মেহেরাব হোসেন অপি :
পথিমধ্যে ঢাকাগামী বাসে যাত্রী তোলাকে কেন্দ্র করে মালিক-শ্রমিক দ্বন্দ্বের জের ধরে রবিবার ভোর থেকে মেহেরপুর-কুষ্টিয়া সড়কে বাস চলাচল অনিদিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে দুই মালিকপক্ষ। সকালে দুইপক্ষ মিটিংয়ে বসলেও কোন সুরাহা হয়নি বলে জানান মেহেরপুর মালিক সমিতি। এতে মেহেরপুর থেকে কুষ্টিয়া সহ উত্তারাঞ্চলগামী যাত্রীদের হয়রানি এবং দুর্ভোগ বেড়েছে চরমে। মেহেরপুর বাস শ্রমিক ইউনিয়নের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন সবুজ জানান- শনিরার রাত্রীকালীন ঢাকাগামী কোচ শ্যামলী পরিবহনে চড়ে ৭-৮জন বাস শ্রমিক কুষ্টিয়া যাচ্ছিল। পথিমধ্যে কুষ্টিয়া মালিকপক্ষের চেকিংপোষ্ট থেকে লোকজন এসে তাদের উপর চড়াও হয়। বাসশ্রমিক পরিচয় দেওয়ার পরও তাদেরকে ওই বাস থেকে টেনেহিঁচড়ে নামিয়ে দেয়া হয়। এই সময় শ্রমিকরাও মালিকপক্ষের লোকজনের উপর চড়াও হয়। এদিকে মেহেরপুর জেলা বাসমালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক গোলাম রসুল জানান- মাঝ রাস্তা থেকে ঢাকাগামী কোন পরিবহনে কোন যাত্রী নেওয়া নিষেধ। কিন্তু শ্যামলী পরিবহন পথিমধ্যে ওই যাত্রীদের তুললে কুষ্টিয়া খলিষাকুন্ড সড়কে মালিকপক্ষের চেকপোষ্ট গাড়ি থামিয়ে তাদের নামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। ওই সময় শ্রমিক পরিচয়ধারী যাত্রীরা কোন পরিচয়পত্র দেখাতে পারেনি। এনিয়ে কথাকাটাকাটি হলে শ্রমিকরা মালিকপক্ষের প্রতিনিধিদের উপর চড়াও হয়। এরপর কোন ধরণের আলোচনা ছাড়াই উল্টো শ্রমিকপক্ষ দুই জেলার বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়। এদিকে আকস্মিক এই বাস ধর্মঘটর কারণে মেহেরপুর থেকে কুষ্টিয়া সহ উত্তরাঞ্চলগামি যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছে। ব্যবসায়ী লোকমান হোসেন কৃষি বীজ নিয়ে পাবনা যেতে বাসষ্ট্যান্ডে গিয়ে জানতে পারেন বাস চলাচল বন্ধ। অথচ তার কৃষিবীজ আজই পাবনায় না পৌঁছুতে পারলে তিনি আর্থিকভাবে অনেক ক্ষতিগ্রস্থ হবেন বলে জানান। তহমিনা আক্তার যাবেন কুষ্টিয়ায় চাকুরীর ইন্টারভিউ দিতে। তিনিও জানতেন না বাস বন্ধ। ষ্ট্যান্ডে এসে বাস বন্ধ দেখে বললেন- তার কপালে আর চাকুরীটা হলো না। বাস কাউন্টারের টিকিট বিক্রেতা মখলেছুর রহমান জানান- তারাও জানেন না বাস বন্ধ। সকালে প্রতিদিনের মত তারাও টিকিট কাউন্টার খুলে বসার পর জানতে পেরেছেন বাস বন্ধ। মালিকদের না বলেই শ্রমিকদের একাংশ এই বাস চলাচল বন্ধ রেখেছে। মেহেরপুর বাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আহসান হাবিব সোনা বলেন- বাস চলাচল বন্ধ কেন আমি কিছু জানি না। সাধারণ সম্পাদক মতিয়ার সব জানে। সে বলতে পারবে বাস বন্ধের কারণ।







