গাংনীতে মাতৃত্বকালীন ভাতা কার্ডে টাকা নেয়ার অভিযোগ
অন্যান্য মেহেরপুর

গাংনীতে মাতৃত্বকালীন ভাতা কার্ডে টাকা নেয়ার অভিযোগ

সবার সংবাদ ডেস্ক:

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার জালশুকা গ্রামে মাতৃত্বকালীন ভাতা কার্ড করে দেওয়ার নাম করে ইউপি মেম্বার বাসার ও নাসরিন খাতুনের বিরুদ্ধে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীরা জানান, মাতৃত্বকালীন ভাতা কার্ড করে দেওয়ার নাম করে ৩ থেকে ১০ হাজার পর্যন্ত টাকা নিচ্ছেন ইউপি মেম্বার বাসার ও নাসরিন খাতুন। টাকার বিষয়ে অন্য কারো সাথে কোন প্রকার আলোচনা করলে নাম কেটে দেওয়ার হুমকিও দেন এই দুই ইউপি মেম্বার।

তারা আরো জানান, প্রায় ২০-২৫ জনের কাছে থেকে টাকা নিয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জানান, গত সাত মাসে ২৪৫ মাতৃকালীন কার্ড করা হয়েছে ধানখোলা ইউনিয়নে। প্রত্যেকের কাছে টাকা নিয়েছেন সকল ওয়ার্ডের ইউপি মেম্বার ও চেয়ারম্যান। এছাড়াও প্রতি মাসে ৩৫টি করে কার্ড পাচ্ছে ধানখোলা ইউনিয়নের মেম্বার ও চেয়ারম্যান। টাকা না দিলে মেম্বার, চেয়ারম্যানদের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হয়। টাকা দেওয়ার কয়েকদিনের মধ্যে কার্ড সম্পন্ন করে দেন তারা।

ইউপি মেম্বার বাসার জানান, আমি এলাকার মানুষের জনপ্রতিনিধি টাকা নেওয়ার বিষয় কোন প্রশ্নই ওঠে না। যদি কেউ বলে থাকে ষড়যন্ত্রমূলক আমাকে ফাঁসানোর জন্য বলেছে।

সংরক্ষিত আসনের মহিলা ইউপি মেম্বার নাসরিন খাতুন জানান, সামান্য মিষ্টি খাওয়া বাবদ কয়েকজনের কাছ থেকে টাকা নিয়েছি। তবে তিন থেকে ১০ হাজার টাকা কারো কাছে থেকে নেওয়া হয়নি।

ধানখোলা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক জানান, টাকা নেওয়ার বিষয়টি সত্য নয়। যদি কোন মেম্বার টাকা নিয়ে থাকে আর ভুক্তভোগীরা লিখিত অভিযোগ করলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

গাংনী উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নাছিমা খাতুন জানান, বিষয়টি আমার জানা নেই, এখন পর্যন্ত কোন ভুক্তভোগী লিখিত অভিযোগ করেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাজিয়া সিদ্দিকা সেতু জানান, সরকার মা ও শিশুর সুরক্ষায় মাতৃত্বকালীন কার্ডের সুযোগ করে দিয়েছেন। এখান থেকে মেম্বার, চেয়ারম্যানরা টাকা নিয়ে থাকে আর কোন ভুক্তভোগী অভিযোগ করলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।