সবার সংবাদ ডেস্ক :
মেহেরপুরের গাংনীতে বিয়ের এক মাসের মাথায় স্বামীর হাতে স্ত্রী খুন হওয়ার পর স্বামীর আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। শারীরিক অক্ষমতাকে কেন্দ্র করে নবদম্পত্তির মধ্যে বিরোধ এবং সন্দেহ তীব্র হলে এই ঘটনাটি মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার ষোলটাকা ইউনিয়নের কুঞ্জুনগর গ্রামে ঘটে। বুধবার পুলিশ কয়েক ফুট দুরত্বে এবং দুই ঘন্টার ব্যবধানে দুইজনের মরদেহ ওই গ্রাম থেকে উদ্ধার করে। ঘটনায় নিহত স্ত্রীর নাম সাবিনা খাতুন (৩২) এবং স্বামীর নাম বিদ্যুৎ হোসেন।
নিহত সাবিনার পরিবারের অভিযোগ- স্বামীর হাতে খুন হয়েছে তাদের মেয়ে সাবিনা। সাবিনা কুমারীডাঙ্গা গ্রামের আব্দুস সাত্তারের মেয়ে। ১ মাস আগে বিদ্যুত ও সাবিনার পারিবারিক সম্মতিতে বিয়ে হয়। কিন্তু বিয়ের পর থেকে শারিরীক সক্ষমতা এবং অক্ষমতার অভিযোগ তুলে নবদম্পত্তির মধ্যে কলহ দেখা দেয়। ঘটনার আগের দিন মঙ্গলবার সন্ধ্যারাতে সাবিনার পিতার পরিবারের লোকজন তাদের মনোমালিন্য বিষয়টি মিমাংসা করতে সাবিনার স্বামীর বাড়ি যায়। পরের দিন বুধবার সকালে প্রতিবেশীরা স্বামীর ঘরে সাবিনার রক্তাক্ত লাশ দেখতে পেয়ে তাদের খবর দেয়। পরে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে। ধারণা করা হচ্ছে, সাবিনার স্বামী বিদ্যুত হোসেন তাকে খুন করেছে।
এর কিছুক্ষণ পর সাবিনার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ বাড়ির বাইরে নিলে বাড়ির পাশের বাঁশঝাড়ে লুঙ্গি দিয়ে ফাঁস লাগানো অবস্থায় স্বামী বিদ্যুতের মরদেহ ঝুলতে দেখে পুলিশ। দুটি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে নিয়ে ময়নাতদন্ত শেষে দুটি মরদেহ দুই পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে।
গাংনী থানার ওসি আব্দুর রাজ্জাক ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান- মৃত দুজনেরই বাড়ি একই গ্রামে। ৪ বছরে বিদ্যুতের ৫টি বিয়ে হলেও কোন বিয়েই টিকেনি। প্রতিটি স্ত্রী স্ব-ইচ্ছায় বিদ্যুততে ছেড়ে চলে গেছে। ১ মাস আগে পারিবারিকভাবে বিদ্যুতের সাথে সাবিনার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে নবদম্পত্তি একে অপরের বিরুদ্ধে শারিরীক অক্ষমতার অভিযোগ তুলে। এটা সন্দেহ হিসাবে দানা বাঁধলে অভিযোগ বিরোধ আকারে রূপ নেয়। যা তীব্র আকার ধারণ করে। পারিবারিক হস্তক্ষেপের পরও যা সুরাহা হয় না। ধারণা করা হচ্ছে- স্বামী স্ত্রীকে হত্যার পর স্বামী নিজেই আত্মহত্যা করেছে।







