বিএমএর কেন্দ্রীয় কর্মসূচী অমান্যের অভিযোগ ডা: আবু তাহেরের বিরুদ্ধে
টপ নিউজ মেহেরপুর

বিএমএর কেন্দ্রীয় কর্মসূচী অমান্যের অভিযোগ ডা: আবু তাহেরের বিরুদ্ধে

সবার সংবাদ ডেস্ক:

ঢাকা সেন্ট্রাল হাসপাতালে প্রসূতি মাহবুবু রহমান আঁখি ও তার নবজাতক মৃত্যুর ঘটনায় দুই চিকিৎসক গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে ১৭-১৮ জুন সারাদেশে প্রাইভেট চেম্বার ও অপারেশন বন্ধ রাখার ঘোষণা করে চিকিৎসকরা। কেন্দ্রীয় বিএমএর এমন কর্মসূচীর অংশ হিসেবে মেহেরপুর জেলার সমস্ত ক্লিনিক ও প্রাইভেট প্রাকটিস চিকিৎসকরা বন্ধ রাখলেও, বন্ধ হয়নি মেহেরপুর বিএমএর সাধারণ সম্পাদক ডা: আবু তাহের পরিচালিত তাহের ক্লিনিকের কার্যক্রম। গতকালও রোগী দেখা এবং অপারেশন হয়েছে তাহের ক্লিনিকে এমন অভিযোগ খোদ চিকিৎসকদের।

স্থানীয় চিকিৎসকরা ডা: তাহেরের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করলে বিএমএর কেন্দ্রীয় সভাপতি অনুপম রায় তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে বলেছেন- মেহেরপুর জেলার বিএমএর তাহের সাহেব রোগী দেখা, অল্ট্রাসনো, অপারেশন সবই করছে। আপনি যেই হোন এসব বন্ধ করুন। আবার ডেট ছাড়া প্রেসক্রিপশন দিচ্ছেন। এমন প্রেসক্রিপশন নিয়ে  ঝামেলায় পড়বেন।

শনিবার (১৫ জুলাই) বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) ও অবস্ট্রেট্রিক্যাল অ্যান্ড গাইনেকোলজি সোসাইটি অব বাংলাদেশের (ওজিএসবি) যৌথ বৈঠক শেষে এই সিদ্ধান্ত জানানো হলেও তা মানছে না মেহেরপুরের তাহের ক্লিনিক। এ ব্যাপারে মেহেরপুর বিএমএর সদস্য ডা. মেহেদী হাসান লিটন জানান, ব্যক্তিগতভাবে আমাদের সাথে একমত পোষণ করেছেন ডা: তাহের। কিন্তু তিনি তার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। আর জোর করে তাকে বন্ধ রাখতে বলতে পারি না আমরা। ডা: তাহের বিএমএর কেন্দ্রীয় নির্দেশ অমান্য করলে কেন্দ্র তার ব্যবস্থা নিবে।

বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) মেহেরপুর জেলা কমিটির  সভাপতি ডা. আবুল বাশার জানান, আজ এবং আগামীকাল দুদিন আমাদের কর্ম বিরতি রয়েছে। আমরা জেলার সবাই একমত পোষণ করে কর্ম বিরতি পালন করছি। তাহের ক্লিনিক কর্মবিরতি পালন করছেন না এমন অভিযোগ কেউ করেনি। তিনি খোঁজ খবর নিয়ে পরে জানাবেন বলে জানান। মেহেরপুরে অন্যসব ক্লিনিক কেন্দ্রঘোষিত কর্মসূচী পালন করলেও তাহের ক্লিনিক কর্মসূচী অমান্য করায় চরম অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেক ক্লিনিক মালিক ও চিকিৎসক।

এবিষয়ে ডা: আবু তাহের বলেন, আমাদের যে কর্মবিরতি চলছে এটা বিএম এর কোন কর্মসূচি নয়। আবার প্রাইভেট ক্লিনিক এসোসিয়েশনের যে প্লাটফর্ম আছে তারও কর্মসূচি নয়। তই এ কর্মসূচি মানা বা না মানাই কারো কোন বাধ্যবাধকতা নেই। আমরা এ কর্মসূচির পালন করায় বাধা দিচ্ছি না। আমাদের এতে মৌন সমর্থন আছে। 

উল্লেখ্যঃ গত ৯ জুন সেন্ট্রাল হসপিটালে অধ্যাপক ডা. সংযুক্তা সাহার (গাইনি) অধীনে ভর্তি হন মাহাবুবা রহমান আঁখি। কিন্তু সেদিন ডা. সংযুক্তা হসপিটালেই ছিলেন না। পরে তার দুই সহযোগী চিকিৎসক আঁখির প্রসব করানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু জটিলতা দেখা দেওয়ায় নবজাতককে এনআইসিইউতে রাখা হয়।

একই সঙ্গে আঁখির অবস্থার অবনতি হলে তাকে ল্যাবএইড হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। ১০ জুন বিকেলে সেন্ট্রাল হসপিটালে আঁখির নবজাতক সন্তান মারা যায়। এ ঘটনায় আঁখির স্বামী ইয়াকুব আলী ধানমন্ডি থানায় ‘অবহেলাজনিত মৃত্যুর একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলায় ডা. শাহজাদী মুস্তার্শিদা সুলতানা, ডা. মুনা সাহা, ডা. মিলি, সহকারী জমির, এহসান ও হাসপাতালের ম্যানেজার পারভেজকে আসামি করা হয়। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন কে আসামি করা হয়েছে। মামলা দায়েরের পর ১৫ জুন রাতে ডা. শাহজাদী ও ডা. মুনা সাহাকে হাসপাতাল থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ১৮ জুন দুপুর ১টা ৪৩ মিনিটে ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মাহবুবা রহমান আঁখিও।