সবার সংবাদ ডেস্ক:
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার জোড়পুকুরিয়া গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে কামরুল হাসান (৫০) নামে এক প্রবাসীকে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে আপন বড় ভাই শাহান আলী, চাচাতো ভাই কিবরিয়া, জাকারিয়া ও আব্বাস আলীর বিরুদ্ধে। গুরুতর অবস্থায় স্থানীয় লোকজনেরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে পরে সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।
হামলায় কামরুল হাসানের পায়ের হাড় ফেটে গেছে ও মাথায় ১৪টি সেলাই দেওয়া হয়েছে। ১৯ ডিসেম্বর সকালে জোড়পুকুরিয়া গ্রামের গোরস্থান পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। আহত কামরুল হাসান একই গ্রামের মৃত আঃ কাদেরের ছেলে। তিনি সৌদি প্রবাসী। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্ত্রী নাহারা নাসরিন চারজনকে আসামি করে মেহেরপুর আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন। যার নং সি.আর ৮৮১/২০২৩। ধারা ১৪৭/৪৪৭/৪৪৮/৩২৩/৩২৪/৩২৬/৩০৭/৩৮০ পি.সি।
মামলার আসামিরা হলেন শাহান আলী মৃত আঃ কাদেরের ছেলে, কিবরিয়া ও জাকারিয়া মৃত হারেজের ছেলে ও আব্বাস মৃত সাদিমানের ছেলে। ভুক্তভোগী পরিবার ও মামলার সূত্রে জানা যায়, কামরুল হাসান দীর্ঘ ২০ বছর যাবৎ সৌদি প্রবাসী। বিদেশ থাকার সুবাদে কামরুল হাসানের বড় ভাই শাহান আলী তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল করে বাড়িঘর নির্মাণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
ইতোমধ্যে কামরুলের শরিকানা অংশের একটি ধানি জমি তার বড় ভাই শাহান আলী চাচাতো ভাই জাকারিয়ার কাছে বিক্রি করে দেয়। যে জমিটি কামরুল ইসলামের দখলে ছিলো। কামরুল ইসলাম প্রবাসে থাকার সুযোগে জমিটি বিক্রি করা হয়। জমি দখলের বিষয়ে গাংনী থানায় একটি অভিযোগও দাখিল করা হয়।
জমিজমা নিয়ে দেওয়ানী আদালতে মামলাও বিচারাধীন আছে। গত দুই মাস আগে কামরুল ইসলাম ছুটিতে বাড়িতে এসে জোরপূর্বক জমি দখলে বাধা ওই শরিকানা জমি ফেরত চাওয়ার জেরে ১৯ ডিসেম্বর কামরুল হাসানের উপর বাঁশ ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়ে গুরুত্বর জখম করা হয়। পরে স্থানীয় লোকজনেরা মিলে তাকে রক্তাক্ত অবস্থা উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।
এ ব্যাপারে আহত কামরুল হাসানের স্ত্রী নাহারা নাসরিন বলেন, হামলাকারীরা আমার স্বামীকে রক্তাক্ত জখম করে উল্টো আমাদের নামেই মামলা দিয়েছে। আমার স্বামীকে যারা হত্যার উদ্দেশ্যে পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম করেছে। আমি তাদের বিচার চাই। এখনও আমাদের হত্যার হুমকি দিয়ে যাচ্ছে হামলাকারীরা। নিরাপত্তার অভাবে আমরা বাড়ি যেতে পারছি না।
এবিষয়ে জাকারিয়ার মুঠোফনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, হামলার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, জমিজমার মিমাংসার বিষয়ে তাকে বলতে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে।







