দালালের খপ্পরে পড়ে প্রাণ গেল গাংনীর বাদশার
টপ নিউজ মেহেরপুর

দালালের খপ্পরে পড়ে প্রাণ গেল গাংনীর বাদশার

সবার সংবাদ ডেস্ক:

প্রবাসে গিয়ে পরিবারের সফলতা ফেরানোর জন্য দালালের হাতে টাকা দিয়েছিলেন বাদশা মিয়া (২৫)। বাদশাকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়ার নাম করে সাতবার ঢাকায় নিয়ে যায় দালাল চক্রটি। শেষ পর্যন্ত দালালের খপ্পরে পড়ে প্রাণ দিতে হলো বাদশাকে। বাদশা মেহেরপুর গাংনী উপজেলার মন্দা মাঝের গ্রামের রিফিউজি পাড়ার বজলুল হকের ছেলে।

বৃহস্পতিবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকাল তিনটার দিকে নিজ ঘরের গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। বাদশার চাচা বিল্লাল হোসেন জানান, গত দু'বছর আগে বাদশা সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরেছেন। বছর আগে পরিচয় হয় চেংড়া গ্রামের নঈমদ্দিনের ছেলে নুরুল ইসলাম সাথে। বিদেশ যাওয়ার কথা বলে ৯ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন নুরুল ইসলাম। তাকে ৭ বার ঢাকায় নিয়ে যান নুরুল।

পরিবারের চাপের একপর্যায়ে নুরুল ইসলাম গত এক মাস আগে চেংগাড়া গ্রামের আজিজুল হকের ছেলে শাহাবুদ্দিনের মাধ্যমে বাদশাকে বিদেশে পাঠানোর কথাবার্তা চূড়ান্ত করে। বুধবার বাদশা শাহাবুদ্দিনের সাথে কথা বললে তিনি নির্দিষ্ট কোন তারিখ জানাতে ব্যর্থ হন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে বাদশা আবারো শাহাবুদ্দিনের সাথে মোবাইল ফোনে কথাবার্তা শুরু করে। শাহাবুদ্দিন আবারো নির্ধারিত কোন তারিখ জানাতে না পারায় মোবাইল ফোন রেখে নিজ ঘরের আড়ার সাথে উড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে বাদশা।

চেংগাড়া গ্রামের নুরুল ইসলাম জানান, বাদশাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানোর প্রায় ১১ মাস আগে বাদশার পিতার কাছ থেকে ৮ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা জমা নেন। কিন্তু বাদশাকে সিঙ্গাপুরে পাঠাতে ব্যর্থ হওয়ায় বাদশার পিতাকে ডেকে একই গ্রামের আজিজুল হকের ছেলে শাহাবুদ্দিনকে এসএনবি ট্রাভেলস কোম্পানির মাধ্যমে সিঙ্গাপুরে পাঠানোর জন্য ৮ লাখ ৩০ হাজার টাকা বুঝিয়ে দেয়।

তারপর থেকে নুরুল ইসলামের সাথে বাদশা ও তার পরিবারের কোন সম্পর্ক নেই বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন তিনি। অপরদিকে, শাহাবুদ্দিন এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, প্রকৃতপক্ষে বাদশাহ হচ্ছে নুরুল ইসলামের ক্লাইন্ট। এবিষয়ে আমার চাইতে নুরুল ইসলাম ভালো বলতে পারবে।

গাংনী থানা ওসি তদন্ত মনোজিৎ কুমার নন্দী জানান, উপজেলার মুন্দা গ্রামে গলায় ফাঁস নিয়ে এক যুবকের আত্মহত্যার সংবাদ পেয়েছি। তবে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।