পরকীয়া প্রেমিকার অপমানের 'প্রতিশোধ' নিতে ভাইকে কুপিয়ে হত্যা!
টপ নিউজ মেহেরপুর অপরাধ

পরকীয়া প্রেমিকার অপমানের 'প্রতিশোধ' নিতে ভাইকে কুপিয়ে হত্যা!

সবার সংবাদ প্রতিবেদক:

মেহেরপুর শহরের শেখপাড় এলাকায় পরকীয়া প্রেমিকার অপমানের 'প্রতিশোধ' নিতে আপন খালাতো ভাইয়ের হাসুয়ার কোপে গোলাম হোসেন (৪৫) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। নিহত গোলাম হোসেন একই এলাকার রেহেসিনের ছেলে। মঙ্গলবার (৫ মে) বিকেল সাড়ে ৬টার দিকে গোলামের নিজ বাড়িতে এই নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে। ঘাতক কালু সম্পর্কে নিহতের আপন খালাতো ভাই এবং একই এলাকার বাসিন্দা।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সূত্রপাত হয় গত পরশুদিন। গোলাম হোসেন তার ইজিবাইক নিয়ে বাড়ি থেকে বের হবার পথে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বন্যা নামের এক নারীর বাড়ির প্রাচীর ও দরজায় ধাক্কা দিলে তা ক্ষতিগ্রস্থ হয়। বিষয়টি নিয়ে ঝামেলার সৃষ্টি হলে গোলাম হোসেন নিজ খরচে প্রাচীরটি মেরামত করে দেন।

তবে পরদিন গোলাম অটো নিয়ে বের হওয়ার সময় বন্যা তার গেটটিও নতুন করে তৈরি করে দেওয়ার দাবি তুলে পথ আটকান। গোলাম কয়েকদিন সময় চাইলেও বন্যা তাকে যেতে বাঁধা দেন। একপর্যায়ে গোলাম জোর করে বের হতে চাইলে ইজিবাইকের ধাক্কায় বন্যা পড়ে যান।

ঘটনার মোড় ঘোরে তখন, যখন বন্যা বিষয়টি তার কথিত প্রেমিক গোলামের খালাতো ভাই কালুকে জানান। বন্যাকে ধাক্কা দেওয়ার বিষয়টি কালু ব্যক্তিগত অপমান হিসেবে গ্রহণ করেন। যদিও গতকাল সোমবার স্থানীয় ও পারিবারিকভাবে বিষয়টি নিয়ে সালিশ-মীমাংসা করে দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু কালু ও বন্যার স্বামী রাজু তা মেনে নিতে পারেননি।

পরে আজ বিকেলে পূর্বপরিকল্পিতভাবে কালু দেশীয় অস্ত্র হাসুয়া নিয়ে গোলামকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুত্বর জখম নিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়ে গোলাম।

এসময় তার চিৎকার শুনে পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা এগিয়ে এলে কালু পালিয়ে যান। পরে তাকে উদ্ধার করে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক গোলাম হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বন্যার স্বামী রাজু কাজের প্রয়োজনে এলাকার বাইরে থাকার সুযোগে কালু ও বন্যার মধ্যে দীর্ঘদিনের পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি মিমাংসার পরও কালু , বন্যা ও রাজু মিলিত হয়ে এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছে। একজন পরনারীর জন্য আপন খালাতো ভাইকে কুপিয়ে হত্যা করলো আরেক ভাই। 

নিহত গোলামের স্ত্রী আলেয়া খাতুন জানান, বিকেলে বন্যার স্বামী রাজুর সাথে মিলিত হয়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে কালু দেশীয় অস্ত্র হাসুয়া নিয়ে আমার স্বামীর উপর চড়াও হন। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তিনি আমার স্বামীকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুত্বর জখম নিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়ে আমার স্বামী। এসময় তার চিৎকার শুনে আমি ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা এগিয়ে এলে কালু পালিয়ে যান। 

এই ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই কালু ও বন্যা পলাতক রয়েছে।

মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।  হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটন ও অভিযুক্তদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।