মেহেরপুর শহরে বেওয়ারিশ কুকুরের উৎপাত বেড়েছে
অন্যান্য মেহেরপুর

মেহেরপুর শহরে বেওয়ারিশ কুকুরের উৎপাত বেড়েছে

সবার সংবাদ ডেস্ক:

কুকুরের কামড়ে ২দিনে আক্রান্ত ৫০

মেহেরপুরে হটাৎ করে বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। অনত্র থেকে জুড়ে বসা নাকি প্রজনন বৃদ্ধি হয়ে এই কুকুরের উৎপাত সেই তথ্য নেই সংশ্লিষ্ট কারো কাছে। তবে এই সব বেওয়ারিশ কুকুরের উৎপাতে পথচারীরা যেমন আতঙ্কিত। তেমনি কুকুরের উৎপাতে খোলা স্থানে কোন ভোজের আয়োজন করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

রাত বাড়লেই শহরের বাড়ির ফেলে দেওয়া নোংরা আর্বজনা ঘেটে কিছু খাবারের অন্বেষায় মেহেরপুরের শহরের প্রধান রাস্তায় হুমড়ী খেয়ে পড়ে এই বেওয়ারিশ কুকুর। বিভিন্ন জটিলতার কারণে গত ৪ বছর মেহেরপর পৌরসভা কুকুর নিধনে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি বলে জানিয়েছেন পৌর কতৃপক্ষ। মেহেরপুরে গত দুইদিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে মেহেরপুর ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে ২৩ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। বাকিরা স্থানীয়ভাবে কবিরাজের কাছে চিকিৎসা নিয়েছেন।

মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে-মেহেরপুর ২৫০ শয্যার হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন আমঝুপি গ্রামের আব্দুস শেখের ছেলে আলাইহিম (৫৫), ফারুক হোসেনের মেয়ে ফারহানা খাতুন (৭) ও ছেলে সামিউল (২০), হারুন মন্ডলের ছেলে আব্দুল্লাহ (৫৩) ও তার ছেলে মোমিনুল ইসলাম (৭), আব্দুর রবের ছেলে শুভ আহম্মেদ (২৭), আসাদুল ইসলামের মেয়ে রেখা খাতুন (৪), সলিম উদ্দীনের ছেলে মফিজুল ইসলাম (৫০), কিয়ামদ্দীনের স্ত্রী আনজুরা বেগম (৭০), মিল্টন হোসেনের মেয়ে বর্ষা খাতুন (১৩), আব্দুর রহিমের ছেলে কবির হোসেন (২৫), আব্দুল মান্নানের ছেলে মঞ্জুর হোসেন (৩২), আব্দুল মাজেতের ছেলে সামিউল ইসলাম (৪), মোহর আলীর ছেলে জিহাদ হোসেন (২৫), জাহাঙ্গীর হোসেনের ছেলে সাব্বির হোসেন (১০), বাবর আলীর ছেলে ইকবাল হোসেন (৩৫), রমিজ হোসেনের ছেলে আজাদ আলী (১২), খেদমত আলীর স্ত্রী সালমা খাতুন (৫০), আবু সাঈদের স্ত্রী তামান্না (৩০) ও মেয়ে তুবা (৮), আবুল কালামের ছেলে আবু সাঈদ (৪৫), ইনসাফ আলীর ছলে জিম (২০), মানিক হোসেন, হাবিবুর রহমান, ডাকু, মোয়াজ্জেম হোসেন। 

মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালের জলাতঙ্ক ভ্যাক্সিনেশন সেন্টার সূত্র জানান-আমঝুপি ও চাঁদবিল থেকে কুকুরে কামড়ানো ২৩জন রোগী মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে এসে চিকিৎসা নিয়েছেন। চিকিৎসা প্রদানের পর তাদেরকে জলাতঙ্কের ভ্যাক্সিন দেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে হাবিবুর (১০) নামে একজনের অবস্থা গুরুতর। তাকে জরুরী চিকিৎসা দেওয়ার জন্য তাৎক্ষনিক অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়। কুকুরের কামড়ে তার গলার বিভিন্ন অংশের মাংসপেশি ছিন্নভিন্ন হয়ে যাওয়ায় তাকে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালের সার্জারী বিভাগের কনসালটেন্ট দিয়ে অস্ত্রোপচার করা হয়।

মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায় ডাঃ জমির মোহাম্মদ হাসিবুস সাত্তার জানান- ‘আমঝুপি থেকে কুকুরে কামড়ানো রোগী যারা হাসপাতালে এসেছিলেন তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর ভ্যাক্সিনেশন করা হয়েছে।’

আমঝুপি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বোরহান উদ্দীন আহম্মেদ চুন্নু ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, উপজেলা পরিষদের সমন্বয় সভায় বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডাক্তার অলক কুমার দাশ এ ব্যাপারে সার্বিক বিষয়টি দেখার প্রতিশ্রতি দিয়েছেন।

মেহেরপুর শহরের বোষপাড়ার বাসিন্দা আবু সোলাইমান হক জানান-বেওয়ারিশ কুকুরের উৎপাতে দিনেদুপুরে যেমন ফুটপাত দিয়ে হাঁটাচলা যায় না। কেননা তখন ফুটপাত দখল করে শুয়ে থাকে এই সমস্ত কুকুরগুলো। তেমনি রাত বাড়লেই কুকুরের দখলে চলে যায় শহরের সমস্ত সড়ক। রাতে কুকুরগুলো খাবারের সন্ধানে শহরের সমস্ত সড়কের আশপাশে গন্ধ শুকে শুকে হন্যে হয়ে বেড়ায়। এ সময় কোন পথচারী তাদের নিবৃত্ত বা তাড়া দিলে কুকুরগুলো কামড় দিতে উদ্যত হয়। ফলে কুকুর আতঙ্কে এখন শহরের সড়ক অনেকটাই অনিরাপদ হয়ে উঠেছে।