মুজাহিদ মুন্না:
মেহেরপুর জেলা জাতীয় পার্টির সাবেক সভাপতি, সাবেক পৌর ও উপজেলা চেয়ারম্যান খন্দকার আমিরুল ইসলাম পালু (৭৯) ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)।
বুধবার ভোর ৫টার দিকে মেহেরপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন। তিনি ডায়োবেটিস, কিডনিসহ ক্রনিক সিওপিডিতে ভুগছিলেন। শহরের তাঁতীপাড়ার নিজ বাসভবনে তিনি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ অবস্থায় দিন যাপন করছিলেন। কয়েকদিন আগে বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ঢাকার বারডেম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
খন্দকার আমিরুল ইসলাম পালু ১৯৮৫ থেকে ১৯৯০ পর্যন্ত সদর উপজেলার প্রথম উপজেলা চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় তিনি জেলার সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা ছিলেন। তৎকালিন সময়ে মেহেরপুর ও মুজিবনগর মিলিয়ে সদর উপজেলা ছিলো। তখন তাঁর জনপ্রিয়তা এতটাই তুঙ্গে ছিলো যে তিনি এলাকায় পা-ফাটাদের নেতা (গরীবের বন্ধু) বলে খ্যাতি পান।
এর আগে তিনি মেহেরপুর পৌরসভার ২ বার কমিশনার নির্বাচিত হয়েছিলেন। পরে বিপুল ভোটে তিনি মেহেরপুর পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এরশাদের নেতৃত্বে জাতীয় পার্টি গঠন হলে তিনি মুন্সি সাখাওয়াত হোসেনের হাত ধরে জাতীয় পার্টির রাজনীতি শুরু করেন। পরে তিনি জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি নির্বাচিত হন।
এ সময় মেহেরপুরে জাতীয় পার্টির শক্ত অবস্থান তৈরি হয়। তখন জেলার অনেকেই তার হাত ধরে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। পরে জাতীয় পার্টি সরকারের পতন হলে অনেকেই জাতীয় পার্টি ছেড়ে বিভিন্ন দলে চলে গেলেও তিনি তার আদর্শ থেকে একচুলও নড়েননি। এক সময় তিনি বড় বাজারে একাই পার্টির কার্যালয় চালাতেন। পরে খন্দকার আমিরুল ইসলাম পালু অসুস্থ হয়ে পড়লে জেলা জাতীয় পার্টি কার্যালয়ের সাথে সাথে পার্টির রাজনীতিও ঝিমিয়ে পড়ে।







