ক্যাপসিকাম চাষে বেশ আগ্রহী হয়ে উঠেছে মেহেরপুরের কৃষক
টপ নিউজ কৃষি মেহেরপুর

ক্যাপসিকাম চাষে বেশ আগ্রহী হয়ে উঠেছে মেহেরপুরের কৃষক

সবার সংবাদ ডেস্ক:

সালাদ জাতের সবজি ক্যাপসিকাম চাষে বেশ আগ্রহী হয়ে উঠেছে মেহেরপুরের কৃষক। স্বল্প খরচে ও অল্প জমিতে এ আবাদে ইতোমধ্যে চাষিরা বেশ লাভবান হয়েছেন। অনেকেই পরামর্শ নিচ্ছেন এ ক্যাপসিকাম আবাদে। কৃষি অফিসের পরামর্শ ও সহায়তা পেলে লাভজনক ফসল হিসেবে কৃষি ক্ষেত্রে নতুন দিগন্তের সূচনা হবে বলে জানিয়েছেন চাষিরা।

কৃষি অফিস বলছে, চাষিদেরকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। কৃষি অফিসের তথ্যমতে, ক্যাপসিকাম বা মিষ্টিমরিচ। কোন কোন স্থানে এটিকে বলে বেলপিপার। এটি বিভিন্ন অভিজাত হোটেল ও রেস্তরাতে সালাদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। দেশে এর চাষ অনেক কম থাকায় দেশের বাইরে থেকেও এর আমদানী করা হয়েছে।

চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় এখন দেশেই এর চাষ শুরু করেছেন চাষিরা। শিক্ষিত বেকার যুবকেরা বিভিন্ন ওয়েবসাইট দেখে এ চাষ শুরু করেছেন মেহেরপুরে। চলতি মৌসূমে জেলায় দেড় একর জমিতে এর চাষ করা হয়েছে। সবুজ হলুদ ও লাল রঙের এ সবজি এখন বেশিরভাগ সালাদ প্রেমিদের কাছে জনপ্রিয়। এটির চাষ সম্প্রসারিত হলে লাভজনক ফসল হিসেবে কৃষি ক্ষেত্রে নতুন দিগন্তের সূচনা হবে।

ক্যাপসিকাম চাষি মেহেরপুর সদর উপজেলার রাধাকান্তপুর গ্রামের শাহারিয়ার লিওন জানান, একটি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষে শুরু করেন ইনাট মাঠ নামের একটি অনলাইন কৃষি পণ্য বাজরজাত ব্যবসা। সেখানে সফলতা পেয়ে মাথাল নামের একটি কৃষি প্রজেক্ট চালু করেন। এ প্রজেক্টে পরীক্ষামূলকভাবে এক একর জমিতে শুরু করেন ক্যাপসিকাম চাষ। এতে খরচ হয়েছে সাড়ে তিন লাখ টাকা। ইতোমধ্যে গাছে ক্যাপসিকাম বড় হচ্ছে। সাড়ে ৩ থেকে ৪ লক্ষ টাকা মুনাফার আশা করছেন তিনি।

কৃষক রমজান আলী জানান, লিয়নের ক্যাপসিকাম চাষে যারা নিরুৎসাহিত করেছেন তারাও এখন এটি চাষ করতে বেশ আগ্রহী হয়েছেন। তাদের ধারণা ছিল এ ধরনের সজি বাজারজাত কষ্টকর। কিন্তু এখন এর চাহিদা থাকায় সে ধারণা পাল্টেছে চাষিদের। অনেকেই তাদের সন্তানদেরকে ক্যাপসিকাম আবাদে আগ্রহী করছেন।

কলেজ ছাত্র সাব্বির আহম্মেদ জানান, এই প্রথম ক্যাপসিকাম চাষ দেখছেন তিনি। টমেটোর মত বড় বড় ফল গাছে ধরে আছে। যা দেখতে খুব সুন্দর। অল্প খরচে বেশি মুনাফার আশায় আগামীতে ক্যাপসিকাম চাষ করবেন বলেও জানান তিনি।

মেহেরপুর সদর উপজেলা কৃষি অফিসার আলমগীর হোসেন  জানান, ক্যাপসিকাম একটি বিদেশি সবজি। রেস্টুরেন্ট ও অভিজাত হোটেলগুলোতে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এটি লাভজনক হওয়ায় কৃষকরা এগিয়ে আসছেন। এটি অত্যন্ত লাভজনক কৃষকরা এই চাষে আরো আগ্রহী হয়ে উঠছেন। কৃষি বিভাগও সব ধরনের সহযোগিতা ও পরামর্শ দেওয়ার জন্য তৎপর।