আধুনিকতার ছোঁয়ায় বদলে গেছে চায়ের দোকানের চিরচেনা দৃশ্যপট
অন্যান্য সারাদেশ মেহেরপুর

আধুনিকতার ছোঁয়ায় বদলে গেছে চায়ের দোকানের চিরচেনা দৃশ্যপট

সবার সংবাদ ডেস্ক:

সারা দেশের ন্যায় মেহেরপুরেও একসময় চায়ের দোকান মানেই ছিলো ব্যাটারি চালিত সর্ট ওয়েভ ও মিডিয়াম ওয়েভ রেডিও, বাশের মাচা অথবা কয়েকটা কাঠের বেঞ্চ। দু-একটি কাঠের চেয়ার থাকলেও সেটা বরাদ্দ থাকতো মাতব্বর শ্রেণির লোকদের জন্য। সকাল থেকে দুপুর ও বিকাল থেকে সন্ধ্যা, কোন কোন দোকান রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকতো। বাশের বেড়া ও টিনের চালের তৈরি দোকানে বয়স্ক ব্যক্তিরা আড্ডা দিত বেশির ভাগ সময়। কিন্তু বর্তমানে আধুনিকতার ছোঁয়ায় বদলে গেছে সেই চায়ের দোকানের চিরচেনা দৃশ্যপট।

কিছু চায়ের দোকান থাকলেও নেই হাসি ঠাট্টা তামাসা আর আড্ডা। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে রেডিওর পরিবর্তে আসে টিভি, বাশের মাচা ও কাঠের বেঞ্চের পরিবর্তে প্লাস্টিকের চেয়ার। যোগ হয় ক্যারামবোর্ড। বর্তমানে স্মার্ট ফোন ও ইন্টারনেটের যুগে আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে  চায়ের দোকানেও, এসেছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। প্রত্যন্ত গ্রাম অঞ্চল থেকে শহরের অলিতে গলিতে গড়ে উঠেছে  বাশের বেড়া ও টিনের চালের পরিবর্তে ইট-পাথরের পাকা দালান, নিয়ন আলোয় সাজানো পরিপাটি টেবিল চেয়ার। স্মার্ট ফোনের বদৌলতে প্রয়োজন হয়না রেডিও কিংবা টিভির, এমন কি ক্যারাম বোর্ডের। আড্ডা চলে সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত প্রর্যন্ত ।

চাঁদেরহাট কফি হাউজ ও ফুড কর্নারের স্বত্বাধিকারী হিমেল বলেন,'মাস্টার্স পাশ করার পর চাকরি না পেয়ে বেকারত্ব ঘোচাতেই আমার মাথায় এই কফি হাউসের পরিকল্পনা আসে। আমি মধ্যবিত্ত ফ্যামিলির ছেলে, তাই সাধ্যের মধ্যে কিছু করার চেষ্টা করেছি। বিকাল তিনটা থেকে রাত বারোটা পর্যন্ত দোকান খোলা থাকে। প্রতিদিন প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ কাপ কফি বিক্রি হয় সাথে অন্যান্য খাবারও বিক্রি হয়। এখান থেকে যা আয় হয় তাতে আমি সন্তুষ্ট।

আমঝুপি কোলার মোড়ে আমিরুল টি স্টল ও ফুড কর্ণারের স্বত্বাধিকারী আমিরুল ইসলাম বলেন, 'মানুষের রুচির পরিবর্তন হয়েছে, এখন আর মানুষ আগের মত টং দোকানে চা না খেয়ে ভালো পরিবেশে পরিবার পরিজন ও বন্ধুবান্ধব নিয়ে সময় কাটাতে পছন্দ করে। দোকান দুপুর ১২ টা থেকে রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত খোলা থাকে এবং প্রতিদিন ৪-৫ হাজার টাকার ফার্স্ট ফুড, চা ও কফি বিক্রি করি।'

মেহেরপুর শহরের বোস পাড়ায় কালাম মার্কেটের গলিতে ৬৫ বছর বয়সী আব্দুর রশিদ (বাবু)র চায়ের টং দোকান। ৪৬ বছর যাবত তিনি চা বিক্রি করছেন। পূর্বে তার দোকান ছিল মেহেরপুর পৌরসভার সামনে। এক সময় তার চায়ের ব্যবসা খুবই রমরমা ছিল। দোকান খোলা থাকতো ভোর ছয়টা থেকে রাত ৩টা পর্যন্ত। দল মত নির্বিশেষে সকল বয়স ও শ্রেণী পেশার মানুষ তার কাছে চা খেতে আসতো। মানুষ এত ব্যস্ত ছিলোনা তাই অলস সময় পার করার জন্য কেউ কেউ আসতো। পাড়া মহল্লায় একটা থেকে দুইটা চায়ের দোকান ছিলো। সেখানে আসলে সবাইকে ও সব খবর পাওয়া যেতো। এখন মানুষ আসলে চা খেয়ে আর বসে থাকে না। তাই আগের মতো আর অড্ডা হয় না, বেচাকেনাও তেমন ভালো না। সর্বসাকুল্য এখন তিনি সারাদিনে ২০০ থেকে ২৫০ টাকার চা বিক্রি করেন।