লিবিয়ায় মানবপাচর চক্রের হাতে সর্বশান্ত মুজিবনগরের আক্কাস আলী
অন্যান্য মেহেরপুর

লিবিয়ায় মানবপাচর চক্রের হাতে সর্বশান্ত মুজিবনগরের আক্কাস আলী

মিজানুর রহমান অপু:

মেহেরপুর মুজিবনগর উপজেলার আক্কাস আলী। লিবিয়া থেকে অমানুষিক নির্যাতনের শিকার হয়ে কোন মতে জীবন নিয়ে ফিরে এসে এখন মুজিবনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। বিষয়টি জানিয়ে মুজিবনগর থানায় লিখিত আভিযোগ করে আক্কাস আলী এখন উল্টো জীবনের নিরপত্তা হীনতায় ভুগছে। প্রতিদিন স্থানীয় প্রভাবশালীরা পুলিশের কাছে সেই অভিযোগ তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছেন বলে আভিযোগ করেছেন আক্কাস আলী।

আক্কাস আলী জানান- লিবিয়া প্রবাসী বাগোয়ান গ্রামের আনারুলের ছেলে মোঃ আরিফ ও তার ভাই আতিয়ার ভালো চাকরির প্রলোভন দিয়ে বলে লিবিয়া পৌছে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেওয়া লাগবে বলে প্রস্তাব দেন। সুদিনের কথা চিন্তা করে তার কথায় রাজি হই। এর ১৫ দিন পর গত ১৬ ডিসেম্বর তারা আমাকে প্রথমে দুবাই নিয়ে এক সপ্তাহ একটি ঘরে আটকে রেখে পরে লিবিয়া নিয়ে যায়। সেখানেও নিয়ে গিয়ে একটি ঘরে আটক রাখে। কয়েকদিন পর মৃত্যুর ভয় দেখিয়ে ভালো আছি বলে জোর করে টাকা পরিশোধের জন্য বাড়িতে ফোন করিয়ে নেয়।

বাড়ি থেকে চুক্তি আনুযায়ি ৩ লাখ  ৫০ হাজার  টাকা  মোঃ আতিয়ারের দুলাভাই তারানগরের রফিকুল ইসলামকে দেয়। টাকা পাওয়ার পর আমার মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়। চাকরি না দিয়ে শুরু হয় নির্যাতন। ৩ দিন পর একবার সামান্য খাবার দিতো। আরো টাকার জন্য রড় আর হাতুড়ি দিয়ে নির্যাতন করতো। টাকার জন্য ফোনে আমার পরিবারের সাথে কথা বলতে দিলে নির্যাতনের কথা জানাই।

আমার পরিবার রফিকুল ইসলাম ও তার শ্বশুর মোঃ লুৎফর ওরফে লোথার কাছে আমার প্রাণ ভিক্ষা চাই। তারা আরও ১ লাখ টাকা ও কোন অভিযোগ করবোনা বলে আপোষনামা লিখে নেয়। গত ১ মার্চ অসুস্থ অবস্থায় দেশে ফিরে বাড়ি আসি। মুজিবনগর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করি। অথচ বিচারের পরিবর্তে এখন উল্টো থানা পুলিশ ও স্থানীয় প্রভাবশালীরা আমাকে আভিযোগ তুলে নেবার জন্য চাপ দিচ্ছে।

আক্কাস আলীর স্ত্রী মোছাঃ গিতা খাতুন বলেন, তাদের বার বার স্বামীকে ফিরিয়ে আনতে বলেছি। এতে দালাল রফিকুল আমাকে উল্টো হুমকি দিয়ে বলেছে টাকা না দিলে গ্রামের লিবিয়া প্রবাসী স্বপনের মতো আক্কাসেরও মরদেহ হারিয়ে যাবে। সেই ভয়ে আমার বাড়ির জমি বিক্রি করে তাদের টাকা দিয়েছি। যেখানে সই করতে বলেছে সেখানেই সই করেছি। এখন আমরা সহায় সম্বলহীন নি:স্ব। গ্রামবাসীর সাহায্যে কোন রকম বেঁচে আছি।

রফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনা সত্য নয়। সে লিবিয়াায় যাবার পর কাজ না করায় তার ফেরার টিকিটের টাকা নিয়ে তাকে ফেরত আনা হয়েছে। তার পরিবার এ বিষয়ে কোন ঝামেলা করবেনা বলে আপোষনামা লিখে দিয়েছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আরিফুল ইসলাম বলেন- আগামী ৭ তারিখ থানায় দুইপক্ষ ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যাক্তিকে নিয়ে বসে বিষয়টা মিমাংসা করা হবে। মুজিবনগর থানার ওসি মেহেদি রাসেল বলেন-এধরনের মামলার বিষয় আমার জানা নেই।