মেহেরপুরে শিক্ষক দিবসে শিক্ষাবিদ রফিকুল, মালেক, শফিউল যা বললেন.......
টপ নিউজ জাতীয় মেহেরপুর

মেহেরপুরে শিক্ষক দিবসে শিক্ষাবিদ রফিকুল, মালেক, শফিউল যা বললেন.......

সবার সংবাদ ডেস্ক :

মেহেরপুরে স্কুল এবং কলেজ শিক্ষকদের নিয়ে আজ শিক্ষা দিবস-২২ এর আলোচনা অনুষ্টানে মেহেরপুর সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ শফিউল ইসলাম সরদার বলেন- মা বাবা সন্তান জন্ম দেন ঠিকই। কিন্তু সেই সন্তানকে মানুষ করেন শিক্ষকরা। পরে সেই সন্তান শিক্ষিত হয়ে সমাজকে রাষ্ট্রকে এগিয়ে নেয়। অথচ- আজ শিক্ষকরা নানাভাবে বৈষম্যের শিকার। আর এ কারণেই শুধুমাত্র আয়ের কথা চিন্তা করে আজ মেধাবীরা সবাই ডাক্তার, ইঞ্জিয়ার হতে চায় কিন্তু কেউ শিক্ষক হতে চাই না। শিক্ষকরা আজ নিপীড়িত অবহেলিত। জেলা পর্যায়ের মিটিংয়ে শিক্ষকরা যথাযথ সম্মান পায় না। সরকার আমাদের কাছ থেকে অনেক কিছু পেতে চাই, আমরা দিতেও চাই। কিন্তু মনে রাখতে হবে পেটে খেলে পিঠে সই।

অনুষ্টানে মেহেরপুর সরকারী মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম বলেন- আমি শিক্ষকদের মানুষ গড়ার কারিগর বলি না। শিক্ষকরা শিল্পী। তাই আমার কাছে মনে হয় শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড না। আসলে শিক্ষা নয় শিক্ষকরাই জাতির মেরুদন্ড। কারণ শিক্ষকরাই জাতি সমাজে শিক্ষার বিস্তার ঘটায়। আজ সমাজে পেশীশক্তি, ক্ষমতার দ্বন্দ্বের কারণে অনেক সময় শিক্ষকদের শিরদাঁড়া নত করতে হয়েছে। কেননা- আমরা কখনো প্রশ্নপত্র ফাঁসের সাথে কখনো গুম খুনের সাথে কখনো সাটিফিকেট জালের মত ঘটনার সাথে জড়িয়েছি। আজ শিক্ষকদের সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। প্রকৃত গুণাবলীর অধিকারী হয়ে শিক্ষকদের প্রকৃত শিক্ষক হতে হবে। মনে রাখতে হবে শিক্ষক জন্মায় না। শিক্ষক হতে হয়। জ্ঞানী হলেই শিক্ষক হওয়া যায় না।

মেহেরপুর সরকারী কলেজের সাবেক উপধাক্ষ্য হাসানুজ্জামান মালেক বলেন- বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন শিক্ষাখাতে পুঁজি বিনিয়োগের চাইতে উৎকৃষ্ট বিনিয়োগ আর কিছু হতে পারে না। ২৩ বছরের পাকিস্তানী শাসনে কোন শিক্ষানীতি ছিল না। স্বাধীনতার পর  বঙ্গবন্ধুই প্রথম জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়ন করেন। পেটে খেলে পিঠে সই। শিক্ষকদের নায্যতা এখনও পূরণ হয়নি। তাই মেধাবীরা শিক্ষকতাই আসছে না। তাহলে কোয়ালিটি শিক্ষা বৃদ্ধি হবে কিভাবে? অথচ- চীনের ৮১ ভাগ শিক্ষার্থী মনে করে শিক্ষকরাই সেদেশের সবচেয়ে বড় সম্মানী শ্রেণী। লন্ডনের একটি স্কুলের শিক্ষকের বেতন ১লক্ষ ৯০ হাজার ৮৯৮ পাউন্ড। যা বৃট্রিশ প্রধানমন্ত্রীর চাইতেও বেশি। এ সময় তিনি দেশের শিক্ষা এবং শিক্ষকদের দুরাবস্থার কথা তুলে ধরেন। এই সমাজ এই রাষ্ট্র শিক্ষদের কি দিয়েছে ? আজ এত শিক্ষকদের নিয়ে শিক্ষাদিবস হচ্ছে কিন্তু বরাদ্দ নেই। অথচ-তিনদিন আগে একটি অনুষ্টানে ছিলাম সেখানে এর অর্ধেক লোক ছিল। বরাদ্দ ছিল কয়েক লক্ষ টাকা। শিক্ষা, সংস্কৃতি, সাহিত্য সম্মেলন হবে, শিক্ষকদের বাদ দিয়ে হবে। লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যায় হবে। সেটা আমলাদের হাতে পড়বে। এই কি রাষ্ট্রের করা উচিৎ? পরে তিনি শিক্ষকদের দাবী দাওয়া নিয়ে কথা বলার আগে শিক্ষকদের দায়িত্ব সম্মান সম্পর্কে আরও বেশি সচেতন হতে হবে উল্লেখ করে বক্তব্য দেন। বলেন- আগে শিক্ষকদের দেখলে ছাত্ররা সালাম দিত। এখন হায় স্যার বলে। এখান থেকে বেরিয়ে আসতে হবে আমাদের।

মেহেরপুর সরকারি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল আমিন ধুমকেতু এবং বিএম প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা আতিয়া রহমানের সঞ্চালনায় এই আলোচনা অনুষ্টান অনুষ্টিত হয়। এর আগে “শিক্ষকদের হাত ধরেই শিক্ষা ব্যবস্থার রূপান্তর শুরু” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে মেহেরপুরে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। বৃহস্পতিবার সকালে মেহেরপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ শফিউল ইসলাম সরদার এর নেতৃত্বে বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষকবৃন্দ এই শোভাযাত্রায় অংশ নেন। শোভাযাত্রাটি শহরের শহীদ শামসুজ্জোহা পার্ক থেকে বের হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে মেহেরপুর সরকারী কলেজ চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। শোভাযাত্রায় এবং আলোচনায় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা শিক্ষা অফিসার মাহফুজ হোসেন, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ভুপেন রঞ্জন রায়, শিক্ষক নেতা জাহিদুল ইসলাম সহ জেলায় কর্মরত বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ।  এবারই প্রথম শিক্ষক দিবস অনুষ্টিত হলো অনেক আয়োজন করে। অনুষ্টানে শিক্ষকদের বেতন স্কেল বৃদ্ধি, মর্যাদা বৃদ্ধি এবং চাকুরী সরকারী করণের দাবী জানানো হয়। মেহেরপুর সরকারী কলেজের অধ্যক্ষের নেতৃত্বে এবং সভাপতিত্বে অনুষ্টিত হয়েছে শিক্ষক দিবসের পুরো আয়োজন।