গাংনীতে সেতু নির্মাণ হলেও নির্মাণ হয়নি সংযোগ সড়ক
টপ নিউজ মেহেরপুর

গাংনীতে সেতু নির্মাণ হলেও নির্মাণ হয়নি সংযোগ সড়ক

সবার সংবাদ ডেস্ক:

ভোগান্তিতে দুই উপজেলার ১০ লক্ষাধিক মানুষ

মেহেরপুর-কুষ্টিয়া মাথাভাঙ্গা নদীর উপর সেতু নির্মাণ শেষ হয়েছে ৬ মাস। এখনো সংযোগ সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় ভোগান্তিতে গাংনী ও দৌলতপুর উপজেলার ১০ লক্ষাধিক মানুষ। সরেজমিন ঘুরে দেখা যায় গাংনীর বেতবাড়িয়া ও দৌলতপুরের মধুগাড়ি নদীর উপর প্রায় সাড়ে ৭ লক্ষ টাকা ব্যয়ে সেতু নির্মাণ করছে কফিল এ্যান্ড কোহিনুর এন্টারপ্রাইজ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। সেতুর দীর্ঘ ১০০ মিটার চেইনেজে ৭৫ মিটার দীর্ঘ পিএসসি গার্ডার নির্মিত সেতুটির কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সেতু কাজ শেষ হলেও এখনো সংযোগ সড়ক না থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ মানুষ।

বেতবাড়িয়া গ্রামের গাড়ি চালক আমিনুল বলেন, আমি গাড়ি নিয়ে দুই উপজেলার গরু বিভিন্ন হাটে নিয়ে যায়। সংযোগ সড়ক না থাকায় অনেক কষ্টে গরু আনতে হয় দৌলতপুর উপজেলা থেকে। প্রতিদিন ৫ থেকে ১০ কি.মি ঘুরে গরু আনতে হয় ঐতিহ্যবাহী বামুন্দী হাটে। সেতুর পাশে রাস্তা হলে আমাদের জন্য অনেক উপকার হবে।

মধুগাড়ি গ্রামের সবজি বিক্রেতা সুজন দাস বলেন, গ্রামে গ্রামে সবজি কেনার পর সেগুলো মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গায় বিক্রি করতে যায়। সংযোগ সড়ক না থাকায় বাড়তি ভাড়া দিয়ে নাটনাপাড়া ও গরুডা ঘুরে সবজি বিক্রি করতে যেতে হয়। এর ফলে আমাদের বাড়তি ভাড়া দিতে হয় গাড়িচালকদের। সংযোগ সড়ক হলে আমাদের ইনকামের সোর্স আরো বেড়ে যাবে।

কৃষক নয়ন কুমার বলেন, আমরা প্রায় প্রতিদিন ৫-৬ বার মাঠে আসি এই সেতু হয়ে। সেতুটি সংযোগ সড়ক না থাকাই আমরা ঠিকমত ফসল করে তুলতে পারছি না। এর ফলে লেবারদের বাড়তি টাকা দিয়ে ফসল কেটে ঘরে তুলতে হচ্ছে। সড়ক হলে আমাদের অনেক উপকার হবে।

বোয়ালিয়া ইউনিয়নের আ.লীগের সাবেক সভাপতি আলাবুল ইসলাম মাষ্টার বলেন, সাড়ে ৭ ব্যয়ে নির্মিত সেতুটি সংযোগ সড়ক হলে দুই উপজেলার মানুষের যাতায়াতের অনেক সুবিধা হবে। এই সেতুর সংযোগ সড়ক হলে ব্যবসা-বাণিজ্য শিক্ষা-দীক্ষায় অনেক বড় অবদান রাখবে। ওর সাথে দুই উপজেলার মানুষের বন্ধুত্বসুলভ আচরণ আরো অনেক বেশি বৃদ্ধি পাবে।

০৮ নং ওয়ার্ড কাজীপুর ইউনিয়ন ইউপি সদস্য সাইদুর রহমান বলেন, সেতুটি নির্মাণের জন্য দুই বছর আগে ভিত্তি প্রস্তরের উদ্বোধন করেন মেহেরপুর-০২(গাংনী) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ সাহিদুজ্জামান খোকন এমপি। সে সময় জমি দিতে  চেয়েছিলেন অনেকেই, এখন জমি দিতে না চাওয়াই সংযোগ সড়ক হচ্ছে না। ব্রিজের সংযোগ সড়ক হলে প্রতিদিন এই ব্রিজ দিয়ে ২০-৩০ হাজার মানুষ যাতায়াত করবে। সংযোগ সড়ক না থাকায় ভোগান্তি নিয়ে ৫-১০ কিলোমিটার ঘুরে গন্তব্যস্থলে যেতে হচ্ছে মানুষকে।

কফিল এ্যান্ড কোহিনুর এন্টারপ্রাইজের ঠিকাদার জানমহাম্মদ মিন্টু বলেন,সেতু নির্মাণের সময় অনেকেই সংযোগ সড়কের জন্য রাস্তা দিতে চেয়েছিলেন। সেতু নির্মাণের পর অনেকেই সংযোগ সড়কের রাস্তা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর কারণেই সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা সম্ভব হচ্ছে না। ইতিমধ্যেই আমরা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সাথে কথা বলেছি। দ্রæত সময়ের মধ্যে সংযোগ সড়ক নির্মাণের আশ্বাসও পেয়েছি।

গাংনী উপজেলা প্রকৌশলী ফয়সাল হোসেন জানান, কাজ শুরুতে জমির মালিকেরা অ্যাপ্রচ রাস্তার জন্য জমি দিতে চেয়েছিলেন। ভূমি মূল্য বেশি হওয়ায় তারা এখন দিতে রাজি হচ্ছে না। পিডি স্যারের অনুমোদন নিয়ে ভূমি অধিগ্রহণ এর জন্য জেলা প্রশাসক মহোদয়ের কাছে প্রস্তাব পেশ করেছি। ভূমি অধিগ্রহণ হয়ে গেলেই রাস্তার কাজ শেষ করা হবে।