সবার সংবাদ ডেস্ক:
মৃত্যু সংবাদ, কোন কিছুর উদ্বোধন, সিনেমা, নাটক, যাত্রা, বিদ্যুৎ সর্তকবার্তা, মাংসের খবর, সব্জীর খবর, পোশাক, ইসলামী জলসা, খেলা, সমাবেশ, আন্দোলন, সামাজিক কর্মকান্ড, ভর্তি, প্রশিক্ষণ, ধর্মীয় অনুষ্ঠান, বিভিন্ন দিবস সবকিছু প্রচারের অবলম্বন হয়ে গেছে প্রচারযন্ত্র মাইক। যুগের পরিবর্তনে প্রচারে ভিন্নতা আসলেও মেহেরপুরে মাইকে প্রচারের কদর তেমন কমেনি। বরং যে কোন প্রচারে উচ্চ শব্দের মাইক ব্যাবহার শব্দ দুষণের মাত্রাকে ক্রমেই বাড়িয়ে তুলছে। তাই মাইকের শব্দ দূষণে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে মেহেরপুর জেলাবাসী। প্রতিদিন কাক ডাকা ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে বিকট আওয়াজের প্রচার মাইক।
মেহেরপুর জেলা শহর ছাড়াও জেলার সদর, গাংনী ও মুজিবনগর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামগঞ্জে অসংখ্য প্রচার মাইক বের হয়। যা গ্রামগঞ্জে মাটি বহনকারী গাড়ির মতো দাঁপিয়ে বেড়ায় এ গ্রাম থেকে ও গ্রামে। এসব প্রচার মাইকের মধ্যে রয়েছে ডাক্তারদের বিজ্ঞাপন, ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিজ্ঞাপন, বিদ্যালয়ের বিজ্ঞাপন, পোল্ট্রি ও বয়লার মুরগি বিক্রয়ের বিজ্ঞাপন, সিট কাপড়, জুতা, স্যান্ডেল, মোটরসাইকেল, টিভি ফ্রিজ বিক্রির বিজ্ঞাপন, হালখাতায় অংশ গ্রহণ, পশুর গোশত বিক্রি, লোহা লাড়কি ক্রয়, বাদাম বিক্রি, হারানো পশু খুঁজে পেতে ও সবজিসহ জিরা পাঁচ ফোড়ন বিক্রয়ের বিজ্ঞাপন।
এছাড়াও গ্রাম গঞ্জের চা, কফি শপের উচ্চ শব্দে বাজানো ও তরুণদের শখের ও নাচের জন্য টিভি, সাউন্ড বক্সের শব্দ দূষণ তো রয়েছেই। এসব প্রচার মাইকের শব্দ দূষণে মেহেরপুর জেলাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন। শহর ও গ্রামের বাজারের ব্যবসায়ীরা, ক্রেতা বিক্রেতারা চরমভাবে অস্বস্তি ও অশান্তিতে রয়েছে বিকট আওয়াজে প্রচার মাইকের যন্ত্রণায়। তাছাড়া শিক্ষার্থী, শিশু ও বয়স্ক নারী-পুরুষসহ সকল বয়সী মানুষ খুবই যন্ত্রণার মধ্যে রয়েছে এমন বিকট আওয়াজের কারণে।
এমনিতেই অধিকাংশ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় প্রচন্ড গরমে মানুষের হাসফাস অবস্থা। এর মধ্যে বিকট আওয়াজে মাইকের শব্দ দূষণে অসহ্য যন্ত্রনায় পড়েছে জেলার মানুষগুলো। পরিস্থিতি এমন যে সারাক্ষণই দু'একটা মাইক কানের পাশে বাঁজতেই থাকে। মসজিদে নামাজ পড়াও দুষ্কর হয়ে পড়েছে। কখন আযান আর কখন নামাজের সময় সেদিকেও হুশ থাকে না এসব মাইক চালকদের। কেবলমাত্র রাত ১২টা হতে ভোর ৫টা পর্যন্ত মানুষের কান ও ব্রেন নিরাপদে থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে এ ধরনের শব্দ দূষণে মানুষের কানের চরম ক্ষতি হওয়াসহ স্মৃতিশক্তি লোপ পায়।
ইউরোপিয়ান হার্ট জার্নালে প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, শব্দ দূষণে স্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে যায়। বিশেষ করে ৬৫ কিংবা এর চেয়ে বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে এ ঝুঁকি আরও বেশি। গবেষণায় বলা হয়েছে ৫০ হাজারেরও বেশি লোকের উপর এক জরিপ শেষে দেখা গেছে, ১০ ডেসিবেল শব্দের জন্য স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে ১৪ শতাংশ। এ ঝুঁকি গড়ে সব বয়সীদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। কিন্তু ৬৫ বছরের বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে প্রতি ১০ ডেসিবেল শব্দে স্ট্রোকের ঝুঁকি ২৭ শতাংশ বাড়ে।
সরকার শব্দ দূষণ রোধে ২০০৬ সালে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। এতে বলা হয়েছিল, কোন ব্যক্তি শব্দ দূষণের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে ১ মাস এবং সর্বোচ্চ ৬ মাসের কারাদন্ড এবং ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদÐ বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হবেন। এমতবস্থায় মেহেরপুর জেলাবাসী ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনার মাধ্যমে শব্দ দূষণ বন্ধের জোর দাবী জানিয়েছেন। যাতে করে প্রচন্ড তাপদাহ আর গরমের পরও অন্তত: শব্দ দূষণের যন্ত্রণা থেকে বাঁচতে পারে।







