ভারতে হাসপাতালের আগুনে ১০ নবজাতকের মৃত্যু
আন্তর্জাতিক

ভারতে হাসপাতালের আগুনে ১০ নবজাতকের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ভারতের উত্তরাঞ্চলে একটি হাসপাতালে শিশু ওয়ার্ডে আগুন লেগে অন্তত ১০ নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১৬ নভেম্বর) রাতে মহারানী লক্ষ্মী বাই মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এই ঘটনা ঘটেছে। আগুন ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে বিশৃঙ্খলা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এএনআই এর বরাতে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এই খবর জানিয়েছে।

ওয়ার্ডে থাকা শিশুদের আত্মীয়রা স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে শিশুদের বাবা-মায়েরা ওয়ার্ডে প্রবেশের জন্য জানালা ভেঙ্গে বাচ্চাদের উদ্ধারের চেষ্টা করেন। একজন শোকার্ত দাদি বার্তা সংস্থা এএনআই -কে বলেছেন, ‘নার্সরা মানুষদের ধাক্কা দিয়ে বের করে দিচ্ছিলেন। তবে যারা ভেতরে প্রবেশ করতে পেরেছিলেন তারা যে শিশুকেই সামনে পেয়েছে উদ্ধার করে নিয়ে এসেছেন।’

উত্তরপ্রদেশ রাজ্যের ঝাঁসি জেলার হাসপাতালের কর্মীরা ৪৪ শিশুকে উদ্ধার করেছে। তবে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অন্তত ১৬ শিশুর অবস্থা গুরুতর। এদিকে, নিহত ১০ শিশুর মধ্যে তিনজনের পরিচয় এখনও শনাক্ত করা যায়নি। কয়েক শিশুর পরিবার তাদের সন্তানের সন্ধান করে চলেছেন।

একজন নতুন মা সন্তোষী এখনও তার ১০ দিন বয়সী শিশুটিকে খুঁজছেন। তিনি বার্তা সংস্থা এএনআইকে বলেছেন, বলেছেন, ‘যখন আগুন লেগেছিল আমি আমার বাচ্চাকে উদ্ধার করতে ভিতরে যেতে পারিনি। আমি কীভাবে যাবব? যখন কেউ ভিতরে ঢুকতে পারল না, তখন কেউ কীভাবে আমার সন্তানকে আমার হাতে তুলে দেবে?’

মহারানী লক্ষ্মী বাই মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শুক্রবার রাতে আগুনের জন্য বৈদ্যুতিক ত্রুটিকে দায়ী করা হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া ছবিতে হাসপাতালের বাইরে ক্ষুব্ধ অভিভাবকদের দেখা যাচ্ছে।

ভারতীয় মিডিয়া জানিয়েছে, স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১০টার দিকে শিশু ওয়ার্ডের নিবিড় পরিচর্যা ইউনিটে প্রথম আগুন ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের ধারণা, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট বা ওয়ার্ডে অক্সিজেনের মাত্রা বাড়াতে ব্যবহৃত মেশিনে অন্য কোনও ত্রুটির কারণে আগুন লেগেছে।

একটি অনলাইন বার্তায় এই ঘটনাকে ‘হৃদয়বিদারক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি লিখেছেন, ‘এ ঘটনায় যারা নিষ্পাপ সন্তানদের হারিয়েছেন তাদের প্রতি আমার গভীর সমবেদনা। আমি ভগবানের কাছে প্রার্থনা করি, তাদের যেন এই বিশাল ক্ষতি সইবার শক্তি দেন।’

উত্তরপ্রদেশ রাজ্য সরকারের কর্মকর্তারা নিহতদের পরিবারের জন্য ৫ লাখ রুপি ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছে৷