বাংলাদেশের তাকরীম, ১১১ দেশকে টেক্কা দিয়ে তৃতীয়
টপ নিউজ জাতীয় সারাদেশ

বাংলাদেশের তাকরীম, ১১১ দেশকে টেক্কা দিয়ে তৃতীয়

সবার সংবাদ ডেস্ক :

সম্মান, শ্রদ্ধা, অনুগ্রহের সাথে আচরণ করা অর্থ হলো তাকরীম। বাংলাদেশের শিশু তাকরীক যিনি ১১১ দেশকে টেক্কা দিয়ে কোরআন তেলোয়াতে ৩য় হয়েছেন। তিনি মাত্র ১৩ বছর বয়সে ইরানের তেহরানে অনুষ্ঠিত ৩৮তম ইরান আন্তর্জাতিক হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করেন। এছাড়াও, ২০২০ সালে রমজান মাসে বাংলাভিশন টেলিভিশন আয়োজিত হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হন। সেই তাকরিম এবার ২০২২ সালে সৌদি আরবের মক্কায় অনুষ্ঠিত ৪২তম বাদশাহ আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন। এ প্রতিযোগিতায় ১১১টি দেশের ১৫৩ হাফেজ অংশগ্রহণ করেন। প্রতিযোগিতার চতুর্থ শাখায় তাকরিম তৃতীয় স্থান অর্জন করেন। পুরস্কারের অর্থমূল্য ১ লাখ রিয়েল। এর মধ্যদিয়ে আবারও আন্তর্জাতিক হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতায় দেশের নাম উজ্জ্বল করলেন হাফেজ সালেহ আহমদ তাকরিম। সৌদি আরবের বাদশাহ আবদুল আজিজের নামে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতা মুসলিম বিশ্বের বড় ও মর্যাদাপূর্ণ একটি প্রতিযোগিতা। মক্কা নগরীতে এবার ৪২তম প্রতিযোগিতাটি অনুষ্ঠিত হয়। সেই প্রতিযোগীতায় তাকরীম বিজয় ছিনিয়ে আনে। সে মাত্র সাড়ে ৯ বছর বয়সে কোরআন মুখস্ত করে। 

বুধবার রাতে মক্কার পবিত্র হারাম শরিফে একটি বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে চূড়ান্ত বিজয়ীদের মধ্যে তৃতীয় বিজয়ী হিসেবে তাকরিমের নাম ঘোষণা করা হয়। এ সময় তার হাতে এক লাখ রিয়াল (প্রায় সাড়ে ২৭ লাখ টাকা) পুরস্কার, সনদ ও সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়। পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তার উপদেষ্টা ও মক্কা নগরীর গভর্নর খালেদ আল ফয়সাল বিন আবদুল আজিজ এবং দেশটির ইসলাম ও দাওয়াহবিষয়ক মন্ত্রী ড. আবদুল লতিফ বিন আবদুল আজিজ আলে শেখ সহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ। কুরআন হিফজের বড় এই প্রতিযোগিতায় বিশ্বের ১১১ দেশের ১৫৩ জন হাফেজকে ডিঙ্গিয়ে তাকরিম এই গৌরব অর্জন করল। সালেহ আহমাদ তাকরিম টাঙ্গাইলের নাগরপুর থানার ভাদ্রা গ্রামের হাফেজ আব্দুর রহমানের ছেলে।


তিনি গুলশান সোসাইটি জামে মসজিদের খতিব মুফতি মুরতাজা হাসান ফয়েজী মাসুম প্রতিষ্ঠিত ‘মারকাযু ফয়জিল কুরআন আল ইসলামি ঢাকা’র হিফজ বিভাগের শিক্ষার্থী। পবিত্র কুরআন প্রতিযোগিতার বৃহৎ এ আসরে অংশ নিতে গত ৯ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টা ৩৫ মিনিটে সৌদি এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে জেদ্দার উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন তাকরিম। এর আগে গত মে মাসে আন্তর্জাতিক কিরাত সংস্থা বাংলাদেশের তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত নির্বাচনি পরীক্ষায় প্রথম স্থান অর্জন করে লিবিয়ায় অনুষ্ঠিত ১০ম আন্তর্জাতিক হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের প্রতিনিধি নির্বাচিত হয় তাকরিম। লিবিয়ার বন্দরনগরী বেনগাজিতে আন্তর্জাতিক হিফজুল কুরআনের সেই বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সপ্তম স্থান অর্জনের পাশাপাশি সর্বকনিষ্ঠ প্রতিযোগী হিসেবে বিশেষ সম্মাননাও অর্জন করেন তিনি। তারও আগে তেহরানের আন্দিশাহ (আল-ফিকির) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ৩৮তম আন্তর্জাতিক হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতায় তাকরিম বিশ্বে প্রথম স্থান অর্জন করে বাংলাদেশের লাল সবুজের পতাকা বিশ্ব দরবারে সমুন্নত করে। ২০২০ সালের পবিত্র রমজান মাসে বাংলাভিশন টেলিভিশন আয়োজিত হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয় সালেহ আহমাদ তাকরিম।

বাংলাদেশের তাকরীম যে কোরআন তিলাওয়াত প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়, সেখানে সবাই দারুন তিলাওয়াত করেছেন। তাদের সবারই সুমধুর কণ্ঠ মুগ্ধ করার মতো। সঠিক উচ্চারণ আর সুন্দর কণ্ঠ মিলিয়ে দারুন এক প্রতিযোগিতা হয়। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা হলে তো সেখানে কম্পিপিটিশন আরও কঠিন হয়। বিচারক যারা থাকেন, তারা কাকে রেখে কাকে নির্বাচন করবেন—এক হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। এ রকমই একটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ১১১টি দেশের মধ্যে অন্যানের সাথে তৃতীয় স্থান অধিকার করেছে হাফেজ সালেহ আহমদ তাকরীম। বা এভাবেও বলা যায় তৃতীয় হয়েছে বাংলাদেশ। তাকরীম বাংলাদেশেরই প্রতিনিধিত্ব করেছে। এটি একটি বিরাট অর্জন তাকরীম তথা বাংলাদেশের।