সবার সংবাদ ডেস্ক:
১৭ এপ্রিল ১৯৭১ সাল, তৎকালীন মেহেরপুর মহাকুমার বৈদ্যনাথতলা আম্রকাননে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার শপথ গ্রহণ করে। শপথ গ্রহণ শেষে ওই স্থানের নামকরণ করা হয় মুজিবনগর। জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও আনসার বাহিনীর স্থানীয় ১২ জনের একটি দল গার্ড অব অনার প্রদান করেন মুজিবনগর সরকারকে। সে দিন ইতিহাসের সাক্ষী হিসেবে যে ১২ জন আনসার সদস্য গার্ড অব অনার প্রদান করেছিলেন ইতোমধ্যে তাদের ১০ জন মারা গেছেন। জীবিত আছেন মুজিবনগর উপজেলা ভবের পাড়া গ্রামের সিরাজ উদ্দিন (৭০) ও আজিমুদ্দিন (৮২)।
যারা মারা গেছেন তারা হলেন- মুজিবনগর উপজেলা ভবের পাড়া গ্রামের ফকির মোহাম্মদ, নজরুল ইসলাম, মফিজ উদ্দিন, লিয়াকত আলী, অস্থির মল্লিক, আরজ উল্লাহ, কিসমত আলী, সোনাপুর গ্রামের সাহেব আলী, হামিদুল ইসলাম ও হাসানাবাদ গ্রামের ইয়াদ আলী।
গার্ড অব অনার প্রদানকারী সিরাজ উদ্দিন ঐতিহাসিক ১৭ এপ্রিলের স্মৃতি নিয়ে বলেন,'১৯৭১ সালের ১৬ এপ্রিল সকালে হঠাৎ করে তৎকালীন এসডিও তৌফিক-ই- এলাহী চৌধুরী আমাদের ইপিআর ক্যাম্পে এসে বললেন, এখানে বেশ কিছু বিদেশি অতিথি আসবেন। তোমাদের আনসার ক্যাম্পে চার পা ওয়ালা যে চৌকিগুলা আছে, সেগুলো সংগ্রহ করে একটি মঞ্চ তৈরি কর। এলাকার বিভিন্ন বাড়ি থেকে চেয়ার নিয়ে এসে তাদের বসার ব্যবস্থা কর। স্থানীয় লোকদের নিয়ে আমরা আনসার সদস্যরা সন্ধ্যার পর মঞ্চ তৈরির কাজ করলাম। বাড়ি বাড়ি গিয়ে অতিথিদের জন্য চেয়ার সংগ্রহ করলাম।
১৭ এপ্রিল সকালে এসডিও তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী আমাদের বললেন, তোমাদের রাষ্ট্রীয় অতিথিদের গার্ড অব অনার প্রদান করতে হবে। তিনি আমাদের প্যারেড করতে বলেন এবং পরিদর্শন করে সন্তোষ প্রকাশ করেন। সকাল থেকেই আমবাগানে দেশি-বিদেশি শতাধিক সাংবাদিক এবং ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত হন।
সকাল ৯টায় জাতীয় চার নেতার সাথে কর্নেল ওসমানী ও খন্দকার মোশতাক আসেন। বহুল প্রতীক্ষিত শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান শুরু হয় সকাল এগারটায়। রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের অনুপস্থিতিতে স্থানীয় শিল্পীদের জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও গার্ড অব অনার গ্রহণ করেন অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম। আমরা গার্ড অব অনার প্রদান করার সময় আমাদের ১২ জনকে মেজর আবু উসমান চৌধুরীর অনুপস্থিতিতে ঝিনাইদহের তৎকালীন এসপি মাহাবুব নেতৃত্ব দেন।







