সবার সংবাদ ডেস্ক:
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার ধর্মচাকী গ্রামের মৃত কাবরান আলীর ছেলে দিনমজুর রুবেল হোসেন (৩০) এর নামে বাঁশ চুরির মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে সাংবাদিক সম্মেলন করা হয়েছে। শুক্রবার (১৫ ডিসেম্বর) সকালে ধর্মচাকী গ্রামে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনের নেতৃত্ব দেন দৈনিক সকালের সময় পত্রিকার প্রতিনিধি লিটন মাহমুদ। এসময় উপস্থিত ছিলেন রুবেল হোসেন, মতিয়ার রহমানসহ ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
মামলার এজহার সৃত্রে জানা গেছে চেংগাড়া গ্রামের বিএনপি নেতা আঃ হালিমের ছেলে মাসুদুর রহমান গত ১২/১২/২০২৩ তারিখে সকাল সাড়ে ১১ টার সময় গাংনী থানায় ১ জনের নাম উল্লেখ করে অগাত নামা আরো ৪/৫ জনকে আসামী করে একটি বাঁশ চুরির লিখিত অভিযোগ দেন।
অভিযোগের ভিত্তিতে গাংনী থানার এস আই আতিক মামলা তদন্ত করে গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে বাঁশচুরির ঘটনা সত্য বলে জানালে রাতে একটি জি,আর ৩৪৭/২০২৩ মামলা দায়ের করেন। যার গাংনী থানার মামলা নং ১৫ তারিখ ১২/১২/২০২৩ ইং ১৪৩, ৪৪৭, ৪২৭, ৩৭৯, ৫০৬, ১১৪ ধারায় মামলাটি করা হয়েছে। মামলা হওয়ার পর থেকে গাংনী থানার এসআই আতিক আসামী রুবেলের বাড়ীতে রাত দিন অভিযান অব্যাহত রেখেছেন। এছাড়াও আসামীদের হুমকি দিচ্ছেন।
আসামী রুবেল হোসেন জানান, আমি কোদালের ডামাট করার জন্য একটি চিকন বাঁশ কেটেছিলাম, এজন্য থানায় ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়ার পরেও এসআই আতিক আমার নামে মিথ্যা ৬০টি বাঁশ কাটাসহ ১ লক্ষ টাকার তসরুপাত করার মিথ্যা মামলায় অভিযুক্ত করেছে। আমি সাংবাদিকদের মাধ্যমে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করতে পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তার সুদৃষ্টি কামনা করছি। এমন ঘটনা আর যেন কারোর সাথে না ঘটে। এসআই আতিক বাদীর সাথে চুক্তি করে আমাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়েছে।
রুবেল হোসেন অভিযোগ দিলে সরেজমিনে গিয়ে বাঁশ বাগানে একটি চিকন বাঁশ কাটার দাগ ছাড়া আর কোন প্রামান পাওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে লাশিসী জমির পাশের বাড়ীর মৃত মোজাহার আলী মালীথার ছেলে ফেসেরতুল্লা জানান, এই বাঁশ বাগানের জায়গাটা ধর্মচাকী গ্রামের মৃত আছালত মোল্লার বাবা বানাত মোল্লার ছিলো। আমরা শুনেছি আছালত মোল্লা কোটে মামলা করে রায় পেয়েছেন। আছালত মোল্লার মৃত্যুর পর তার ছেলে মেয়েরা আদালতে মামলা করেছে। মামলা হওয়ার পর থেকে কোন পক্ষ বাঁশ বাগানে আসেনা বাঁশ কাটা বন্ধ আছে। এই বাঁশ বাগান থেকে অল্প দিনের মধ্যে কেউ কোন বাঁশ কাটেনি।
আমি শুনলাম দিনমজুর রুবেলের নামে মামলা হয়েছে এই বাঁশ বাগানে ১ বছরের মধ্যে কেউ বাঁশ কাটেনি সম্পূর্ণ মিথ্যা মামলা দিয়েছে। পুলিশের এধরনের মিথ্যা মামলা দেওয়া ঠিক হয়নি। এ ব্যপারে জমির প্রকৃত মালিক মৃত আছালত মোল্লার ওয়ারিশ আব্দুল লতিফ ছেলে সাংবাদিক লিটন মাহমুদ বলেন, আমাদের ধর্মচাকী মৌজার সি এস ১২৮ খতিয়ান ভুক্ত ৪ একর ১০ শতক ও সিএস ১২৯ নং খতিয়ানে ১১ একর ৮১ শতক জমি নামদার মোল্লা বানাত মোল্লা নামে প্রচলিত থাকা অবস্থায় কিছু জমির এস এ রেকর্ড অন্যদের নামে হলে আমার দাদা আছালত মোল্লা বাদী হয়ে ১৯৭৬ সালে গাংনী সহকারী জজ আদালতে মামলা করে ১৯৮৬ সালে রায় পেয়েছেন।
আমার দাদার মৃত্যুর পর আমার বাবা আব্দুল লতিফসহ চাচারা আবারো চেংগাড়া গ্রামের মৃত মসলেম হোসেনের ছেলে বিএনপি নেতা আঃ হালিম দিং এর নামে ভুল রেকর্ডের বিরুদ্ধে সহকারী জজ আদালতে দেওয়ানি ৬০/২০২৩ ও ১৪/২০২৩ মামলা করেছেন। বর্তমান মামলা দুটি বিচারাধীন আছে। লিটন মাহমুদ আরও জানান, হঠাৎ গাংনী থানার এসআই আতিক আমাকে বলেন আপনার নামে বাঁশ কাটার অভিযোগ রয়েছে। আপনি থানায় আসেন। পরের দিন সকালে গাংনী থানায় উপস্থিত হয়ে জানাতে পারলাম আমার নামেসহ প্রতিবেশী রুবেল হোসেন, মতিয়ার রহমানের নামে আঃ হালিমের ছেলে অভিযোগ দিয়েছে।
আমি পুলিশের সামনে বাদিকে বললাম আমার নামে অভিযোগ দিয়েছেন, সে বলে দিয়েছি কেন তোমার নির্দেশে রুবেল বাঁশ করেছে। এসআই আতিক রুবেলের নিকট জানতে চাইলে রুবেল বলেন আমাকে কেউ নির্দেশ দেয়নি। আমার কোদালের ডামাট করার জন্য একটি চিকন বাঁশ কেটেছিলাম। আমার ভুল হয়েছে আমাকে ক্ষমা করেন। আমি এসআই আতিক ভাইকে বললাম মামলা হওয়ার পর থেকে কোন পক্ষ বাঁশ বাগানে আসেনা। বাঁশ কাটা বন্ধ আছে। আমার নামে মিথ্যা অভিযোগ কেন দিলেন, বাদীর নিকট জানতে চান। অভিযোগ কারী বলেন, আমি মনে করেছিলাম লিটন মাহমুদ বাঁশ কাটার নির্দেশ দিয়েছিল। একারনে আমি অভিযোগ দিয়েছি।
পরে এস আই আতিক আমাকে বলেন, তোমার কি কাজপত্র আছে দেখাও। আমি সিএস রেকর্ড ও সহকারী জজ আদালতের রায়ের ফটো কপি ও চলমান মামলার ইনফর্মেশন ফিলিপ তার হতে দিলাম। হাতে নেওয়ার পরে সে আমাকে বলে তুই কাগজপত্র কি বুঝিস এই সব কাজপত্রে জমি হবে না বলে কাজগপত্র ফেলে দেন। যার নামে রেকর্ড আছে সে মালিক, জমি ছেড়ে না দিলে তোর নামে চুরির মামলা দিবো। তখন আমি বললাম, আমি যদি কোন অপরাধ করি তাহলে আমার নামে মামলা দেন বলে থানা থেকে চলে আসি। এসময় এস আই আতিক বলেন এ্যডিশনাল ডিআইজি জয়নাল স্যারের নির্দেশ আছে। বাদীর পক্ষে স্যার ফোন দিয়েছিল।
পরে জানতে পারলাম, অসহায় দিনমজুর রুবেল হোসেনের নামে ৬০টি বাঁশ চুরিসহ এক লক্ষ টাকার তসরুপাত করার মামলা দিয়েছে। আমি মনে করি একজন দিনমজুর ব্যক্তির নামে এধরনের মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা ঠিক হয়নি। পরে আমি বাঁশ বাগানে গিয়ে দেখি একটি চিকন বাঁশ কাটার দাগ ছাড়া আর কোন প্রমান পাওয়া যায়নি। সম্পূর্ণ মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়েছে। এঘটনায় আমি পুলিশ সুপার মহোদয়ের সু-দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি।







