সবার সংবাদ ডেস্ক:
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার দেবীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নির্মানাধীন সীমানা প্রাচীরে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। তাছাড়া সিমেন্ট বালু ও পাথরের আনুপাতিক হারও সঠিক নয়। ফলে হাতের ঘসায় উঠে যাচ্ছে ইট, বালু, খোয়া। স্থানীয়দের অভিযোগের প্রেক্ষিতে নিম্নমানের সামগ্রী সরিয়ে নিতে ও পিলার গুলো ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, ২০২২-২৩ ও ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বিডিডিপি-৪ প্রকল্পে আওতায় গাংনীর দেবীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২৫ লাখ টাকা ব্যায়ে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ পান ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স টিপু এন্টারপ্রাইজ। কার্যাদেশে সীমানা প্রাচীরের পিলার ঢালায় ১০/১২ ইঞ্চি দেওয়ার কথা থাকলেও দেওয়া হচ্ছে ১০/১০ ইঞ্চি। সীমানা প্রাচীর নির্মানের জন্য স্থাপিত পিলারে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করায় একটু ধাক্কা দিলে কিংবা হাত দিয়ে ঘষা দিলে তা খুলে পড়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছে স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দা স্বপন জানান, সরকার কোটি কোটি টাকা খরচ করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে উন্নয়নমূলক কাজ করছে। সেই সকল কাজ যদি স্থায়ী না হয় তাহলে বারবার এত টাকা খরচ করলে সরকার টাকা পাবে কোথায়। একই কথা জানালেন রবিউল ইসলাম । তিনি আরো জানান, হাতের ঘষা দিয়ে খোয়া,সিমেন্ট, বালি উঠে যাচ্ছে। ছাত্ররা বল খেলার সময় বলের আঘাতে পিলার ভেঙ্গে যাচ্ছে। মালামাল সরিয়ে নিয়ে নতুন করে প্রাচীর নির্মাণের আহবান জানান তিনি।
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক মধু মিয়া জানান, ঠিকাদার যেভাবে বলছেন সেভাবেই কাজ করা হচ্ছে। ঠিকাদার ১০/১০ গাথুনী দিয়ে পিলার তৈরী করতে বলেছেন। এখন আবার অফিস থেকে স্যার এসে ১০/১২ ইঞ্চি ঢালাই দেয়ার কথা বলছেন। তাই স্যারদের কথামতো নতুন করে ঢালাই শুরু করা হয়েছে। তবে নিম্ন মানের সামগ্রীর বিষয়টি তিনি স্বীকার করেছেন।
দেবীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সভাপতি উম্মে কুলসুম জানান, লোক মুখে শুনেছেন নিম্নমানের কাজ হচ্ছে। ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের বিষয়টি জানিয়েছেন এবং জরুরী সভা ডাকবেন বলেও জানান। তিনি আরো জানান, এলজিইডি অফিস থেকে কোন কাজের সিডিউল দেখানো হয়নি।
গাংনী উপজেলা প্রকৌশলী ফয়সাল হোসেন জানান, নির্মানাধীন প্রাচীরে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহৃত হয়েছে। খোয়া বালু ও সিমেন্টের আনুপাতিক হর কম হওয়ায় প্রাচীর ভেঙ্গে নতুন করে নির্মানের আদেশ দেয়া হয়েছে। সেই সাথে নিম্নমানের সামগ্রী সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে। বর্তমানে সিডিউল মতো কাজ হচ্ছে।







