মেহেরপুরে কৃষকদের প্রণোদনা চেয়ারম্যান-মেম্বারদের পকেটে!
টপ নিউজ মেহেরপুর

মেহেরপুরে কৃষকদের প্রণোদনা চেয়ারম্যান-মেম্বারদের পকেটে!

সবার সংবাদ ডেস্ক:

মেহেরপুরের তিন উপজেলায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বিতরণকৃত উন্নতমানের সার ও বীজের কৃষি প্রণোদনা হরিলুটের অভিযোগ উঠেছে ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে। নিজেদের ও আত্মীয়-স্বজনদের নাম ব্যবহার করে এই প্রণোদনা হরিলুট করেছেন উপজেলাধীন ২০টি ইউনিয়ন ও দুইটি পৌরসভার মেয়র ও সদস্যরা।

প্রণোদনা বাস্তবায়নের নির্ধারিত নীতিমালা তোয়াক্কা না করে প্রতি বছর এভাবে হরিলুটের ফলে এদিকে যেমন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা সুবিধাবঞ্চিত হচ্ছেন, তেমনি রবি মৌসুমে ফসলের আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য সরকারের নেওয়া পরিকল্পনাও হুমকির মুখে পড়ছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, উপজেলাটির ইউনিয়ন ও পৌরসভার কৃষকদের জন্য মাসকলায়ের ফসলের উন্নতমানের বীজ ও সার বিনামূল্যে বিতরণের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

উচ্চমূল্যের বীজের ১৮৫০ জন কৃষকদের তালিকার অধিকাংশই চেয়ারম্যান ও তাদের আত্মীয়-স্বজন এবং মেম্বারদের নাম ও মোবাইল নাম্বার। দুয়েকজন কৃষকদের নাম থাকলেও তারা জানেনই না এই বীজ ও সার বিতরণের খবর। জানা গেছে, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের কমিটির মাধ্যমে এটি বাস্তবায়ন করা হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এই কমিটির সভাপতি, উপজেলা কৃষি অফিসার সদস্য সচিব এবং উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এই কমিটির উপদেষ্টা।

তালিকা প্রণয়ন করেন ইউপি চেয়ারম্যান ও দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার নেতৃত্বাধীন কমিটি। কিন্তু কিভাবে তালিকাভুক্ত হয়েও এভাবে হরিলুট করা হলো সে বিষয়ে মুখ খুলতে নারাজ সংশ্লিষ্ট সবাই। বামন্দী ইউনিয়নের ৮০ জন  কৃষকের মাঝে  মাসকলায়ের বীজ ও সার কথা থাকলেও প্রত্যেক মেম্বারকে কে দুটি করেও ভাগ করে দেয়া হয়। এগুলো চেয়ারম্যানের আত্মীয়-স্বজনের মধ্যে বিতরণ করা হয়।

বাগোয়ান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আইয়ুব হোসেন জানান, আমাদের কিছু নিজের লোক আছে যারা প্রতিনিয়তই আমাদের ভোট করেন। তাদেরকে দিয়ে বাকি যা থাকে তাই কৃষকদের দিয়েছি। বারাদি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোমিনুল ইসলাম মোমিন জানান, সামান্য কিছু বীজ পেয়েছি তা ইউপি মেম্বারদের দেওয়া তালিকা অনুসারে বিতরণ করা হয়েছে।

নাম প্রকাশ করা ঝামেলা এমন শর্তে ইউনিয়ন কৃষি উপসহকারীরা জানান, প্রত্যেকটি উপর ইউনিয়ন থেকে এমপি মহোদয়ের ১৫ জন প্রতিনিধির নাম ও উপজেলা চেয়ারম্যানের ১০ জন প্রতিনিধির নাম আমাদেরকে দিয়েছেন। বাকিগুলো চেয়ারম্যান মেম্বাররা ভাগ করে নিয়েছে। আমরা কিছু বলতে পারি না কারণ ইউনিয়ন কমিটির সভাপতি চেয়ারম্যান মহোদয়।

এবিষয়ে মটমুড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সোহেল আহমেদ বলেন, ‘তালিকা আমরাই করেছি। সে হয়তো বীজ তুলে নিয়ে এসে আরেকজনকে দিয়েছেন। কিন্তু কোনো অনিয়ম করা হয়নি। তাড়াহুড়ো করে তালিকাটা করে দেওয়া হয় এ জন্য যাচাই-বাছাই করা হয় না। এখানে আমার নাম্বারটা কিভাবে গেল আমি জানি না। আর আমার ভাইয়েরা যদি কৃষক হন তাহলে তো দোষের কিছু না। তারা কৃষক হিসেবে পেয়েছেন।

বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে নারাজ অধিকাংশ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন চেয়ারম্যান দাবি করেছেন, ‘ইউপি সদস্যসহ অনেকের থেকে প্রভাবিত হয়ে তারা এইভাবে তালিকা করেছেন। এসব প্রণোদনা উপজেলা পরিষদ থেকে দেওয়া হয়, সেখান থেকেও একাধিক জনের নাম অন্তর্ভূক্ত করতে বাধ্য করা হয় এবং প্রণোদনা দোওয়ার সময় সেখান থেকেই রেখে দেওয়া হয়।

মেহেরপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বিজয় কৃষ্ণ হালদার বলেন, প্রথমে ইউনিয়ন থেকে তালিকাটা তৈরি করা হয়। এরপর উপজেলা কমিটি এটির চূড়ান্ত অনুমোদনের পর সার ও বীজ বিতরণ করা হয়। অনিয়মের অভিযোগ এখনও আমরা পাইনি। যদি কোনো অভিযোগ আসে বা আপনাদের (সাংবাদিক) কাছ থেকে নেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আমরা তদন্ত করে দেখব এবং প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

মেহেরপুর জেলা প্রশাসক মোঃ শামীম হাসান জানান, বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজখবর নিয়ে দেখছি যদি কেউ এমন কাজ করে থাকে তাদেরকে শাস্তির আওতায় আনা হবে।