মধ্য আকাশে সংঘর্ষে দুটি ভারতীয় সামরিক বিমান বিধ্বস্ত
আন্তর্জাতিক

মধ্য আকাশে সংঘর্ষে দুটি ভারতীয় সামরিক বিমান বিধ্বস্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দক্ষিণে অনুশীলনের সময় মধ্য আকাশে সংঘর্ষে দেশটির বিমান বাহিনীর দুটি ফাইটার জেট বিধ্বস্ত হয়েছে। দুটি বিমানই শনিবার সকালে গোয়ালিয়র বিমানঘাঁটি থেকে উড়ানো হয়েছিল। বিমান কর্মকর্তা ধর্মেন্দর গৌর বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছেন, ‘আমরা একটি বিমানের ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পেয়েছি এবং পাহাড়গড়ের জঙ্গলে একজন আহত পাইলটকে পেয়েছি। অন্য বিমানটি সম্ভবত ঘটনাস্থল থেকে আরও দূরে পড়ে গেছে। আমরা এটি শনাক্ত করতে দল পাঠিয়েছি।

এদিকে স্থানীয় প্রশাসক অঙ্কিত আস্থানা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, একটি জেট থেকে তিনজন ক্রু সদস্যের মধ্যে দুজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তৃতীয় ক্রু সদস্যের অবস্থা তাৎক্ষণিকভাবে পরিষ্কার ছিল না এবং দ্বিতীয় বিমানের ক্রু সম্পর্কে কোনো বিবরণ প্রকাশ করা হয়নি।

বার্তা সংস্থা এএনআই টুইটারে জানিয়েছে, ভারতের মধ্যপ্রদেশ রাজ্যে যে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে সেটি ছিল সুখোই-৩০ এবং মিরাজ-২০০০। শনিবার ভারতের সামরিক বিমান বহরে জড়িত বিমান দুর্ঘটনার এটা সর্বশেষ ঘটনা। এর আগে গত অক্টোবরে চীনের সঙ্গে দেশটির সামরিকীকরণ এবং বিতর্কিত সীমান্তের কাছে অরুণাচল প্রদেশ রাজ্যে তাদের হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে পাঁচ সেনা নিহত হয়। মধ্যপ্রদেশের মোরেনাতে শনিবার ভোর সাড়ে ৫টা নাগাদ এই জোড়া দুর্ঘটনা ঘটে। গোয়ালিয়রে বায়ুসেনার ঘাঁটি থেকে আকাশে উড়েছিল বিমান দু’টি। তাদের প্রশিক্ষণ চলছিল।

আকাশে সংঘর্ষের পর দু’টি বিমানই ভেঙে পড়ে। বিমানের চালকেরা দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন। মৃত্যু হয়েছে এক চালকের। সকাল থেকেই চলছে উদ্ধারকাজ। বিমান দু’টি একে অপরের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে ভেঙে পড়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। দুর্ঘটনায় হতাহতের সংখ্যাও জানা যায়নি। আহত বিমানচালকেরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এইনিয়ে একদিনে দুর্ঘটনার কবলে বায়ুসেনার তিনটি বিমান। রাজস্থানের ভরতপুরে বায়ুসেনার বিমান ভেঙে পড়েছে। পাশাপাশি, মধ্যপ্রদেশের মোরেনাতে দুর্ঘটনার কবলে দুই যুদ্ধবিমান, সুখোই ৩০ এবং মিরাজ ২০০০।

শনিবারই রাজস্থান সফরে যাওয়ার কথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর। তার আগে বায়ুসেনার বিমানে দুর্ঘটনা উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ভরতপুরের নাগলা দিদা এলাকায় একটি চার্টার্ড বিমান ভেঙে পড়ে শনিবার সকালে। স্থানীয় প্রশাসনের তরফে উদ্ধারকাজ শুরু করা হয়েছে। প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেই এই দুর্ঘটনা। স্থানীয় সূত্রে দাবি, দুর্ঘটনাস্থলে বিমানচালকের খোঁজ মেলেনি। তাঁর সন্ধানে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। জোরকদমে চলছে উদ্ধারকাজ। বিমানে কত জন ছিলেন, তা-ও স্পষ্ট নয়।