কুষ্টিয়া প্রতিনিধি:
সততা ও মনুষ্যত্বের অনন্য দৃষ্টান্ত দেখালেন কুষ্টিয়ার অবসরপ্রাপ্ত সহকারী পুলিশ সুপার (হেডর্কোয়ার্টার) মো: শহীদুল্লাহ। ভুলবশত তার মোবাইলের নগদ একাউন্টে ২৫ হাজার টাকা চলে এসেছিলো। সেই টাকা প্রকৃত প্রাপকের কাছে বুঝিয়ে দিয়েছেন তিনি। এই সততায় প্রশংসায় ভাসছেন মো: শহীদুল্লাহ। তাকে নিয়ে গর্ববোধ করছেন তার পরিবার পরিজনসহ শুভাকাঙ্খীরা।
মো: শহীদুল্লাহ বলেন, ভুল করে ০১৬১৩৫২৪৫৫২ থেকে আমার নগদ অ্যাকাউন্ট নাম্বার ০১৭৪০২২৫৫৮৮ এ নগদ ২৫ হাজার টাকা চলে আসে। টাকাটা আব্দুল হক (ক্ষুদ্র কাপড় ব্যবসায়ী) পিতা-মোহাম্মদ ফরিদ আহমেদ, সাং গাজীপুর বোর্ড বাজার গাজীপুর নগদ এজেন্ট ইয়াসমিন আক্তারকে তার আত্মীয় এর নাম্বার ০১৭৪৭ ২২৫৫৮৮ এ দেওয়ার নগদ পঁচিশ হাজার টাকা বুঝিয়ে দেন। ইয়াসমিন আক্তার টাকা পাঠাতে গিয়ে ০১৭৪৭ ২২৫৫৮৮ এর জায়গায় ভুল করে ০১৭৪০ ২২৫৫৮৮ টিপে ফেলেন, ফলে ওই ২৫ হাজার টাকা আমার নগদ নাম্বারে চলে আসে। আমি হঠাৎ টাকা আসাতে বিস্মিত হই কে আবার টাকা পাঠালো? তখন টাকা পাঠানো নাম্বারে যোগাযোগ করে আসল ঘটনা জানতে পারি। পরে আমি আমার কাছে আসা ওই ২৫ হাজার টাকা প্রকৃত প্রাপক এর নাম্বার ০১৬১৩ ৫২ ৪৫৫৫২ তে ফেরত পাঠিয়ে দেই৷ এতগুলো টাকা আমার কাছ থেকে এভাবে তারা ফেরত পাবেন ভাবতে পারেননি। বর্তমানে যেখানে মানুষ প্রতারণা করে বিকাশ /নগদ এর টাকা হাতিয়ে নেয় সেখানে আমি নিজে তাদের খোঁজ করে টাকা ফেরত দেব তা তারা ভাবতে গিয়ে আশ্চর্যান্বিত হয়েছেন। টাকা ফেরত পেয়ে তারা বলেন পৃথিবীতে এখনো কিছু ভালো মানুষ আছে তাই আজও পৃথিবী এত সুন্দর। তারা আমাকে দুহাত ভরে দোয়া করবেন বলে জানিয়েছেন।
তিনি জানান, ‘আমি চাইনি এটা নিয়ে লেখালেখি হোক। টাকা পেয়েছি, যার টাকা তাকে ফেরত দিয়েছি। এটা আমার দায়িত্ব মনে করেছি, তাই করেছি। গতবছর এভাবে নগদ ১৪ হাজার টাকা আমার বিকাশ নাম্বারে এসেছিল, সেটাও আমি প্রকৃত প্রাপককে ফিরিয়ে দিয়েছিলাম।
অবসরপ্রাপ্ত এই পুলিশ কর্মকর্তা জীবন সায়াহ্নে এসে লেখনীর মধ্যে দিয়ে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। অবশ্য তার পরিবার থেকেও বেশ ভালো অনুপ্রেরণা পেয়ে আসছেন। সুলেখক সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তা মো.শহিদুল্লাহ্'র- ৬টি বই পাওয়া যাবে ঢাকা বাংলা বাজারের গ্রন্হকুটির প্রকাশনীতে। তার রচিত বইগুলো হলো এক পুলিশের না বলা গল্প, ডেসপারেট কিলার, ভালোবেসেছি চোখের জলে, আমি পুলিশ ছিলাম, হিয়ার মাঝে লুকিয়ে ছিলে, ওডেসপারেট কিলার।







