সবার সংবাদ ডেস্ক:
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আগামী ১৬ মার্চ মেহেরপুর জেলার আমদহ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচন ঘিরে সমগ্র ইউনিয়নে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। আছে চাপা উত্তেজনাও। এবার চেয়ারম্যান পদে তিনজন, মেম্বার পদে ৪৩জন এবং সংরক্ষিত মহিলা মেম্বার পদে ১৬জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সংরক্ষিত মহিলা মেম্বর পদপ্রার্থীরা নিরবে তাদের প্রচারণা চলিয়ে গেলেও, সরব মেম্বার ও চেয়ারম্যান প্রার্থীরা।
নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন আমদহ আওয়ামী লীগের সভাপতি রওশন আলী টোকন (নৌকা প্রতীক), জাতীয় পার্টি থেকে নজরুল ইসলাম (লাঙ্গল প্রতীক) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন বর্তমান চেয়ারম্যান আনারুল ইসলাম (আনারস প্রতীক) নিয়ে। তবে চেয়ারম্যান পদে তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও সর্বত্রই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন দুই হেভিওয়েট প্রার্থী আওয়ামী লীগের রওশন আলী টোকন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান আনারুল ইসলাম। আছে চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ।
ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের অসন্তোষ ও অভিযোগ যে-জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা বিভিন্ন মঞ্চ সমাবেশে অংশগ্রহণ করলেও মাঠ পর্যায়ের নির্বাচনী প্রচারণাতে শুধুমাত্র জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সেক্রেটারী মিয়াজান আলী ও তার পরিবারের সদস্যরাই সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন। অন্যদের দেখা যাচ্ছে না কেন ? মেহেরপুর সদর উপজেলা নির্বাচন অফিস সুত্রে জানা গেছে আমদহ ইউনিয়নে এবার মোট ২৫ হাজার ৪০ জন ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।
সরেজমিন আমদহ ইউনিয়নের আমদহ, আশরাফপুর, নতুনগ্রাম, ইসলামপুর, টেংরামারী, সাহেবপুর, বামনপাড়া, রায়পুর ও খন্দকার পাড়ার বিভিন্নস্থানে ঘুরে দেখা গেছে-সব জায়গাতেই শুধু ভোটের বিশ্লেষণ। চা দোকানী চা তৈরি করতে করতে ভোটের আলাপ করছেন। চা পানকারীও চায়ের কাপে চুমুক দিচ্ছেন আর নিজের মত করে কে কত ভোট পাবে তার বিশ্লেষণ করছেন। এভাবেই উৎসবমুখর পরিবেশে চলছে আমদহ ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডে ভোটারদের চুলচেরা বিশ্লেষণ।
সরেজমিনে ভোটার ও গ্রামবাসীদের সাথে কথা বলে জানা গেল- নিজ নিজ গ্রামে রওশন আলী টোকন ও আনারুল ইসলাম অপ্রতিদ্বন্দ্বি। বাকি ওয়ার্ডগুলির কোথাও নৌকা কোথাও বা আনারস প্রতীক এগিয়ে রয়েছে। তবে দীর্ঘ ১৪বছর পর আমদহ ইউনিয়নে ভোট হচ্ছে তাই দলমত নির্বিশেষে ইউনিয়নবাসী সকলেই চায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নিজ নিজ ভোটাধিকার প্রয়োগ করে পছন্দের জনপ্রতিনিধিকে নির্বাচিত করতে।
আওয়ামী লীগের প্রার্থী রওশন আলী টোকন বলেন, 'নেত্রী আমাকে নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন দিয়েছেন, দলের সকল নেতাকর্মী আমার সাথে আছে, সুষ্ঠ ভোট হলে আমি বিপুলভাবে বিজয়ী হবো।' তবে তিনি অভিযোগ করেন বর্তমান চেয়ারম্যান বহিরাগতের নির্বাচনী প্রচারণায় নিয়ে এনে এলাকায় ভীতির পরিবেশ তৈরি করেছেন। আমি নিরাপত্তা চেয়ে থানায় জিডি করেছি। প্রতিদ্বন্দ্বি আনারস প্রার্থী ও তার ক্যাডাররা আমাকে প্রাণনাশের হুমকী দিয়েছে, আচরণবিধি লঙ্ঘন করছে উল্লেখ করে লিখিত অভিযোগ করেছি। কিন্তু কোন প্রতিকার পাচ্ছি না।
স্বতন্ত্র প্রার্থী আনারুল ইসলাম (আনারস) বলেন, প্রশাসন ও পুলিশ তার নির্বাচনী প্রচারণায় কোন বাধা দিচ্ছে না। তবে অভিযোগ করেন নৌকা প্রতীকের কর্মী-সমর্থকরা তার (আনারস) প্রচারণা কর্মীদের বিভিন্ন সময় ভয়-ভীতি প্রদর্শন করছে। পোস্টার লাগাতে দেয়া হচ্ছে না। তিনি তার আমদহ নির্বাচনী অফিসে গেলে সার্বক্ষণিক নৌকা প্রতীকের কর্মী-সমর্থকরা তার অফিসের সামনে এসে জটলা করছে। ফলে তার নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যাঘাত ঘটছে। আনারুল ইসলাম দাবী করেন- আমদহ ইউনিয়নের অধিকাংশ মানুষ তাকে পছন্দ করে এবং সুষ্ঠু পরিবেশে নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে তিনি বিপুল ভোটের ব্যাবধানে জয়লাভ করবেন।
সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা দোলন কান্তি চক্রবর্তী বলেন, ' ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) এ ইউনিয়নের দশটি সেন্টারে ভোটগ্রহণ করা হবে। শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণের জন্য সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। ছোটখাটো দুই-একটি অভিযোগ ছাড়া এখন পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচনী প্রচারণা চলছে। তবে আচরনবিধী লংঘনের প্রমাণ পেলে তাৎক্ষনিক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।







