সবার সংবাদ ডেস্ক:
মেহেরপুরে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে মাঠ দিবস ও কৃষক সমাবেশ
মেহেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর হিসেব মতে চলতি মৌসুমে জেলার তিন উপজেলার ২৩০ হেক্টর জমিতে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে। প্রতি হেক্টরে ফলন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩০ টন। সে হিসেবে চলতি মৌসুমে এবার মেহেরপুরে ৬ হাজার ৯শ টন পেঁয়াজের উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতি টন পেঁয়াজের আনুমানিক বাজার মূল্য ৫২ লাখ ৮০ হাজার টাকা। সে হিসেবে গ্রীষ্মকালীন মৌসুমে ১শ ২১ কোটি ৪৪ লাখ টাকার পেঁয়াজ উৎপাদনের টার্গেট রয়েছে মেহেরপুরে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ওয়াহিদা আক্তার বলেছেন- যদি কৃষির মাঠ পর্যায়ের সফলতার দৃশ্য দেখতে হয়, তাহলে মেহেরপুরে আসতে হবে। এবার পেঁয়াজের সঙ্কট দূর করতে মেহেরপুরে আগাম জাতের গ্রীষ্মকালীন নাসিক এন-৫৩ জাতের পেঁয়াজ উৎপাদন করে চাষীরা দেশের পেঁয়াজের ঘাটতি পূরণে বড় ভ‚মিকা রেখেছে। তাই আগামী বছর থেকে সরকার পেঁয়াজের উৎপাদন আরও বৃদ্ধি করতে চাষীদের দ্বিগুন পরিমান প্রণোদনা দেবে।
মেহেরপুরে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ উৎপাদন আরও বৃদ্ধির লক্ষ্যে মেহেরপুর সদর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের ৫ শতাধিক বড় কৃষকদের নিয়ে মাঠ দিবস ও কৃষক সমাবেশ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে কৃষি সচিব আরও বলেন-পেঁয়াজ চাষীরা পেঁয়াজের সঙ্কটকের সুযোগকে কাজে লাগাতে পেঁয়াজের মূল্য বাড়িয়ে দিচ্ছেন। এতে ভোক্তারা যেমন ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে তেমনি পেঁয়াজের বাজারদর নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। আগাম জাতের এক কেজি পেঁয়াজ উৎপাদনে চাষীর খরচ যেখানে ৩০-৩৫ টাকা সেখানে ভোক্তাকে কেন এক-দেড়’শ টাকা দিয়ে পেঁয়াজ বাজার থেকে কিনতে হবে। বাজার নিয়ন্ত্রণে কেন সরকারকে বাইরের থেকে পেঁয়াজ আমদানি করতে হবে।
শনিবার দুপুরে মেহেরপুর সদর উপজেলার ইছাখালী মাঠে এই মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়। কৃষি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কৃষিবিদ বাদল চন্দ্র বিশ্বাসের সভাপতিত্বে মাঠ দিবস ও কৃষক সমাবেশের প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ওয়াহিদা আক্তার।
সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলমগীর হোসেনের সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মেহেরপুরের জেলা প্রশাসক শামীম হাসান, কৃষি তথ্য সার্ভিসের পরিচালক ড. সুজিত সাহা রায়, কৃষি বিপনণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সিফাত মেহেনাজ, কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মাহাবুবুল পাটোয়ারী, সদর উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা গোলাম সারোয়ার, গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ চাষী ইদ্রিস আলী। অনুষ্ঠানের স্বাগত বক্তব্য রাখেন মেহেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ বিজয় কৃষ্ণ হালদার। অনুষ্ঠানে মেহেরপুর জেলায় কৃষি বিভাগের সকল কর্মকর্তাগন উপস্থিত ছিলেন।
মেহেরপুর কৃষিতে অনেক উর্বর, প্রচুর পরিমাণ কৃষি পণ্য উৎপাদিত হয়। আগামীতে গ্রীষ্মকালীন নাসিক এন-৫৩ জাতের পেঁয়াজের উৎপাদন বাড়াতে আরো বেশি প্রনোদনা দেওয়া হবে। ভোক্তা পর্যায়ের মানুষ যেন স্বল্পমূল্যে পেঁয়াজ কিনতে পারে এবং চাষীরাও যাতে লাভ করতে পারে এর জন্য কাজ করছে সরকার।
কৃষি সম্পসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কৃষিবিদ বাদল চন্দ্র বিশ্বাস বলেন- মেহেরপুর কৃষিতে মডেল জেলা। তাই সরকার এই জেলার দিকে বিশেষ নজর দিতে চায়। চলিত মৌসুমে সারাদেশে ২১টা জেলায় পেঁয়াজের প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু মেহেরপুরে এই যাদের পেঁয়াজ সবচাইতে ভালো উৎপাদিত হচ্ছে। তাই আগামীতে মেহেরপুরে আরো বেশি করে প্রণোদনা দেওয়া হবে।







