গাংনীতে পুত্রের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে পিতা খুন। পুত্র আটক
টপ নিউজ আইন-আদালত মেহেরপুর

গাংনীতে পুত্রের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে পিতা খুন। পুত্র আটক

সবার সংবাদ ডেস্ক:

মেহেরপুরের গাংনীতে ছেলে সুজন আলীর ধারালো অস্ত্রের আঘাতে বাবা আফেল উদ্দীন (৬০) হত্যা হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১ টায় উপজেলার কাজিপুর ইউনিয়নের হাড়াভাঙ্গা কালিতলা পাড়ায় এই ঘটনা ঘটে। নিহত আফেল উদ্দীন হাড়াভাঙ্গা কালিতলা পাড়ায় ইয়াদ আলীর ছেলে।

আফেল উদ্দীনের স্ত্রী তহমিনা খাতুন জানান, সুজন আলী ও তার বাবা আফেল উদ্দীন দুজনে বাড়িতে থাকাবস্থায় তিনি বাড়ির পার্শ্বে একটি দোকানে ডিম কিনতে যায়। সেখান থেকে বাড়ি ফিরে স্বামীর রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে। এ সময় ছেলে সুজন আলীকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে সুজন তার বাবাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যা করে পালিয়ে যায়। 

কাজীপুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মো: মহিবুল ইসলাম বলেন, ইতোপূর্বে সুজন আলী তার বাবাকে মারধর করেছে বলে প্রতিবেশিরা জানিয়েছে। তবে, সে মানসিকভাবে অসুস্থ হওয়ায় বেশ কিছু দিন রাজশাহী, পাবনা সহ বিভিন্ন হাসপাতালে সুজন আলীকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। সুজন গাংনী ডিগ্রী কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী ছাত্র ছিলো।

স্থানীয়রা জানান, সকালে আফেল উদ্দীনের সাথে তার ছোট ছেলে সুজন আলী গরু বিক্রির টাকা চাই। বাবা ছেলেকে টাকা না দিতে চাইলে ছেলে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠানে থাকা হাসুয়া দিয়ে কুপিয়ে কোপ দিলে ঘটনাস্থলেই ছেলের আঘাতে পিতার মৃত্যু হয়। মা তহমিনা খাতুন বলেন-ছেলেকে দৌঁড়ে পালাতে দেখেছি। কিন্তু হাসুয়া দিয়ে আঘাত করতে দেখিনি। জানা গেছে-সুজন কয়েক বছর আগে এলাকার এক মেয়ের সাথে বিয়ে করে। বিয়ের পর তার স্ত্রী সংসার না করে বাবার বাড়িতে চলে যায়। এই কারণে সুজন অনেকটা মানসিক বিপর্যস্ত ছিলো।

এদিকে পিতাকে হত্যাকারী পুত্র সুজন (৩৫) কে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার বিকেলে বাড়ির পাশের মাঠ থেকে তাকে আটক করে। আটক সুজন উপজেলা কাজীপুর ইউনিয়নের হাড়াভাঙ্গা কালিতলাপাড়া গ্রামের মৃত আফেল উদ্দীনের ছেলে। গাংনী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক জানান, সকালে সুজন তার পিতাকে হাসুয়া (দেশিও অস্ত্র) দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশের একাধিক টীম বাড়ির পাশে মাঠে অভিযান চালিয়ে সুজনকে আটক করে।