প্রধানমন্ত্রী রাঙ্গামাটির মেয়ে রূপনা চাকমার বাড়ী নির্মাণ করে দিচ্ছেন
টপ নিউজ জাতীয় খেলাধুলা

প্রধানমন্ত্রী রাঙ্গামাটির মেয়ে রূপনা চাকমার বাড়ী নির্মাণ করে দিচ্ছেন

রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি : 

পার্বত্য অঞ্চল রাঙ্গামাটির দুর্গম অজো পাড়া গা থেকে উঠে আসা সাফ গেমসের সেরা গোল রক্ষক রূপ না চাকমা গ্রামরে বাড়ী খুবই নাজুক। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার এই করুণ অবস্থা দেশে প্রধানমন্ত্রী তার বাড়ী করে দিচ্ছেন। এই খবর শুনে সকলেই আনন্দিত। আজ তার বাড়ীতে গ্রামবাসীর উদ্যোগে চলছে মিষ্টি বিতরণ। রূপনা চাকমার বাড়িতে আজ মানুষজন নিজ উদ্যোগে মিষ্টি কিনে নিয়ে গিয়ে একে অপরকে মিষ্টি খাইয়ে আনন্দ উৎসব করছেন। তাদের মেয়ে দেশের সন্মান বয়ে এনেছেন এতে সবার দৃষ্টি এখন রূপনা চাকমার দিকে।


সাফ গেমসের সেরা গোল রক্ষক রূপ না চাকমা। তার বাড়ির রাঙ্গামাটির দুর্গম এলাকা নানিয়ারচর উপজেলার ঘিলাছড়ির ভুই আদমে। দেশের নারী ফুটবল জগতকে নাড়িয়ে দেয়া সেরা মেয়েটির জন্ম দুর্গম পাহাড়ি জনপদে। শত কষ্ট ও দারিদ্রতা সাথে বেড়ে উঠা মেয়ে আজ দেশের গর্ব। টিনের ঘর ছাউনি ও ভাঙ্গা বেড়ার ঘরে বসবাস তার দুখীনি মা ও ভাইয়ের। ভাঙ্গাচোড়া ঘরের বেড়ায় শোভা পাচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পুরস্কার নেয়ার ছবি সহ বিভিন্ন পুরস্কারের ছবি। বাড়ী পেয়ে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তার রূপনা চাকমার মা ও বড় ভাই। রূপনা চাকমার মা কালোসোনা চাকমা জানান- মেয়ের সুনাম এবং মানুষের ভালোবাসায় আমরা সবার মতই খুশি। মেয়ে অনেক কষ্ট করে এবং পরিবারের অভাবকে জয় করে দেশের জন্য এই অর্জন ছিনিয়ে এনেছে। তার বড় ভাই সুমন বলেন- বোন অনেক কষ্ট করেছে। মেয়ে হয়ে খেলাধুলা করতো বলে অনেকে অনেক কথা বলেছে। কিন্তু নিন্দুকদের কোন কথায় কান না দিয়ে ফুটবলকে মনপ্রাণ দিয়ে বেছে নিয়েছে। তাই বোন আজ সবার কাছে প্রিয় হয়েছে। এর চেয়ে বড় আনন্দ আমাদের আর কি হতে পারে।

রূপার গ্রামের বাড়িতে যাতায়াতের কোন রাস্তা নেই। পাহাড় ও মেঠোপথ বেয়ে যেতে পাহাড়ি ছড়া ও বাঁশের শাঁখো বেয়ে যেতে হয় তার বাড়ীতে। গ্রামবাসী রূপনাকে ঘর তৈরী করে দেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী জানিয়ে এলাকায় রাস্তা ও পানীয় জলের ব্যবস্থা করার আহবান জানান। রূপনার জীবনমান আরও অনেক বিত্তবান এবং ক্রীড়াপ্রেমী মানুষ এগিয়ে আসছে বলে জানান এলাকাবাসী।


গ্রামবাসীরা জানান- রুপনার গ্রাম এবং তাদের বসবাসের বাড়ি দেখতে প্রতিদিন শত শত মানুষজন আসছেন। কিন্তু সকলেই রুপনার বাড়ির করুণদশার মত সড়কের বেহাল দশা দেখে হতবাক হচ্ছেন। এবার রুপনার কারণে গ্রামের সড়ক উন্নত হবে বলে স্বপ্ন দেখছেন তারা। গ্রামবাসীরা বলেন- প্রধানমন্ত্রী এবার যদি গ্রামটির দিকে দৃষ্টি দেন। কারণ রূপনা চাকমা দেশের গর্ব। তার গ্রামের বাড়ী গিয়ে তার ঘরের অবস্থা সড়কের অবস্থা সবাই দেখছে। রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন- প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন রূপনার ঘর করে দেয়ার জন্য। আমরা তার গ্রামে গিয়ে বাড়ি দেখে এসেছি। যত দ্রুত সম্ভব তার বাড়ি নির্মানে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। রূপনার দেখে পাহাড়ের মেয়েদের খেলাধুলার মান উন্নয়নে সরকার আরো বেশী উদ্যোগ নিতে এবং পার্বত্য অঞ্চলের ক্রীড়াবিদের জন্য একটি একাডেমী করার ও দাবী জানান স্থানীয়রা।