জালের ফাঁদে নিষ্ঠুরতার বলি পাখিকুল
টপ নিউজ মেহেরপুর

জালের ফাঁদে নিষ্ঠুরতার বলি পাখিকুল

সবার সংবাদ ডেস্ক:

বৈশাখ শেষ প্রান্তে,কিছুদিন পর জ্যৈষ্ঠ মাস আগত। আম জাম কাঁঠাল পাকতে কিছুদিন দেরি হলেও লিচু সবার আগে হাজির হয়েছে বাজারে। বাগানের আঁটি লিচুগুলো খাওয়ার উপযোগী হয়েছে, ভালো দাম পাওয়ায় লিচু বিক্রয় করে আনন্দিত বাগান মালিকরা। এই আনন্দ মলিন হচ্ছে দেশিও পাখি নিধনে।

লিচু,আম, জাম বাগানের ফল রক্ষায় জালের ফাঁদে মারা পড়ছে হরেক রকমের দেশি পাখি। পাখি পরিবেশ রক্ষার এক উপকারী প্রাণী। এই ফলের বাগানে ঝাঁকে ঝাঁকে শালিক, বুলবুলি,ঘঘু,বাদুর পাখিসহ নানা প্রজাতির পাখি এসে ভিড় করে। পাখির হাত থেকে ফল রক্ষার জন্য গাছ জাল দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। এতে ফল খেতে আসা প্রাণীগুলো জালে আটকা পড়ে মারা পড়ছে। পাখির মধ্যে শালিক,বাদুড়  ও বুলবুলির সংখ্যাই বেশি।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পাখি পরিবেশ রক্ষার জন্যে এক উপকারী প্রাণী রক্ষা করার দায়িত্ব আমাদের। প্রতি বছর বাগানের ফল পাখির হাত থেকে রক্ষার জন্য এভাবে জাল দিয়ে ঢেকে দেন বাগান মালিকরা। এতে বিভিন্ন ধরনের পাখি সেই জালে আটকা পড়ে মারা যায়। পাখি ক্ষেতের কীটপতঙ্গ খেয়ে ফসল রক্ষা করে। আর এই ফল রক্ষার জন্য এভাবে পাখি হত্যা করা হচ্ছে। ফল রক্ষার জন্য বাগানের গাছগুলো জাল দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। জালে পাখি আটকে মারা যাচ্ছে। বাগানের পাশে আটকে পড়া পাখি মৃত অবস্থায় পড়ে আছে। আবার ভয় দেখানোর জন্য সেই মৃত পাখি লাঠির মাথায় বেঁধে ঝুলিয়ে রাখা হয়।

বাগান মালিকরা  বলেন, বাগানের ফল রক্ষার জন্য জাল দেওয়া হয়েছে। এরপরও পাখি ফল নষ্ট করছে। ছোট ছোট ছেলেরা না বুঝে পাখি তাড়াতে গিয়ে দুই একটি মেরেও ফেলছে। আমরা কখনো পাখি মারি না। পাখি অনেক ফল নষ্ট  করে।

বন্যপ্রাণী আইনে ফাঁদ পেতে কোনো প্রাণী হত্যা আইনত অপরাধ। কোনো ব্যক্তি যদি এমন করে পাখি হত্যা করে তা আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন। পাখি আমাদের পরিবেশের জন্য উপকারী। এরা ক্ষেত খামারের ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ খেয়ে ফসল রক্ষা করে এবং পরিবেশের ভারসম্য রক্ষা করে যা সর্বজনীন ভাবা উচিত।