মেহেরপুরে এক নারীকে ব্ল্যাকমেইল: প্রশিকা ব্রাঞ্চ ম্যানেজার গণধোলাই
অন্যান্য মেহেরপুর

মেহেরপুরে এক নারীকে ব্ল্যাকমেইল: প্রশিকা ব্রাঞ্চ ম্যানেজার গণধোলাই

সবার সংবাদ প্রতিবেদক:

প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে এক নারীকে ব্ল্যাকমেইল করে আসছিলেন প্রশিকা এনজিও আমঝুপি ব্রাঞ্চ ম্যানেজার সুরমান আলী। সুরমান আলী মাগুরা জেলার মোহাম্মদপুর থানার বেথড়ী গ্রামের আতর আলীর ছেলে । মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে সদর উপজেলার চাদঁবিল ইম্প্যাক্ট মোড়ে ওই নারীর সাথে আবারো ব্ল্যাকমেল করে টাকা আনতে গেলে মেয়ের পরিবারের লোকজন ধরে গণধোলাই দেন বলে একাধীক সুত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেন। 

প্রশিকা এনজিও মেহেরপুর ব্রাঞ্চ ম্যানেজার সেলিম রেজা বলেন, দুপুরে আমাদের সুরমান আলী ফোন দিয়ে সনো ল্যাবে আসতে বলেন। আমরা সেখানে গিয়ে দেখি তিনি আহত অবস্থায় একা বসে আছেন। এসময় সুরমান আলীর কাছে মারধরের বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি জানান, মেহেরপুর থেকে আমঝুপি যাওয়ার পথে চাদঁবিল ইম্প্যাক্ট মোড়ে পৌছালে কয়েকজন যুবক তাকে পথ রোধ করে ধরে মাঠের মধ্যে নিয়ে গিয়ে বেদম মারপিট করে মোবাইল ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার কথা বলেন। পরে সনো ল্যাবে ডাক্তার দেখিয়ে তার এক আত্মীয়র বাসায় চলে যান। পরে আমরা জানতে পারি যে একটি নারী কেন্দ্র করে মারধরের এই ঘটনাটি ঘটে।

তিনি আরো বলেন, এ ঘটনায় মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসা নিতে রাজি হননি আহত আহত ব্রাঞ্চ ম্যানেজার সুরমান আলী। এছাড়া তাকে মেহেরপুর সদর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের কথা বলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।  আমরাও অফিসের পক্ষ থেকে আসল রহস্যটা বের করার চেষ্টা করছি। 

প্রশিকা এনজিও মেহেরপুর ব্রাঞ্চের কর্মী মুন মুঠোফোনে বলেন, আমরাও শুনেছি এক নারীকে কেন্দ্র করে তাকে গণধোলাই দিয়েছে মেয়ের পরিবারের লোকজন। 

প্রশিকা এনজিও আমঝুপি ব্রাঞ্চের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মী জানান, ব্রাঞ্চ ম্যানেজার সুরমান আলী সারাদিন অফিসিয়াল কাজ বাদ দিয়ে মুঠোফোনের কথা বলা এবং  বিভিন্ন গ্রামের নারীরা ঋণ নিতে আসলে তাদের নিয়ে দীর্ঘ সময় তার রুমে গল্প করতেন। একাধিকবার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন  কর্তৃপক্ষকে জানিও কোন প্রতিকার হয়নি।

চাঁদবিল  ইম্প্যাক্ট মোড়ে সরজমিনে গিয়ে স্থানীয় লোকজনকে দুপুরে সুরমান আলীকে পথরোধ করে মাঠের মধ্যে নিয়ে মারধরের ঘটনার কথা জিজ্ঞেস করলে এমন ঘটনার বিষয়টি তাদের জানা নেই বলে জানায়। 

এ বিষয়ে মেহেরপুর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি হুমায়ন কবীর জানান, কোন ধরনের ছিনতাই বা হামলার ঘটনায় থানায় কোন ব্যক্তি অভিযোগ করেনি। 

গণধোলাই এর পর থেকে সুরমান আলী আত্মগোপনে চলে গেছেন। ঘটনার বিষয় জানতে আমঝুপি ব্রাঞ্চ ম্যানেজার সুরমান আলীর মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিলে তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।