মেহেরপুরে বর্ণাঢ্য আয়োজনে জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস পালিত
টপ নিউজ মেহেরপুর

মেহেরপুরে বর্ণাঢ্য আয়োজনে জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস পালিত

সবার সংবাদ ডেস্ক:

জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবসের আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে মেহেরপুরের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ ও মেহেরপুর জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান মোঃ শহীদুল্লাহ রোমান আমলের প্রথা উল্লেখ করে বলেছেন-সেই সময়েই প্রত্যেক মানুষের প্রতি ন্যায় বিচারের কথা বলা রয়েছে। আমরা কারো রাইটস, কারো অধিকারকে, কারো বিচার প্রার্থনাকে অবহেলা করতে পারি না। প্রতিটি মানুষের বিচার প্রার্থনাকে নিশ্চিত করতে সরকার আইন সহায়তা দিয়ে যাচ্ছেন। মানুষের সুবিচারকে নিশ্চিত করতে আমরা প্রতি মাসে লিগ্যাল এইড এর মিটিং করে সেগুলোর মূল্যায়ন করা হয়। বিচারিক কাজকে ত্বরান্বিত করতে আমরা প্রতিটি কমিটিকে আরও সক্রিয় করতে চায়। লিগ্যাল এইড প্যানেলে আরও আইনজীবিদের যুক্ত করতে চায়। সকলের সম্মিলিত সাড়া পেলে এই জেলায় ন্যায় বিচার প্রতিষ্টা এবং লিগ্যাল এইড কার্যক্রম শতভাগ সফল করা হবে। তবেই বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণ হবে।

বর্ণাঢ্য আয়োজনে মেহেরপুরে জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস-২০২৩ পালিত হয়েছে। “বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলায় শেখ হাসিনার অবদান, বিনামূল্যে লিগ্যাল এইডডে আইনি সেবাদান” এই প্রতিপাদ্য নিয়ে মেহেরপুরে জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গনে বর্ণাঢ্য র‌্যালী ও আলোচনা সভার মধ্যে দিয়ে দিবসটি পালিত হয়। দিনটি উপলক্ষ্যে শুক্রবার সকালে শান্তির প্রতীক পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে দিবসের শুভ সূচনা করা হয়।

শুক্রবার (২৮ এপ্রিল) সকালে জেলা ও দায়রা জজ শহীদুল্লাহ নেতৃত্বে জজ আদালত চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালী বের করা হয়। র‌্যালীটি শহর প্রদক্ষিণ শেষে জেলা শিল্পকলা একাডেমী মোড় সহ শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষ করে কোর্ট চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে, অনুষ্ঠিত হয় দিনটির উপর আলোচনা সভা।

সভায় মেহেরপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আজিজুল ইসলাম বলেন- শুধু আইনেই নয় প্রতিটি ধর্মেই ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার উপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। তাই ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠায় বিচার কাজে সংশ্লিষ্ট প্রতিটি স্তরকে সততার সাথে এবং বিচক্ষণতার সাথে কাজ করতে হবে। অনেকেই অর্থাভাবে আইনের স্বরণাপন্ন হতে পারেন না। এই কারণে সরকার আইন সহায়তা কেন্দ্র চালু করে সবার জন্য আইন এই উদ্দেশ্যকে সফল করেছেন। এতে ন্যায় বিচারের জন্য মানুষের আগ্রহ বেড়েছে। লক্ষ্য রাখতে হবে বিচারপ্রার্থী মানুষ যেন বিচারিক সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হয়। তিনি উপস্থিত সকলের উদ্দেশ্যে বলেন- আইন যেমন সবার হক। তেমনি সন্তানের প্রতি মা বাবার হক রয়েছে। আমি প্রতি মাসে বেতনের একটি অংশ মা বাবার হক হিসাবে প্রদান করে থাকি। আপনারাও এই কাজটি করবেন। এতে পারিবারিক ও সামাজিক সম্প্রতি এবং মর্যাদা প্রতিষ্টিত হবে।

আলোচনায় চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবু বকর সিদ্দিক বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষিত স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মানে লিগ্যাল এইড অনন্যা ভূমিকা রাখছে। বাংলাদেশের যে কোন মানুষ ১৬৪৩০ নং টোল ফ্রি নাম্বারে কল করে বা সরাসরি লিগ্যাল এইড অফিসে এসে আইনগত সহায়তা নিতে পারেন। বাংলাদেশের প্রান্তিক ও গ্রামীণ জনপদের দরিদ্র ও হতদরিদ্র জনগন যাতে মামলা পরিচালনার ব্যায় ভার মেটাতে না পেরে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত না হয় সেই লক্ষে শেখ হাসিনা ২০০০ সালে জেলা পর্যায়ে লিগ্যাল এইড বা আইনগত সহায়তা কেন্দ্র চালু করেন। পরবর্তীতে ২০১১ সালে আইন সংশোধন করে উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে আইনগত সহায়তা কেন্দ্রের সেবা বিস্তৃত করা হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে প্রচারণার অভাবে এই কার্যক্রম ততোটা গতি না পেলেও বর্তমানে অনেক মানুষ লিগ্যাল এইড থেকে আইনি সহায়তা পেয়ে উপকৃত হচ্ছেন। এতে আদালতে মামলার চাপও অনেকটা কমেছে বলেন তিনি। র‌্যালি এবং আলোচনা সভায় উপস্থিত থেকে জেলা লিগ্যাল এইডের কার্যক্রম তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন বক্তারা।

মেহেরপুরের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ এবং মেহেরপুর জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান মোঃ শহীদুল্লাহর সভাপতিত্বে এবং সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এসএম শরিয়ত উল্লাহ এঁর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন-মেহেরপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আজিজুল ইসলাম, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোঃ তোহিদুল ইসলাম, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আবু বক্কর সিদ্দিক, জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার সেলিম রেজা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল) আজমল হোসেন, সরকারী আইন কর্মকর্তা (পিপি) পল্লব ভট্টাচার্য, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম, পৌর মেয়র মোঃ মাহফুজুর রহমান রিটন, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট ইয়ারুল ইসলাম, গাংনী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ খালেক, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি কামরুল হাসান, সাধারণ সম্পাদক খম ইমতিয়াজ হারুন বিন জুয়েল, সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ অলোক কুমার দাস, এ্যাড. সাথী বোস, সরকারী কোশলী এ্যাড. গোলাম মোস্তফা সহ বিনামূল্যে সরকারী আইনী সেবা গ্রহিতা পারুল খাতুন ও উজ্জল হোসেন। আলোচনা সভায় বিচারাঙ্গনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও জেলার আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।