মেহেরপুরে থাইল্যান্ডের কাটিমন আম চাষ করে লাভবান শিক্ষক ফারুক
টপ নিউজ জাতীয় কৃষি সারাদেশ

মেহেরপুরে থাইল্যান্ডের কাটিমন আম চাষ করে লাভবান শিক্ষক ফারুক

সবার সংবাদ ডেস্ক :

মনকাড়া স্বাদ হওয়ায় নাম দিয়েছে কাটিমন আম। বারোমাসি এই আম হয় বছরে ৩ বার। অমসয়ের এই আম চাষে খরচ কম লাভ বেশি হওয়ায় মেহেরপুরের চাষীরা দেখাদেখি ব্যাতিক্রমি এই কাটিমন জাতের আম চাষে ঝুঁকেছে। কৃষিকে লাভজনক করতে মেহেরপুর কৃষি বিভাগ জেলার তিন উপজেলায় এই কাটিমন জাতের আমের চাষ ছড়িয়ে দিতে কাজ করে যাচ্ছেন বলে জানালেন। মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার শিক্ষক গোলাম ফারুক শখের বসে প্রথম এই জাতের আমের বাগান তৈরি করে সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছেন। 

যখন কোথাও আম পাওয়া যায় না তখন মেহেরপুরে উৎপাদিত সুস্বাদু কাটিমন আম নজর কেড়েছে সবার। বারোমাসি এই আম বছরে তিনবার ফল দেয়। লম্বা আকৃতির এই আম কাঁচা অবস্থায় সবুজ হলেও পেকে গেলে আমের ভিতর বাইরে ঘন হলুদ রংয়ের হয়। স্বাদে গন্ধে মনকাড়া হওয়ায় স্থানীয়ভাবে এটা কাটিমন আম হিসাবে পরিচিতি পেয়েছে। এক বিঘা জমিতে ৪০টি গাছ লাগানো সম্ভব। চারা লাগানোর ৭ মাস পর গাছে ফলন দেয়। প্রতিগাছে ১০ থেকে ১৫ কেজি আম উৎপাদন হয়। বর্তমানে ৩৫০টাকা কেজি দরে এই আম বিক্রি হচ্ছে বাজারে। সেই হিসাবে এক বিঘা জমিতে এই আম চাষ করে বছরে ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ের বদলে ৬লাখ ৩০হাজার টাকা আয় হয়। ব্যাগিং পদ্ধতির কারণে এই আমে ভাইরাস পোকামাকড় মুক্ত হয়। মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার জোড়পুকুরিয়া গ্রামের শিক্ষক গোলাম ফারুক করোনাকালে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় পরীক্ষামূলক ৩১ শতক জমিতে এই আমের চাষ করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন সবাইকে। এখন তার দেখাদেখি অনেকেই কাটিমন আম চাষ করছেন। কৃষিবিভাগ জানান- মেহেরপুরের মাটি এবং আবহাওয়া উপযোগী হওয়ায় থাই জাতের এই আম উৎপাদন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। অসময়ে হওয়ায় এই আমের বাজার দর এবং চাহিদা বেশি হওয়ায় লাভজনক এই চাষ।গ্রামের উৎসাহি যুবক সোনা খান বলেন- শুনেছি এই আম খুবই সুস্বাদু। দেখতে যেমন সুন্দর তেমনি খেতেও মিষ্টি। তাই আমার মত অনেকেই ব্যাতিক্রম জাতের এই আম চাষে উৎসাহি। শিক্ষক নেতা ফারুক হোসেনের মত এই গ্রামের অনেকেই থাইল্যান্ডের কাটিমন আম মেহেরপুরে চাষ করতে আগ্রহী হয়েছে। আমরা কয়েকজন মিলে আমের চাষ পদ্ধতি জানতে এই বাগানে এসেছি। শুনলাম এই আম চাষে ঝুঁকি এবং ব্যয় কম। উপরন্ত লাভ বেশি।

আম চাষী গোলাম ফারুক বললেন- ব্যাগিং পদ্ধতিতে গাছে এই আম উৎপাদন করা হয়। ফলে সম্পূর্ণ কীটনাশক, বিষ ও ভাইরাসমুক্ত এই আম। দেড়বছর আগে করোনা পাঠদানের সময় ৩১ শতক জমির উপর বাগানটি করি। শখের বসে এবং ব্যাতিক্রমী কিছু চাষের নেশায় থাইল্যান্ডের কাটিমন জাতের আমের চারা সংগ্রহ করে চাষ শুরু করি। আমাদের দেশের আবহাওয়া এবং পরিবেশের জন্য এই আম চাষ খুবই উপযোগী। বছরে তিনবার ফল দেয় এই আম। একবিঘা জমিতে ৪০ থেকে ৫০ টা গাছ লাগানো সম্ভব। প্রতিটা গাছে নুন্যতম ১৫-২০ কেজি আম হয়। প্রতিবিঘায় সবোর্চ্চ ২০ হাজার টাকা খরচ হয়। বাজারে এই আম ৩শ থেকে ৪শ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। সেই হিসাবে প্রতি বিঘায় ৩ থেকে ৪ লাখ টাকার আম বিক্রি করা সম্ভব। যা অন্য কোন ফল উৎপাদনে এত আয় সম্ভব না। তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবার আরও বেশি পরিমান জমিতে এই আমের চাষ করার।

গাংনী উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা জুয়েল রেজা জানান- কৃষি বিভাগ এই আমের উৎপাদন বৃদ্ধিতে সব ধরণের পরামর্শ ও সহায়তা দিতে বাগান পরিদর্শনে যায়। গোলাম ফারুকের কাটিমন জাতের আম এখন সবার দৃষ্টি কেড়েছে। অনেকেই এই আম চাষে আগ্রহ প্রকাশ করে কৃষি অফিসে আসছে। কৃষি বিভাগও তাদেরকে এই আম চাষে উৎসাহ দিচ্ছে। কারণ এই আম চাষে ঝুঁকি কম, লাভ বেশি। খুবই লাভজনক হওয়ায় অসময়ের এই কাটিমন আম সর্বত্র ছড়িয়ে দিতে কৃষিবিভাগ কাজ করছে।

মেহেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক সামসুল আলম বলেন- বারোমাসি এই আম অসময়ে হয়। তাই চাহিদা এবং বাজারদর ভালো হওয়ায় চাষী লাভবান হচ্ছে কাটিমন আম চাষ করে। এই জেলার মাটি এবং আবহাওয়া কৃষিবান্ধব। তাই জেলার প্রতিটি জমিতেই সারাবছর বারোমাসি ফসল, সব্জী এবং ফল উৎপাদন সম্ভব হয়। কৃষিবিভাগ বারোমাসি এই কাটিমন আম চাষ বৃদ্ধিতে চাষীদের পরামর্শ এবং সহয়োগীতা করে যাচ্ছে।