৌর এলাকার মামুনুর রশীদ মামুন শাশুড়ী রোকেয়া বেগমের ব্যাংকে রক্ষিত নগদ টাকা, বাড়ী, দোকান ও জমি জাতি কুক্ষিগত করার জন্য ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন।
দুই তিন মাস পর ধুরন্ধর জামাই মামুন শাশুড়ীকে সুকৌশলে শশুর বাড়ী থেকে গাংনীতে নিয়ে যান। এদিকে নগদ টাকা, বাড়ী, দোকান ও জমি নিজ দখলে নেওয়ার জন্য পাঁয়তারা শুরু করলে অর্থ লোভী মামুনকে বাধা দেয় সাদ্দাম হোসেন রাসেল। কিন্তু মামুন শাশুড়ীকে জিম্মি করে শাশুড়ীর নামে থাকা মেহেরপুর রূপালী ব্যাংক থেকে ৪০ লক্ষ টাকা ও সঞ্চয় ব্যুরো থেকে প্রায় ৪৩ লক্ষ টাকা শাশুড়ীকে দিয়ে উত্তোলন করে নিজে আত্মসাৎ করেন। এরপর শাশুড়ীর নামে থাকা আরও প্রায় ৪০ লক্ষ টাকার দুই বিঘা জমিও সম্পত্তি ও অর্থলোভী মামুন নিজ নামে লিখে নেন।
বিষয়টি জানার পর একমাত্র ছেলে রাসেল আপত্তি জানালে অর্থ লোভী ও পরকীয়ায় আসক্ত মামুন শাশুড়ীকে চাপ দিয়ে মাকে ভূয়া নির্যাতনের ডাক্তারী সনদপত্রের মাধ্যমে মেহেরপুর আদালতে পুত্র রাসেলের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করতে বাধ্য করেন। মামলা নং- সি.আর ৫৯৫/২২। গত ২০২২ সালের মে মাসে দায়ের করা ঐ মামলায় রাসেল জামিন নিতে গেলে বিজ্ঞ বিচারক তাকে জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠান। ঐ মামলায় রাসেল ৫দিন কারাগারে থাকার পর জামিন লাভ করে বর্তমানে স্বাভাবিক জীবন যাপন ও নিজ ব্যবসা পরিচালনা করছিল।
এর মধ্যে রাসেল হৃদরোগে আক্রান্ত হলে গত ৩ ফেব্রুয়ারি তাকে কুষ্টিয়া লালন শাহ্ ডায়াগনষ্টিক সেন্টার এন্ড হাসপাতালে ডাক্তার মোঃ বসির উদ্দীনের কাছে চিকিৎসা প্রদান করা হয়। এ অবস্থায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি মায়ের দায়ের করা মামলার ধার্য তারিখে রাসেল হাজিরা দিতে গেলে অর্থ লোভী ভগ্নিপতি মামুনের চাপে মা রোকেয়া বেগমকে গাংনী জামাই বাড়ীতে গিয়ে রাসেল মাকে মারপিট করেছে এমন ভূয়া ডাক্তারী সনদপত্র দিয়ে বিজ্ঞ আদালতে ভুল তথ্য তুলে ধরলে আদালত রাসেলের জামিন বাতিল করে কারাগারে প্রেরণ করেন।
৮ই ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাসেল কারা অভ্যন্তরে পুনরায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে চরম অসুস্থ হয়ে পড়লে কারা কর্তৃপক্ষ ঐ রাতেই অসুস্থ রাসেলকে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করেন। মেহেরপুর সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক নাম না প্রকাশ করার শর্তে বলেন, রাসেলের ইসিজি দেখেছি তার হার্টের ব্লক ধরা পড়েছে, অবস্থা ভাল না, তাকে দ্রুত উন্নত চিকিৎসা দেওয়া প্রয়োজন, তার হার্টে রিং পরানো জরুরী হয়ে পড়েছে। রাসেলের আইনজীবি ১২ ফেব্রুয়ারি বিষয়টি উল্লেখ করে মেহেরপুর নারী ও শিশু নির্যাতন আদালতের বিজ্ঞ বিচারকের কাছে জরুরী জামিন প্রার্থনা করলে বিজ্ঞ বিচারক অসুস্থ রাসেলকে স্বাস্থ্য বিবেচনায় নিয়ে জামিন প্রদান করেন।
এ ব্যাপারে সরেজমিনে গিয়ে রাসেলের চাচা সওদাগর, ফিরোজ আহমেদ, তিন ফুফ শাহাজাদী, চামেলী, শিল্পী ও প্রতিবেশীরা বলেন রাসেল একজন সরল সহজ ভালো ছেলে। অর্থলোভী ও পরোকিয়ায় আসক্ত ভগ্নিপতি মামুন তার এক চাচা জয়নাল আবেদীন, তার মামা মাসুদ ও মাসুম রাসেলের পিতার সম্পত্তি আত্মসাৎ করা এবং রাসেলকে সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার জন্য তার মাকে জিম্মি করে মিথ্যা মামলা দিয়ে রাসেলকে হয়রানী করছে। তারা বলেন, এ ব্যাপারে জুডিসিয়াল তদন্ত হলে রাসেলের ভগ্নিপতি মামুনের জারিজুড়ি ফাঁস হয়ে পড়বে।
মরহুম রাজু কামালের ছেলে সাদ্দাম রাসেল বলেন- ভগ্নিপতি মামুন আমার বাবার মৃত্যুর পর আমাদের সম্পত্তি গ্রাস করার জন্য চক্রান্ত শুরু করে। একপর্যায়ে মাকে গাংনীতে নিয়ে যেয়ে মায়ের নামে থাকা রুপালী ব্যাংক ও সঞ্চয় ব্যুরো থেকে ৮৩ লক্ষ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেন। বিষয়টি জানার পর আমি আপত্তি জানালে আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দেন মামুন। পরে মাকে চাপ দিয়ে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যে হয়রানীমুলক মামলা দায়ের করেন। ভগ্নিপতি মামুনের আক্রোশ থেকে বাঁচার জন্য আমি মেহেরপুরবাসী ও জাতির বিবেক সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করছি।
এ ব্যাপারে মামুন ও তার শাশুড়ী এবং চাচা ও মামাদের মোবাইল ফোনে বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করলে তাদেরকে ফোনে পাওয়া যায়নি। বিষয়টি মেহেরপুরে যেমন সমালোচনার ঝড় উঠেছে, তেমন এই ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে রাসেলের আত্মীয় স্বজন ও এলাকাবাসী ।






