সবার সংবাদ ডেস্ক:
মেহেরপুরের গাংনীর কাথুলী ইউপিতে ২০২৩-২৪ অর্থ বছরের অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির (কর্মসৃজন) ১ম পর্যায়ের অনুমোদিত প্রকল্প সমূহের মাটি কাটা কাজে চলছে ব্যাপক অনিয়ম। প্রকল্প বাস্তবায়নে গাফিলতি নাকি কর্তাবাবুদের ঈঙ্গিত। দায়সারা ভাবে চলছে কর্মসৃজন প্রকল্প। ফলে উপজেলার ৯টি ইউপিতে নেয়া ৪৫টি প্রকপ্লে কর্মসংস্থান কর্মসূচি মুখ থুবড়ে পড়েছে। উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে প্রকল্প চেয়ারম্যানরা লক্ষ লক্ষ টাকা পকেটস্থ করার মত দুর্নীতি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
চলতি নভেম্বর মাসের ১১ তারিখ থেকে গাংনী উপজেলায় কাজ শুরু হলেও বেশীর ভাগ প্রকল্পে কাজ শুরু করা হয়েছে কয়েকদিন আগে। উপজেলায় অতিদরিদ্রদের জন্য নেয়া কর্মসংস্থান কর্মসূচিতে সর্বমোট শ্রমিকদের নামের তালিকা করা হয়েছে ২ হাজার ৬৩১ জন। এর মধ্যে কাথুলী ইউপিতে শ্রমিক রয়েছে ২৪৩ জন।
সরেজমিনে ঘুরে স্থানীয় লোকজন ও শ্রমিকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বিভিন্ন প্রকল্পে নির্ধারিত শ্রমিকের মধ্যে শতকরা ৫০ ভাগের কম শ্রমিক কাজ করছে। অভিযোগ উঠেছে, পূর্ব তালিকার প্রকৃত হতদরিদ্র শ্রমিকদের নাম বাদ দিয়ে পিআইসিগণ স্বজনপ্রীতি ও আত্মীয়করণের মাধ্যমে টাকার বিনিময়ে নিজেদের অনুগত বিত্তবান ও ক্ষমতাসীন দলের লোকজনকে শ্রমিকদের তালিকাভুক্ত করেছেন। অনেক শ্রমিক কাগজে-কলমে থাকলেও কর্মস্থলে অনুপস্থিত। সবচেয়ে কম সংখ্যক শ্রমিক পাওয়া গেছে কাথুলী ইউপিতে। কাথুলী ইউপির কর্মসৃজন কর্মসূচি প্রকল্পের পিআইসি নওপাড়া গ্রামের আনার মেম্বরের প্রকল্পে ৩৫ জন শ্রমিকের বিপরীতে উপস্থিত পাওয়া গেছে ১৪ জন।
লেবার সর্দার ফুরকান আলী জানান, নিজেদের কাজ রেখে অনেকেই আসেনা, অনেকেই ধান কাটতে গিয়েছে। আমার এখানে ১৬ জন নিয়মিত ভাবে কাজ করে। কাথুলী ইউপির রাধাগোবিন্দপুর ধলা গ্রামের পিআইসি ফারুক হোসেন মেম্বরের প্রকল্পে ৪১ জন লেবারের মধ্যে কর্মরত ১২ জন।
তবে সর্দার আনারুল ইসলাম জানান, আমার প্রকল্পে ১৬ জন কাজ করে। একইভাবে গাড়াবাড়ীয়া গ্রামের জিনারুল ইসলাম মেম্বরের প্রকল্পে ৭৯ জন শ্রমিক বরাদ্দ রয়েছে। এর মধ্যে কাজে উপস্থিত পাওয়া গেছে ৩৮ জন। এসময় সর্দার সোহেল মিথ্যা কথা বলেন । তিনি বলেন আমার প্রকল্পে দুই জায়গায় কাজ চলছে একখানে ৪০ জন ও অন্যখানে ২৭ জন। কিন্তু সেই প্রকল্পের পিআই সি মেম্বর জানান আমার প্রকল্পে ৪০ জন কাজ করছে। অন্য প্রকল্পের পিআইসি রামকৃষ্ণপুর ধলা গ্রামের মেম্বর আনারুল ইসলামের ৪২ জন লেবারের প্রকল্পের নির্ধারিত জায়গায় কোন লেবার খুজে পাওয়া যায়নি। তবে একজন গ্রামবাসী জানায়, একজন নিকটাত্মীয় মারা যাওয়ার কারনে কাজ বন্ধ রয়েছে।
পিআইও অফিস সূত্রে জানা গেছে, ইজিপিপি কর্মীদের নাম কেউ মারা না গেলে অথবা অসুস্থ না হলে বাদ দেয়া যাবে না। এছাড়া সর্দারের কাছে লেবারের তালিকা সংবলিত রেজিষ্টার খাতা সরবরাহ করা হলেও তা ব্যবহার করা হচ্ছে না। লেবারদের হাতে তাদের কার্ড আজও দেয়া হয়নি।এসব কার্ড মেম্বররা তাদের নিজের কাছে রেখে মনগড়া হাজিরা করছেন। সচেতনমহল মনে করেন, এ দায় কোনক্রমেই কর্তৃপক্ষ এড়াতে পারেন না।
এব্যাপারে পিআইও অফিসের সহকারী ইঞ্জিনিয়ার রেজা জানান, আমরা নিয়মিত মনিটরিং করছি। তবে সর্বমোট শ্রমিকের মধ্যে উপস্থিতি মোটামুটি ভাল পেয়েছি। লেবার উপস্থিতি সন্তোষজনক না হলে বিল দেয়া হবে না।







