বারবার এমপি হওয়া সত্বেও আজ আমি সহায়সম্বলহীন সাবেক এমপি মকবুল
অন্যান্য মেহেরপুর

বারবার এমপি হওয়া সত্বেও আজ আমি সহায়সম্বলহীন সাবেক এমপি মকবুল

সবার সংবাদ ডেস্ক:

মিটিংয়ে উপস্থিত কয়েকজন নেতার যোগ্যতা নিয়ে মূল্যায়ন করতে গিয়ে একে অপরকে প্রশ্ন রেখে বলছিলেন- আসলে জননেতা কাকে বলে? কে হতে পারেন জননেতা? দলমত নির্বিশেষে আজীবন যিনি মানুষকে ভালোবাসেন, মানুষের দুঃখকষ্টে যিনি সমব্যাথি হন এবং মানুষ যাঁর কাছে সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, নৈতিক আশ্রয় পান, তাঁকেই কি জননেতা বলে? আসলে অন্ত্যজ শ্রেণী থেকে শুরু করে অভিজাত পর্যন্ত দলমত নির্বিশেষে যাঁর জন্য সকলের প্রাণ কাঁদে, যাঁর সুখে সবাই সুখি হয়, যাঁর দুঃখে মানুষ ব্যাথিত হয়, যাঁর ডাকে মানুষ অর্থ, সময়, শ্রম ব্যয় করে নিঃস্বার্থভাবে এগিয়ে আসে তাকেই জননেতা বলে। তাদের দাবী মেহেরপুর গাংনী-২ আসনের বারবার নির্বাচিত সাবেক এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মোঃ মকবুল হোসেন জনগণের মতে তেমনই একজন জননেতা।

গাংনী উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধুর ৪৮তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে বিশাল শোক রালী, আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জননেতা মোঃ মকবুল হোসেন।

বুধবার বিকালে হাজার হাজার লোকের উপস্থিতিতে এই বিশাল শোক র‌্যালী, আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের সকল শহিদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি জাতীয় চার নেতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। সকল শহীদের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন। এসময় তিনি উপস্থিত হাজার হাজার লোকের বিশাল সমাবেশ দেখে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন।

তিনি বলেন, জাতির পিতার ৪৮তম শাহাদাৎ বার্ষিকীতে জাতির পিতার আত্মার শান্তি কামনায় হাজার হাজার লোকের যে সমাগম হয়েছে সেজন্য আমি আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। তিনি কান্না জড়িত কন্ঠে ১৯৮২ সাল থেকে গাংনীর জনমানুষের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত থাকার স্মৃতিচারণ করে বলেন, এই দীর্ঘ সময়ে অসংখ্য সুযোগ সুবিধা আসা সত্ত্বেও তিনি ঐ সকল সুবিধাসমূহ ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করেননি। বারবার এমপি হওয়া সত্তে¡ও পৈতৃকসূত্রে পাওয়া জমি-জায়গা, সহায়-সম্পদ সব তিনি জনগণের কল্যাণে ব্যয় করেছেন।

তিনি বলেন এই বৃদ্ধ বয়সে আমি এত বড় সভা করতে চাইনি। গাংনীবাসীর দীর্ঘদিনের চাওয়া এবং সাধারণ জনগণের চাপের কারণে আমাকে এত বড় সভা করতে হয়েছে। তিনি বলেন, জাতির পিতাকে ভালোবেসে যুদ্ধ করে যেভাবে দেশকে স্বাধীন করেছি, আজ এই গণমানুষের জোয়ার দেখে বুঝতে পারছি, বঙ্গবন্ধুকে এখনো মানুষ সেভাবেই ভালোবাসে। নতুন প্রজন্মও বঙ্গবন্ধু এবং বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অনুরূপ ভালোবাসে। বঙ্গবন্ধুর কারণেই গাংনীর মানুষ এবং নতুন প্রজন্ম আমাকে ভালোবাসে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্য দিয়েও হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতি এবং ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশের জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

গাংনী আওয়ামী লীগকে সুসংগঠিত করার জন্য মকবুল হোসেন তাঁর বাবা-মায়ের নিঃস্বার্থ ত্যাগের ঘটনাসমূহ এসময় তুলে ধরেন। পাশাপাশি গাংনী আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনসমূহের নেতা-কর্মীদের অক্লান্ত পরিশ্রম, অর্থদন্ড ও নানা কারণে জেল-হাজতবাসের স্মৃতিচারণ করেন। ভবিষ্যতে গাংনীতে আওয়ামীলীগকে আরো সুসংগঠিত করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক এই সভাপতি।

গাংনী উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি মোঃ মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব শফি কামাল পলাশ ও যুগ্ম সম্পাদক মোঃ মজিরুল ইসলামের সঞ্চালনায় আওয়ামীলীগ, কৃষকলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগসহ সকল ইউনিটের নেতাকমী ও বিপুল সংখ্যক সাধারণ জনগণ জননেতা মকবুল হোসেনের ডাকে বঙ্গবন্ধুর শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে শোক র‌্যালী, আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিলে স্বতঃস্ফূর্তভাবে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়াকে উপেক্ষা করে অংশগ্রহণ করে।

আলোচনা সভা ও শোক র‌্যালী শেষে আলহাজ্ব শফি কামাল পলাশের পরিচালনায় মিলাদ মাহফিল ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া শেষে উপস্থিত সকল মানুষের হাতে দায়িত্বপ্রাপ্তরা শান্তিপূর্ণভাবে বঙ্গবন্ধুর ৪৮তম শাহাদাৎ বার্ষিকীর তবারক পৌছে দেন।