সবার সংবাদ প্রতিবেদক:
মেহরপুর জেলার ব্রিটিশ আমেরিকা টোব্যাকো কোম্পানির এরিয়া ম্যানেজার সাইফুল ইসলাম, এফটি অফিসার মোজাম্মেল হক ও লিফ অফিসার তুহিন হোসেনের বিরুদ্ধে তামাক ক্রয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। গাংনী উপজেলার ধর্মচাকী, কালি গাংনী, নওয়াপাড়ার গ্রামের প্রায় ১০০ তামাক চাষীর সাথে প্রতারনার মাধ্যমে তামাক ক্রয় শুরু করেছেন। এরিয়া ম্যানেজার সাইফুল ইসলাম। তিনি যোগদান করার পর থেকে মেহেরপুর জেলার চাষীদের ঠকিয়ে কম দামে তামাক ক্রয় করছে।
এছাড়াও মেহেরপুর জেলার চাষীদের তামাক ক্রয় বন্ধ রেখে কুষ্টিয়া জেলার তামাক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে দৌলতপুর, কাতলামারীর তামাক ব্যবসায়ী বাহারুল ইসলামের সাথে যোগসাজশে গোপনে তামাক ক্রয় করার অভিযোগ রয়েছে।
এই ঘটনায় ক্ষোভে দুঃখে শুক্রবার বিকেলে গাংনী উপজেলার কালি গাংনী গ্রামের ব্রিটিশ কোম্পানির তামাক চাষী মানিক হোসেন তামাকের বেলে আগুন লাগিয়ে দেন। এসময় গ্রামবাসির চেষ্টায় আগুন নেভানো হয়। তামাক চাষী মানিক হোসেন বলেন,আমার ৪০ বেল তামাক আছে। তামাক কোম্পানির এরিয়া ম্যানেজার সাইফুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তামাক নেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন। এখন তামাক পুড়িয়ে না ফেলে কী করবো? তামাক কি আমি খাবো? পুড়িয়ে ফেলা ছাড়া আমার কিছু করার নেই। তামাক চাষীদের সাথে কোম্পানি প্রতারণা করছে।
একই গ্রামের তামাক চাষী আনারুল ইসলাম, হামিদুল ইসলাম জানান,আমি ব্রিটিশ টোব্যাকো কোম্পানির তামাক চাষী। আমার ৩০ বেল তামাক আছে, আমি তামাক কোম্পানির সাথে যোগাযোগ করলে তারা বলেন, আমাদের চাহিদা অনুযায়ী তামাক নেওয়া হয়ে গেছে। কোম্পানির নির্দেশে তামাক ক্রয় বন্ধ ঘোষনা করা হয়েছে।
তামাক ক্রয় বন্ধ ঘোষনার পরেও মেহেরপুর জেলার চাষীদের গোপন করে বাইরের জেলার দৌলতপুর ও কাতলা মারীর তামাক ব্যবসায়ী বাহারুল ইসলামের মাধ্যমে এফটি অফিসার মোজাম্মেল হক মেহেরপুর ডিপোতে গত ১ সপ্তাহ আগে ১ হাজার বেল তামাক ক্রয় করেছেন।
আমরা অনেক পরিশ্রম করেও তামাকের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছিনা। অথচ ব্যবসায়ীরা এরিয়া ম্যানেজার সাইফুল ইসলাম ও তার সহযোগীদের গোপনে ম্যানেজ করে তামাক বিক্রয় করে লাভবান হচ্ছেন।
কৃষকরা আরও বলেন, এরিযা ম্যানেজার সাইফুল ইসলাম গড়ে তুলেছেন বড় ধরনের সিন্ডিকেট। আর সেই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দাম দিয়ে ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে তামাক ক্রয় করে একদিকে লুটপাট করছে কোম্পানির বিপুল পরিমান অর্থ। অপরদিকে দালাল চক্রের ফাদে ফেলে অনেক তামাক চাষীকেই সর্বশান্ত করেছে বলে অভিযোগ করেন চাষিরা।
দালাল চক্রের ফাদে তামাক চাষীরা যেমন সর্বশান্ত হয়েছে তেমনি সেচ্ছাচারিতা, স্বজনপ্রতি লুটপাট ও দালালদের মাধ্যমে তামাক লেনদেনের কমিশন নিয়ে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন সাইফুল ইসলাম । অনিয়মের কারণে মেহেরপুর জেলা থেকে দিনদিন কমছে তামাক চাষ।
কোম্পানি থেকে ঋণ নেয়ার পরিমান মত টাকার তামাক ক্রয় করছে। টাকা পরিশোধ হওয়ার পর আর কোন তামাক কিনছেনা। অথচ সেইসব চাষীদের কার্ড দালালের মাধ্যমে কতিপয় ব্যবসায়ী ও নামধারী চাষীদের কাছ থেকে তামাক ক্রয় করছে। পরে চাষীদের কাছে ব্যাংকের চেক দাবি করছে। চেক না দিলে কার্ড কেটে দেওয়ার হুমকী দেওয়া হচ্ছে। তামাক চাষ বৃদ্ধি, চাষীদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত ও মেহেরপুর ব্রিটিশ আমেরিকা টোব্যাকোর হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকরা।
এ ব্যাপারে সাইফুল ইসলামের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অন্য জেলার তামাক ক্রয়ের ঘটনা অস্বীকার করে বলেন, তামাক ক্রয় বন্ধ হয়নি,তামাক ক্রয় চলছে। চাষীদের সব তামাক নেওয়া হবে। তামাক পুড়িয়ে ফেলার ঘটনা জানা নাই আপনাদের ভুল তথ্যা দেওয়া হয়েছে।







