মেহেরপুরে গৃহবধূ টগর হত্যার ঘটনায় তিন কিশোর আটক
টপ নিউজ আইন-আদালত মেহেরপুর

মেহেরপুরে গৃহবধূ টগর হত্যার ঘটনায় তিন কিশোর আটক

সবার সংবাদ প্রতিবেদক:

মেহেরপুর শহরে চাঞ্চল্যকর গৃহবধূ টগর খাতুন হত্যার ঘটনায় সরাসরি জড়িত তিন কিশোরকে আটক করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় হত্যার ব্যবহৃত বস্তা, রশি ও নিহত টগর খাতুনের গহনা ও গহনা বিক্রির টাকা উদ্ধার করে পুলিশ। হত্যার সাথে জড়িত আটকৃতরা হলেন শহরের কাশ্যবপাড়ার আনারুলের ছেলে নাসিম হায়দার শীতল (১৭) একই এলাকার রসুল ঘরামির ছেলে নাজমুল হাসান তানভীর (১৭ )  ও সদর উপজেলার সুবিদপুর গ্রামের জহিরুল ইসলামের ছেলে আসিব হোসেন ওমর (১৫)।

পুলিশ বলছে হত্যাকারী শীতলের কাছে পাওনা ৩০ হাজার টাকা চাইলে শীতল টাকা ফেরত না দিয়ে প্রতিবেশী ভাবী টগর খাতুনকে নিজ বাসায় ডেকে এনে হত্যা করে লাশ গুম করে। গত ৬ জানুয়ারি বিকালে ক্যাশব পাড়ার পরিত্যক্ত একটি জমি থেকে টগর খাতুন নামের এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত টগর খাতুন গত ৩০ ডিসেম্বর বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। পরে সদর থানায় একটি সাধারন ডাইরি করেন তার পরিবার। 

মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত হুমায়ুন কবির হত্যার ঘটনায় তিনজনকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গত ৩০ ডিসেম্বর রাতে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী শীতল তার বন্ধু অমরকে দিয়ে প্রতিবেশী ভাবি টগর খাতুনকে  নিজ বাসায় ডেকে নিয়ে আসেন। এসময় আগে থেকেই আরেক বন্ধু তানভীর শীতলের বাসভবনে অবস্থান করে।

টগর বাসায় প্রবেশ করলে শীতল ও তানভীর একটি রশি দিয়ে টগর খাতুনের গলায় ফাঁস লাগিয়ে হত্যা করে। পরে লাশ গুম করার জন্য প্লাস্টিকের বস্তায় নিহত টগরকে ভরে বাসার ছাদে নিয়ে গিয়ে পাশের পরিত্যক্ত জমিতে ছাদ থেকে ফেলে দেয়। হত্যার পর শীতল ও তানভীর নিহত টগর খাতুনের শরীরে থাকা গহনা খুলে শহরের স্বর্ণপট্টির একটা দোকানে দেড় লক্ষ টাকায় বিক্রি করে।

ঘটনার দিন বিকেলে স্থানীয়রা একটি লাশ পড়ে থাকে দেখে পুলিশকে খবর দিলে সদর থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে মর্গে প্রেরণ করে। ঘটনার পর নিহত টগর খাতুনের স্বামী সেন্টু হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাত নামা কয়েকজন কে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তভার গ্রহণ করেন থানার ওসি হুমায়ুন কবীর।

পুলিশের একাধিক টিম তদন্ত শুরু করেন এবং তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় বৃহস্পতিবার রাতে শীতল,  তানভীর ও ওমরকে আটক করে কয়েক দফা জিজ্ঞাসাবাদ করলে হত্যার কথা স্বীকার করেন। পরে পুলিশ আটক আসামিদের নিয়ে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে স্বর্ণালংকার, লাশ গুমের বস্তা, রশি ও স্বর্ণলঙ্কার বিক্রি নগদ টাকা উদ্ধার করেন। আজ শুক্রবার বিকাল চারটার দিকে আটক আসামিদের মেহেরপুর চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী নিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছেন বলে ওসি নিশ্চিত করেন।