সবার সংবাদ ডেস্ক:
চাঁদাবাজির দৌরাত্ব, হয়রানির অভিযোগ
ভরা মৌসুমেও মুজিবনগর নেই পর্যটক। প্রতি বছরের মত লোকারণ্য হয়ে থাকার কথা থাকলেও এবার চাঁদাবাজির দৌরাত্ব ও হয়রানির কারণে যেন শূন্যতা বিরাজ করছে মেহেরপুরের ঐতিহাসিক মুজিবনগরে। হাতে গোনা কিছু পর্যটকের উপস্থিতি থাকলেও অন্যবারের মত আশানুরূপ ভীড় ও ব্যবসা কিছুই হচ্ছে না এবার। বিভিন্ন জেলায় জেলায় নতুন নতুন পিকনিক স্পট হওয়ায় এবার পর্যটক সমাগম কমেছে বলে ধারণা সংশ্লিষ্টদের। ফলে লগ্নি ফিরে আসা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় ব্যবসায়ীরা।
কিন্তু অভিযোগ রয়েছে- পিকনিক স্পট ভাড়া, পরিবহন ভাড়া, স্পট ঘুরে দেখা সহ নানা খাত দাবী করে মুজিবনগরে একশ্রেণীর লোকজন ঘুরতে যাওয়া মানুষদের কাছে টাকা নেয়। দাবীকৃত টাকা না দিলে তাদের হয়রানির শিকার হতে হয়। এই কারণে কমে যাচ্ছে ঘুরতে যাওয়া মানুষজন। অন্যবার শীতে যেখানে প্রতিদিন শত শত পিকনিক বাস মুজিবনগরে জড়ো হয়। সেখানে এবার পিকনিক বাস নাই বললেই চলে। সুযোগ সুবিধার চাইতে হয়রানি বেড়ে যাওয়ায় এই অবস্থা বলছেন অনেকেই।
মুজিবনগর স্টেশনারী ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি রেজাউল হক জানান- প্রতি বছর মুজিবনগর পর্যটকের কোন কমতি ছিল না কিন্তু হঠাৎ এ বছর মুজিবনগর পর্যটক শূন্য। আমরা স্টেশনারী ব্যবসায়ীরা খুব দুশ্চিন্তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছি। মুজিবনগর মূলত তিন মাসের সিজনালী ব্যবসা হয়। আর বাকি মাস গুলো কোন রকম টিকে থাকার। সেই সাথে অধিকাংশ ব্যবসায়ী বিভিন্ন জায়গা থেকে ঋণ নিয়ে ব্যবসা করেন। তারা ঋণ পরিষদ করতে হিমশিম খাবে তাই ভরা মৌসুমে যদি পর্যটক শূন্য থাকে তাহলে ব্যবসায়ীরা অপার বিপদের সম্ভাবনা বলে জানান তিনি।
ব্যবসায়ী মেহেদী হাসান জানান, প্রতি বছর ডিসেম্বর মাস থেকে পর্যটক আসা শুরু করে। মূলত আমাদের মুজিবনগর রাজশাহী পর্যটকের চাপ বেশি থাকে। অন্যান্য জেলা বা বিভাগের পর্যটকও থাকে ভরপুর, আর পর্যটক কে কেন্দ্র করে আমাদের আগাম ব্যবসার মালামাল কেনাকাটা করে রাখি। প্রতি বছরের তুলনায় এবারও আমাদের ব্যবসার সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছিলাম কিন্তু পর্যটক না আসায় মুজিবনগরের ব্যবসায়ীরা হতাশায় আছেন। তিনি আরও বলেন, মুজিবনগর হচ্ছে ইতিহাসের স্থান। ইতিহাস কেন্দ্রিক যে সমস্ত স্থাপনা আছে সেগুলো দেখে ভ্রমণ পিপাসুদের মন ভরছে না যদিও এগুলো শিক্ষানীয় স্থাপনা ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে। নতুন কোন স্থপনা না থাকায় অনেকেই মুজিবনগর আসতে ইচ্ছুক না। তার পরও আমরা আশা রাখছি।
এ বিষয়ে বাগোয়ান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আয়ূব হোসেন জানান, মুজিবনগর স্মৃতি কমপ্লেক্স আমার বাগোয়ান ইউনিয়নের আওতাধীন। কয়েকদিন ধরে লক্ষ্য করছি মুজিবনগর পর্যটন কেন্দ্রে চলতি মৌসুমে লোক সমাগম খুব কম। যেখানে প্রতিবছর ভরা মৌসুমে বিভিন্ন জেলা থেকে শ শ পিকনিকের গাড়ি আসে। সে তুলনায় এবার একেবারেই নেই। তবে এর নির্দিষ্ট কোন কারণ আছে কিনা তা আমার অজানা যেহুতু এটি একটি ঐতিহাসিক স্থান সেক্ষেত্রে এখানে যারাই আসে তারা মুজিবনগর কে জানতে। মুজিবনগরের ইতিহাস জানতে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানতে। তাই এখানে পর্যটক কমে যাওয়ায় নির্দিষ্ট কোন কারণ খুঁজে পাচ্ছি না।
তবে ধারণা করা হচ্ছে বাংলাদেশের অধিকাংশ জেলায় বিভিন্ন পার্ক নির্মাণ হয়েছে তাই দূরে না গিয়ে আশেপাশের জেলায় ভ্রমণ করছেন অনেকে তাই হয়তো মুজিবনগরের পর্যটক কমে গেছে। তিনি আরও বলেন এখনো দুই আড়ই মাস পর্যটক আসার সম্ভাবনা আছে তাই এর ভিতরেও পরিপূর্ণ ভাবে পর্যটক আসতে পারে বলে ধারণা করছেন তিনি।







