সবার সংবাদ ডেস্ক :
শতবর্ষী বটবৃক্ষ হয়ে যে মানুষটি পরিবারকে আগলে রেখেছিলেন। মৃত্যুর আগ মূহুর্ত পর্যন্ত যাঁর অনুশাসনে পরিবারের ৬ ছেলে ৭ মেয়ে এবং তাদের পরিবার পরিজন সন্তান সন্তানাদী নাতি নাতনী মিলিয়ে যে ছায়াতলে ওই পরিবারের শতাধিক সদস্য বড় হয়েছেন। সেই মানুষটি আর কেউ নন মেহেরপুরের প্রবীণ রাজনীতিবিদ জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হাজী গোলাম রসুলের মা জবেদা খাতুন। রবিবার (৯ অক্টোবর) রাতে বার্ধক্যজনিত কারণে মেহেরপুর শহরের বাসষ্ট্যান্ড পাড়ায় তাঁর নিজ বাসভবনে তিনি ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি.......ওয়া রাজিউন)।
১০ অক্টোবর সোমবার সকাল ১১ টায় শহরের হোটেলবাজার জামে মসজিদ সন্মুখ প্রধান সড়কে ওই সমজিদের ইমাম হাফেজ মওলানা রোকনুজ্জামানের ইমামতিতে শতবর্ষী এই মায়ের নামাজে জানাজা অনুষ্টিত হয়। জানাজায় সবমতের সব দলের নেতাকর্মী সহ সর্বস্তরের মানুষের উপস্থিতি ছিল লক্ষ্যনীয়। এই সময় মরহুমার আত্মার শান্তি এবং পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বক্তব্য দেন- মেহেরপুর পৌর মেয়র মাহফুজুর রহমান রিটন, মেহেরপুর সদর উপজেলা চেয়ারম্যান এ্যাড ইয়ারুল ইসলাম, মেহেরপুর জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক গাংনী উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল খালেক, মেহেরপুর-১ আসনের সাবেক এমপি জয়নাল আবেদীন। জানাজায় শরীক হন মেহেরপুর জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক এমপি মাসুদ অরুন, মেহেরপুর জেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী এ্যাড আব্দুস সালাম, মুজিবনগর উপজেলা চেয়ারম্যান জিয়াউদ্দিন বিশ্বাস, গাংনী উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মখলেছুর রহমান মুকুল সহ জেলার প্রায় প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানগণ ও অসংখ্য গণ্যমান্য ব্যাক্তি এবং সর্বস্তরের সবমতের সাধারণ মানুষ।
জানাজায় মায়ের জন্য দোয়া এবং সকলের কাছে ক্ষমা চেয়ে মরহুমার বড়পুত্র মেহেরপুর জেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী চেয়ারম্যান প্রার্থী হাজী গোলাম বসুল বলেন- মায়ের এত বয়স হয়েছিল, তারপরও যত রাতই হোক আমি বাড়ি না ফেরা পর্যন্ত দরজায় অপেক্ষা করতো। দেরী করে বাড়ি ফেরার কারণ জানতে চাইতো। পুরো পরিবার তাঁর ছায়ায় এতদিন বেড়ে উঠেছে। বটবৃক্ষ হয়ে যিনি আমাদের এতদিন ছায়া দিয়ে গেছেন। আমাদের মাথার উপর থেকে আজ সেই ছায়াটা সরে গেল। একথা বলেই কান্নাজড়িত হয়ে গোলাম রসুল বলেন- এখন বাড়ি গেলে শুণ্য লাগবে। খেয়েছি কিনা, কোথায় ছিলাম, কেন বাড়ি ফিরতে দেরী হলো একথা কেউ আর জানতে চাইবে না। পরে শহরের কেন্দ্রীয় গোরস্থানে মরহুমার দাফন সম্পন্ন হয়।







