পাটখড়ির দখলে মেহেরপুর-মুজিবনগর সড়ক: দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে পথচারী
টপ নিউজ মেহেরপুর

পাটখড়ির দখলে মেহেরপুর-মুজিবনগর সড়ক: দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে পথচারী

সবার সংবাদ প্রতিবেদক:

মেহেরপুর-মুজিবনগর আঞ্চলিক মহাসড়কে এখন প্রতিদিনের চিত্র যেন পাটখড়ি শুকানোর দৃশ্য। সড়কটির দারিয়াপুর থেকে পুরন্দরপুর পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকার দুই পাশ জুড়ে ভেজা পাটখড়ি সারিবদ্ধভাবে শুকানোর জন্য দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে। এতে প্রধান সড়কটি আশঙ্কাজনকভাবে সংকীর্ণ হয়ে পড়েছে, যার ফলে প্রতিনিয়ত যাতায়াতকারী যানবাহন ও পথচারীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সড়কের ওপর এভাবে পাটখড়ি রাখার কারণেই গতকাল একই উপজেলার মানিকনগর গ্রামে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে এক মাদ্রাসা ছাত্র ট্রাকের চাপায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারায়। 

সরজমিনে দারিয়াপুর থেকে পুরন্দরপুর এলাকা ঘুরে দেখা যায়, মহাসড়কের মূল পিচঢালা অংশ ঘেষে এবং কোথাও কোথাও একেবারে সড়কের ভেতরেই শুকানোর জন্য পাটখড়ি সাজিয়ে রাখা হয়েছে। ফলে দুই দিক থেকে আসা দুটি গাড়ি একে অপরকে পার করার মতো প্রয়োজনীয় জায়গা পাচ্ছে না। বিশেষ করে ছোট যানবাহন যেমন—মোটরসাইকেল, সিএনজি, ইজিবাইক ও সাইকেল আরোহীরা সবচেয়ে বেশি বিপদের মুখে পড়ছেন।

পথচারী সাইফুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রাস্তার ওপর যেভাবে পাটখড়ি রাখা হয়েছে, তাতে গাড়ি চালানোর কোনো জায়গা থাকে না। যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। গতকালকে একটা ছেলে মারা গেল, তবুও কারও কোনো হুঁশ নেই।

 ইজিবাইক চালক তুহিন বলেন, কৃষকরা তাদের সুবিধা মতো রাস্তায় পাটখড়ি শুকাচ্ছে, কিন্তু এতে পথচারী ও আমাদের মত মানুষের জীবন ঝুঁকিতে পড়ছে। প্রশাসন যদি এখনই ব্যবস্থা না নেয়, তবে প্রতিদিন এমন প্রাণহানির ঘটনা ঘটবে।

কৃষিভিত্তিক এই অঞ্চলে পাটখড়ি শুকানো কৃষকদের জন্য জরুরি হলেও জনগুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক ব্যবহার করায় ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। সাধারণ যাতায়াতকারীরা অনতিবিলম্বে সড়ক থেকে এসব পাটখড়ি সরিয়ে নেওয়ার এবং সড়কে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে প্রশাসনের  হস্তক্ষেপ দাবি জানিয়েছেন।