সবার সংবাদ ডেস্ক:
হয়রানী এবং ক্ষতিগ্রস্থ করার উদ্দেশ্যে আসামিদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করায় বাদীর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার গাংনী আমলি আদালতের সিনিয়র ম্যাজিস্ট্রেট এস এম শরিয়ত উল্লাহ্ এই আদেশ প্রদান করেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, গাংনীর বাঁশবাড়িয়া গ্রামের জনৈক মোঃ আইয়ুব আলী বাদী হয়ে গত ২৭/০৩/২০২২ তারিখে একই গ্রামের আসামি খলিলুর রহমান সহ পাঁচ জনের বিরুদ্ধে প্রতারণা, অর্থ আত্মসাৎ, জালিয়াতি সহ প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে সিআর ১৮২/২২নং মামলা দায়ের করেন।
ইতিপূর্বে একই বর্ণনায় দেড়বছর আগে ০৯/১০/২০২০ তারিখে সিআর ২৩০/২০নং মামলা করেন। উভয় মামলায় আদালত তদন্তের নির্দেশ দেন। তদন্তে ঘটনাস্থল পরিদর্শন সহ সাক্ষীদের জবানন্দি গ্রহণ শেষে ঘটনার সত্যতা নেই মর্মে তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রতিবেদন দাখিল করেন। মামলাটি বিবাদীকে ক্ষতিগ্রস্থ করার উদ্দেশ্যে দায়েরকৃত বলেও তদন্তে উল্লেখ করা হয়।
আদালত পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেছেন যে, সিআর ২৩০/২০ মামলাটি তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য গাংনী সাব রেজিষ্টার কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিলে প্রতিবেদনে মামলাটি অসত্য উল্লেখ করলে আদালত মামলাটি খারিজ করে দেন। অথচ-নালিশী পরবর্তী মামলা দায়েরের সময় সেই তথ্য সঠিকভাবে উল্লেখ করেননি। প্রতিবেদনে বলা হয়-বস্তুতপক্ষে বিবাদীগণ যাতে বাদীর কাছে তাদের প্রাপ্য সম্পত্তি দাবী করতে না পারে সেই জন্য এই মামলার বাদী আইনজীবির সহায়তায় শুধুমাত্র মামলার তারিখ পরিবর্তন করে একই বিবাদীগণের বিরুদ্ধে সিআর-১৮২/২২ দ্বিতীয় মামলাটি দায়ের করেন। অর্থাৎ নালিশকারী সম্পূর্ণ মিথ্যা বর্ণনায় হয়রানি ও আসামীদের ক্ষতিগ্রস্থ করার উদ্দেশ্যে এই মামলা করেছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- বিবাদীর বিরুদ্ধে হুমকী লাশগুম ও খুনের হুমকী স্বয়ং বাদী অস্বীকার করে বলেছেন মামলায় বাদীপক্ষের উকিল এসব অতিরিক্ত লিখেছে। অর্থাৎ আরজির কিছু বক্তব্য মিথ্যা এবং নিযুক্ত আইনজীবির পরামর্শে লেখা এটা নালিশকারী নিজেই স্বীকার করেছেন।
এ কারণে একই মামলা একবার খারিজ হওয়ার পরও তথ্য গোপন করে এবং আসামীপক্ষকে হয়রানি ও ক্ষতিগ্রস্থ করার উদ্দেশ্যে দ্বিতীয়বার মামলা করে বাদী হলফ ভঙ্গ সহ মিথ্যা তথ্যপ্রদান এবং আসামীদের ক্ষতিগ্রস্থ করার উদ্দেশ্যে আদালতে মিথ্যা বক্তব্য ও মিথ্যা দাবী করে দন্ডবিধির ১৮১,২০৯ ও ২১১ ধারার দন্ডনীয় অপরাধ করেছেন। যার সবোর্চ্চ সাত বছর সাজা ও জরিমানা রয়েছে। আদালত মিথ্যা মামলা দায়েরের অপরাধে বাদীর বিরুদ্ধে ২৪ ঘন্টার মধ্যে এজাহার গ্রহণের জন্য গাংনী থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন।







